রংপুরে এক বছরে ৬৫ খুন, ৩৭টি ধর্ষণ ১০ অপহরণ ও ৫৫টি চুরি মামলা
রংপুর প্রতিনিধি : রংপুর জেলায় গত বছর সংঘটিত অপরাধের পরিসংখ্যান সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সরকারি ও পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এক বছরে রংপুরে সংঘটিত হয়েছে ৬৫টি হত্যাকাণ্ড। এর পাশাপাশি ৩৭টি ধর্ষণ, ১০টি অপহরণ, ৫৫টি চুরি এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ১০৪টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এই পরিসংখ্যান জননিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করার দাবি জোড়ালো হচ্ছে।
গতবছরের কয়েকটি নৃশংস ঘটনা রংপুরবাসীর মনে গভীর দাগ কেটেছে। ৬ ডিসেম্বর তারাগঞ্জ উপজেলায় এক দম্পতিকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে এক যুবক। পারিবারিক কলহ থেকে এ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হলেও এর নৃশংসতা এলাকাবাসীকে স্তব্ধ করে দেয়।
একই উপজেলার বুড়িরহাট এলাকায় ১০ আগস্ট ভ্যানচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে প্রাণ হারান রুপলাল ও প্রদীপ দাস নামে দুই ব্যক্তি। এসব ঘটনায় আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বারের সহ-সভাপতি রুবায়েত হোসেন জানান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে চুরি ও ডাকাতির আশঙ্কা বেড়েছে। তিনি বলেন, রাতে টহল আরও বাড়াতে হবে। বাজার ও বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে পুলিশি উপস্থিতি দৃশ্যমান না হলে ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবেন। এবিষয়ে রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, রাত্রীকালীন টহল কার্যক্রম নিয়মিত চলছে।
আরও পড়ুনআগে রংপুরে গরু চুরি বেশি হতো, কিন্তু গত দুই মাসে চুরির সংখ্যা অনেক কমেছে। টহল জোরদার করার সুফল আমরা পাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, যেসব খুনের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ সফল হয়েছে। কোনো অপরাধী যেন আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে পার না পায়, সে বিষয়ে আমরা দৃঢ়।
তবে নাগরিকদের মতে, শুধু টহল নয় দিন ও রাতের সমন্বিত পুলিশি তৎপরতা, বিট পুলিশিং কার্যক্রম চালু এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। অপরাধ দমনে প্রশাসন ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে রংপুরে নিরাপত্তার আস্থা ফিরিয়ে আনতে।
মন্তব্য করুন






