ভিডিও রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ০৩:৩৫ দুপুর

ঘুম শখ নয়; জীবনের প্রতি বিনিয়োগ

ঘুম হলো এমন একটা পর্যায় যেখানে শরীর ও মন বিশ্রাম নেয়। এ সময় কিছু সংবেদনশীল কার্যকলাপ বাধাগ্রস্ত হয়। যেমন- হৃদস্পন্দন ও শ্বাসের ধীর হওয়া, পেশী শিথিল হওয়া, মস্তিষ্কের তরঙ্গ ধীর হওয়া। ঘুমের মধ্যে কান বাদে আমাদের শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিশ্রাম নেয়। এই বিশ্রামের ফলেই আমরা সচলভাবে বেঁচে আছি। কেননা মানবশরীর একটা যন্ত্রের মতো। একটা যন্ত্র যেমন অনেকক্ষণ চলমান থাকলে ধীরে ধীরে কার্যক্ষমতা হারায়, ঠিক তেমনি মানবশরীরও বিশ্রামের অভাবে অসুস্থ পড়ে। তাই প্রতিদিনই শরীর ও মনের বিশ্রামের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমানো উচিত। পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ঘুমের মধ্যে আমাদের শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলো সেরে উঠে এবং কোষের বৃদ্ধি ঘটে। এইজন্য আমাদের দেহে কোনো ক্ষত হলে কিংবা কিছু কেটে গেলে চিকিৎসকরা বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেন। ঘুম মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি মজবুত করতে এবং নতুন তথ্য শিখতে সাহায্য করে। এটি মনোযোগ বাড়াতেও সহায়ক। এছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে হৃদরোগ, স্ট্রোকের মতো মারাত্মক রোগের ঝুঁকি কমে। ঘুম মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং হতাশা কমাতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত ঘুম মেজাজ ভালো রাখে এবং আবেগকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে। তাছাড়া দেহের স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমের প্রয়োজন। 

বর্তমান যুগে আমরা সফলতার পিছনে দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে ভাবতে শুরু করেছি, যদি একটু কম ঘুমিয়ে বেশি কাজ করে নেওয়া যায় তাহলে সফলতা আসবেই। আর তাই আমাদের জীবনটা হয়ে গেছে শুধু কাজ আর কাজের। আর এ কাজের ফলশ্রুতিতে আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম যাওয়াকে বিলাসিতা ভাবা শুরু করেছি। বর্তমান যুগে অনেকের কাছে সময় নষ্টের একটা কারণ ঘুম। অনেকে এটাকে এভাবে হিসাব করে যে, এতো ঘন্টা ঘুমালাম তো জীবন থেকে এতো ঘন্টা হারালাম। বরং সে সময়ে আমরা জীবনকে উপভোগ করতে পারি কিংবা কাজ করতে পারি। অথচ ঘুম যে কতখানি প্রয়োজন আমাদের জন্য তা মাঝেমধ্যে ভুলে যাই আমরা। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে শরীর তার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। যারা পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমায় না তারা বিভিন্ন ধরনের মানসিক সমস্যায় ভুগতে থাকে। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে রাগ, হতাশা, দুশ্চিন্তা বাড়তে থাকে। মানুষের বিপাক ও পরিপাক ক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে চলাচলের জন্য ঘুমের প্রয়োজন। তাই ঘুমের অভাবে অনেকের খাদ্য হজমে সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়াও বর্তমানে হৃদরোগের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম না হওয়া। কম ঘুমানোর ফলে অনেকের শরীরে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা দেখা যায়। তাই কম ঘুমানো ব্যক্তির শরীরে স্থূলতা চলে আসে। 

আবার কম ঘুমানো যেমন ক্ষতিকর তেমনি অতিরিক্ত ঘুমানোও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কম ঘুম যেমন হৃদযন্ত্রের সমস্যার কারণ, বেশি ঘুমও হৃদযন্ত্র বিকলের কারণ হতে পারে। যারা দৈনিক ৯ ঘণ্টার বেশি ঘুমান, তাদের হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকি ৮৫ শতাংশ বেড়ে যায়। মূলত একজন প্রাপ্তবয়স্কের দৈনিক ৭-৮ ঘন্টা ঘুমানো উচিত। বেশি ঘুমালে দেহে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যেতে শুরু করে৷ এতে শরীরে মেদ জমে। যার ফলে স্ট্রোক হতে পারে। ব্যস্ততা আর প্রযুক্তির প্রভাবে আমাদের জীবনে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে ঘুম। কিন্তু ঘুমকে শুধু শরীরের ‘বিশ্রামের সময়’ ভাবা ভুল। এটি সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষমতার জন্য অপরিহার্য। যে কাজ শেষ করার জন্য আমরা ঘুমাই না, সে কাজে পটেনশিয়ালটি বের করে আনা যাবে না; যদি আমরা আমরা ঠিকভাবে না ঘুমাই। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ঘুমানোর পর শরীর নিজের অজান্তেই একের পর এক কাজ করতে থাকে। তাই ঘুমকে শুধু শখের বিষয় মনে না করে সুস্থ ও সফল জীবনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ মনে করুন।

লেখক

কাজী মালিহা আকতার

শিক্ষার্থী, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ 
চট্টগ্রাম কলেজ 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঘুম শখ নয়; জীবনের প্রতি বিনিয়োগ

চমক নিয়ে আসছেন টেইলর সুইফট

বিজয় দিবসে বিএনপি’র কর্মসূচি স্থগিত

সীমান্তে পচছে ৩০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ

‘লোকজন বিয়ে করছে আর আমি একটা প্রেমও করতে পারছি না’

রাশিয়ার দুই ট্যাংকারে ইউক্রেনের হামলা, আছেন চার বাংলাদেশি নাবিক