আইনি জটিলতা, রাজস্ব বঞ্চিত সরকার
বগুড়ায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে জব্দ করা চার শতাধিক মোটরসাইকেল
স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়ায় বছরের পর বছর ধরে অযত্নে অবহেলায় পড়ে আছে জব্দ করা চার শতাধিক মোটরসাইকেল। জেলার ১২টি থানা, ডিবি কার্যালয়, পুলিশ লাইন্সের মালখানা চত্বর ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বগুড়ার পণ্যাগারে ফেলে রাখা হয়েছে জব্দ করা এসব মোটরসাইকেল। সেইসাথে অযত্নে পড়ে আছে জব্দ করা আরও দুই শতাধিক প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, ট্রাক, পিকআপ ভ্যান, ইজিবাইক, সিএনজি চালিত অটো রিকশাসহ অন্যান্য গাড়ি।

খোলা আকাশের নিচে রোদ, বৃষ্টি ও ধুলোয় পড়ে থাকা মোটরসাইকেলসহ এসব গাড়ি নষ্ট হচ্ছে। অকেজো হয়ে পড়ছে গাড়িগুলো। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে গেছে এসব যানবাহন। গাড়িগুলোর বেশির ভাগই আর ব্যবহার উপযোগী নেই। সেই সাথে আইনি জটিলতার কারণে এসব গাড়ি নিলামে তুলতে না পারায় রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
চোরাপথে আসা, নিবন্ধনহীন, অপরাধ সংশ্লিষ্টতায় জব্দ করা হয় মোটরসাইকেলসহ এসব গাড়ি। এসব যানবাহন নিয়ে বিপাকে পড়েছে পুলিশ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। আইনি জটিলতায় বছরের পর বছর ধরে মামলার সূরাহা না হওয়ায় এসব যানবাহনের স্তপ বাড়ছেই। সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তারা বলেন, জব্দ করা যানবাহনের জন্য আলাদা গ্যারেজ প্রয়োজন।
তাহলে সুরক্ষিত থাকবে জব্দ করা এসব গাড়ি। ৫-৬ বছর আগে জব্দ করা মোটরসাইকেলও আছে সংশ্লিষ্ট থানা, ডিবি ও পুলিশ লাইন্সের মালখানায়। যার বেশির ভাগই অকেজো হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে এসব গাড়ি পড়ে থাকায় ক্ষয়ে যাচ্ছে গাড়ীগুলোর যন্ত্রাংশ।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মাদ রায়হান বলেন, প্রতিমাসে যে পরিমাণ গাড়ি জমা হয় সেই পরিমাণ মামলার নিষ্পত্তি হয়না। আইনি জটিলতার কারণে জব্দ হওয়া গাড়ির সংখ্যা বাড়ছেই। অল্প জায়গায় অধিক যানবাহন রাখায় গাড়ি নষ্ট হচ্ছে।
আরও পড়ুনথানা ও ডিবির আলামত থানায় জায়গা সংকুলান না হওয়ায় খোলা জায়গায় রাখতে হচ্ছে মাদকসহ বিভিন্ন মামলার আলামত হিসাবে জব্দ করা মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকছে গাড়িগুলো। মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতায় আলামত সংগ্রহে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশকে।
গাড়িগুলোর নিলাম না হওয়ায় রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। তিনি বলেন, এব্যাপারে জজশিপ ও জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটদেরকে জানিয়েছেন তিনি। তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন বলেও কথা দিয়েছেন। জেলা পুলিশের সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত জেলায় ৪৭৬টি মোটরসাইকেল, ৯টি মাইক্রোবাস ৪৯টি প্রাইভেটকার, ৫৮টি ট্রাক-পিকআপ ভ্যান, ১৯টি সিএনজি চালিত অটোরিকশা, ২৮টি ইজিবাইক জব্দ করা আছে।
এছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বগুড়া কার্যালয়ের মামলায়, বিভিন্ন রকমের যানবাহন জব্দ আছে ৬১টি মোটরসাইকেলসহ ১২৯টি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বগুড়ার উপ-পরিচালক মোহাম্মদ জিললুর রহমান বলেন, জব্দ করা গাড়িগুলো সংরক্ষণের জন্য তাদের কোন ডাম্পিং ইয়ার্ড নেই। যে কারণে খোলা আকাশের নিচে গাড়িগুলো রাখতে হয়। দীর্ঘ সময় এভাবে রাখার জন্য রোদ, বৃষ্টি ও ধুলোয় গাড়িগুলো নষ্ট হয়। আবার গাড়ির যন্ত্রাংশ চুরিও হয়।
তিনি বলেন, আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) পর্যন্ত অধিদপ্তরের সান্তাহার পণ্যাগারে ৬১টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১২৯টি যানবাহন জব্দ করা আছে। তিনি মন্তব্য করেন নিলাম ছাড়াও এই গাড়িগুলো রাষ্ট্রীয় সম্পদ হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। আদালত বা আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যে সকল সংস্থা জব্দ করেছে তাদের সবার সমন্বয়ে একটি সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ গঠন করা যেতে পারে। যার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করে জব্দকৃত যানবাহনগুলো সচল করে রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।
যে সকল সংস্থার যানবাহন নেই, সে সকল সংস্থাকে গাড়িগুলো ব্যবহার করতে পারে। জেলা ও দায়রা জজ আদালত বগুড়া এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এড. আব্দুল বাছেদ বলেন, নিষ্পত্তিকৃত মামলার জব্দকৃত মালামাল কিভাবে নিলামে দেয়া যায় বা ধ্বংস করা যায় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা হয়েছে তার। তিনি আরও বলেন, জেলা আইন-শৃংঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। তবে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে এ বিষয়ে দ্রুত সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদী।
মন্তব্য করুন



_medium_1767795295.jpg)


