ভিডিও বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২৪ পৌষ ১৪৩২

প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:৫২ রাত

কেশর চাষে লাখপতি বগুড়া সারিয়াকান্দির কৃষক

কেশর চাষে লাখপতি বগুড়া সারিয়াকান্দির কৃষক

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়া সারিয়াকান্দিতে কেশর চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা। দাম ভালো পাওয়ায় প্রতি বিঘা জমিতে লাখ টাকার বেশি আয় হচ্ছে। কেশর বীজ বিক্রি করেও লাভবান হচ্ছেন কৃষক।

বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় এ বছর বগুড়া সারিয়াকান্দি উপজেলার কৃষকেরা কেশর চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। গত বছর ভালো লাভ পেয়ে এ বছর তারা অধিক জমিতে কেশর আলু চাষ করেছেন। এটি চাষ করতে সাধারণত খুবই কম খরচ হয় এবং রোপনের পর পরিচর্যাও কম করতে হয়।

সাধারণত দু একটি চাষ দিয়ে জমিতে কেসুর আলুর বীজ বপন করতে হয়। তারপর আর কোনও পরিচর্যা না করলেও চলে। তারপর জমি থেকে কেশর উত্তোলন করতে হয়। এ বছর উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের ছাগলধরা গ্রামসহ বাঙালি নদীর কিনারাযুক্ত জমিগুলোতে কেশর চাষ বেশি হয়েছে। উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের ছাগলধরা গ্রামের কৃষক আজিজার রহমান গত বছর ১ বিঘা জমিতে আগাম কেশর চাষ করে দেড় লাখ টাকার বেশি বিক্রি করেছেন।

এ বছর তিনি তার ২ বিঘা জমিতে কেশর আবাদ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তার জমিতে থোকায় থোকায় কেশর  হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই তিনি কেশর উত্তোলন করে বাজারজাত করতে শুরু করেছেন। প্রথমের দিকে তিনি ভালো দামে কেশর বিক্রি করেছেন। তবে কয়েকদিনের অতিরিক্ত ঠান্ডায় দাম একটু কম পাচ্ছেন। তার মত অনেক কৃষকই কেশর আবাদ করেছেন। কেউ আবার জমিতে বীজ কেশর চাষ করেছেন। কৃষকরা বলছেন গত বছর তারা ৪০ হাজার টাকা মণ দরে কেশর বীজ বিক্রি করেছেন। এতে তারা খুবই লাভবান হয়েছেন।

আরও পড়ুন

কৃষক আজিজার রহমান বলেন, সব ফসলের চেয়ে কেশর আলুতে  লাভ বেশি। প্রতি বিঘা জমিতে ৬০ মণের বেশি কেশর পাওয়া যায়। সাধারণত প্রতি বিঘা জমিতে কেশর চাষ করতে মাত্র ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। কেশর চাষ করতে জমিতে কোনও পরিচর্যা নেই বললেই চলে। এ বছর আমি প্রথমের দিকে সর্বোচ্চ ৮০ টাকা কেজি পর্যন্ত কেশর  বিক্রি করেছি। বর্তমানে শীতের জন্য একটু কম দাম পাচ্ছি।

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী গত বছর এ উপজেলায় ৫ হেক্টর জমিতে কেশর আবাদ হয়েছিল। ফলন হয়েছিল হেক্টর প্রতি ২০ থেকে ২২ টন কেশর। এ বছর কেশর চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৬ হেক্টর। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা পেরিয়ে ৭ হেক্টর জমিতে কেশর আলুর আবাদ হয়েছে। সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত কেশর আলু জমিতে রোপণ করতে হয়। ডিসেম্বর মাস থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ফসল সংগ্রহ করা যায়।

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, গত কয়েক বছর ধরেই কৃষকেরা কেশর আলু চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। এটি চাষে সাধারণত খুবই কম খরচ হয় কিন্তু লাভ বেশি হয়। কেশর আলু ভিটামিন সি, আঁশ, শর্করা, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস সমৃদ্ধ, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হজমশক্তি উন্নত করে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, ওজন কমাতে সাহায্য করে, এবং এতে থাকা অ্যান্টি-ক্যান্সার উপাদান ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে পারে। এটি মিষ্টি ও ঠান্ডা স্বাদের হওয়ায় কাঁচা বা রান্না করে খাওয়া যায় এবং ডায়াবেটিস রোগীর জন্যও উপকারী।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

SICIP-এর আওতায় ইস্টার্ন ব্যাংকের মাসব্যাপী উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় শীতে ক্ষতিগ্রস্ত বোরো বীজতলা, রোপণ নিয়ে শঙ্কা

ভিভো এক্স৩০০ প্রো: প্রিমিয়াম ফ্ল্যাগশিপ ফিচার ও পারফরম্যান্স

গাজীপুরে এনসিপি নেতাকে গুলি করে মোটরসাইকেল ছিনতাই

মহিমাগঞ্জে আহলে হাদীস  জামে মসজিদে চুরি 

সিরাজগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে  খাদ্য সংরক্ষণ, ৫ প্রতিষ্ঠানের  জরিমানা