ভিডিও বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩ পৌষ ১৪৩২

প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারী, ২০২৬, ১০:৫৫ রাত

পাবনার বেড়ার চরে দাদন ফাঁদে গো-খামারিরা দুধের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত

পাবনার বেড়ার চরে দাদন ফাঁদে গো-খামারিরা দুধের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত। ছবি : দৈনিক করতোয়া

বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি : পাবনার বেড়া উপজেলার চরাঞ্চলে দাদন ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় গো-খামারিরা। বছরের পর বছর গরু পালন করে দুধ উৎপাদন করলেও ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন খামারিরা। দাদনের টাকা শোধ করতে গিয়ে কম দামে দুধ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন অসংখ্য খামারি। ফলে অনেকেই লোকসান ও ঋণের বোঝায় ব্যবসা পরিবর্তনের কথা ভাবছেন।

বেড়া উপজেলার হাটুরিয়া নাকালিয়া ইউনিয়নের চরপেঁচাকোলা, চরসাঁড়াশিয়া, চরনাগদাসহ যমুনা নদীবেষ্টিত বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে দুধ উৎপাদনের জন্য পরিচিত। এসব এলাকায় হাজার হাজার পরিবার গরু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। প্রতিদিন এসব চর থেকে বিপুল পরিমাণ দুধ সংগ্রহ হয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হয়ে থাকে।

সরেজমিনে উপজেলার হাটুরিয়া নাকালিয়া ইউনিয়নের চরপেঁচাকোলা, চরসাঁড়াশিয়া, চরনাগদাসহ বেশ কিছু চর ঘুরে দেখা যায় প্রতিটি বাড়িতেই গড়ে উঠেছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি গো-খামার। দশ পনের বছর আগে চরে গরু পালন শুরু করে অনেক খামারিই সাফলতা মুখ দেখেন। এভাবে একসময় চরাঞ্চলের খামারিরা গরু পালনে আগ্রহী হয়ে উঠেন। চরাঞ্চলের বেশিরভাগ খামারি দরিদ্র ও প্রান্তিক।

গরু কেনা, গোয়ালঘর নির্মাণ, খাদ্য ও চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য তাদের বড় অঙ্কের পুঁজি নেই। এই সুযোগটাই কাজে লাগাচ্ছেন দাদন ব্যবসায়ীরা। অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল এসব খামারিদেরকে দাদন ব্যবসায়ীরা তাদের কাছেই দুধ বিক্রির শর্তে গরু প্রতি ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা লগ্নি করে থাকেন। ফলে দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে বাজার দর থেকে অনেক কম দামে দুধ বিক্রি করতে হয় খামরিদের।

আরও পড়ুন

খামারিরা জানান, দুধ উৎপাদন শুরু করার আগেই অনেককে দাদন নিতে হয়। কেউ গরু কেনার জন্য, কেউ চিকিৎসা বা সংসারের খরচ মেটাতে দাদনের টাকা নেন। এই দাদনের শর্ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট দামে দুধ দিতে হয় ব্যবসায়ীদের।

বর্তমানে বাজারে প্রতি লিটার দুধের ন্যায্য মূল্য যেখানে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, সেখানে দাদনের শর্ত অনুযায়ী অনেক খামারিকে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় দুধ দিতে হচ্ছে। বাজারদর বাড়লেও দাদনের দামে কোনো পরিবর্তন আসে না।

পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, চরাঞ্চলে গরু পালনে খামারিদের খরচ তুলনামূলকভাবে কম। তারা বছরের অর্ধেক সময় ধরে চরের কাঁচা ঘাস সংগ্রহ করে গো-খাদ্যের চাহিদা পূরণ করে থাকেন। বেড়া উপজেলার বিভিন্ন চরে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। তবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে ঋণ সহায়তার কোনো সুযোগ নেই।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জকসু নির্বাচনে শিবির সমর্থিত প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয়

জয়পুুরহাটের ধরঞ্জীতে ৯৬০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ১

দীর্ঘ ১৪ বছর পর বগুড়ার শেরপুরে উপজেলা ও শহর  ছাত্রদলের কমিটি গঠন

পাবনার চাটমোহরে শৈত্যপ্রবাহে বোরো বীজতলার ক্ষতি

বগুড়ার কাহালুতে প্রতিবন্ধী মানুষের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ

জকসুর ৩৫ কেন্দ্রে ৫৮৩ ভোটে এগিয়ে শিবিরের ভিপি প্রার্থী