বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন
সারা বিশ্বে যক্ষ্মার প্রকোপে অষ্টম স্থানে বাংলাদেশ
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ যক্ষ্মার প্রকোপের দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষ আট দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বের মোট যক্ষ্মা রোগীর ৮৭ শতাংশ মাত্র ৩০টি দেশে বাস করে। আর এর ৬৭ শতাংশই রয়েছে শীর্ষ আটটি দেশে।
সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) “গ্লোবাল টিউবারকুলোসিস রিপোর্ট ২০২৫” এর প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বের মোট যক্ষ্মা রোগীর ২৫ শতাংশই রয়েছে ভারতে। শীর্ষ আটে থাকা দেশগুলোতে এ হার যথাক্রমে ইন্দোনেশিয়া ১০ শতাংশ, ফিলিপাইন ৬.৮ শতাংশ, চীন ৬.৫ শতাংশ, পাকিস্তান ৬.৩ শতাংশ, নাইজেরিয়া ৪.৮ শতাংশ, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ৩.৯ শতাংশ এবং বাংলাদেশ ৩.৬ শতাংশ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন বলছে, যক্ষ্মা নির্ণয় ও চিকিৎসার অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এর খরচ। বিশ্বের প্রায় অর্ধেক যক্ষ্মা রোগীর চিকিৎসা ব্যয় তাদের বার্ষিক আয়ের ২০ শতাংশেরও বেশি। এছাড়াও, যক্ষ্মা বাড়ার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত টিকা না থাকা, যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকা, মাথাপিছু কম আয়, অপুষ্টি, এইচআইভি, ডায়াবেটিসের হার, ধূমপান এবং অ্যালকোহল-সম্পর্কিত ব্যাধি ইত্যাদি।
প্রসঙ্গত, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে যক্ষ্মা প্রতিরোধে আগে স্কুলগুলোতে বিনামূল্যে বিসিজি টিকা দেওয়া হতো প্রতি বছর। বর্তমানে এই কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দেশের শিশুরা এমনিতেই অপুষ্টিতে ভুগে থাকে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, বায়ুদূষণ ও ধোঁয়া ইত্যাদির কারণেও দেশে বেড়েছে যক্ষ্মা রোগী।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ দেখা যায়নি। গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বন্ধ হয়ে গেছে ইউএসএইডের অর্থায়ন। যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। বন্ধ হয়ে গেছে বেসরকারিভাবে পরিচালিত রোগ শনাক্তকরণ, গবেষণা ও সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড। যক্ষ্মা প্রতিরোধে ইউএসএইডের সহায়তায় ২০১৮ সালে ‘জানাও’ নামে একটি অ্যাপ প্রস্তুত করা হয়। ইউএসএইডের অর্থায়ন বন্ধ হওয়ায় বর্তমানে অ্যাপটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সরকারের সর্বশেষ হিসাব বলছে, প্রতি বছর প্রায় ৩ লাখ ৭৯ হাজার মানুষ নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন যক্ষ্মা রোগে। মারা যান ৪৪ হাজার। সেই হিসাবে প্রতিদিন ১ হাজার ৩৮ জন হচ্ছেন নতুন রোগী এবং মারা যান ১২১ জন। প্রতিদিন দেশজুড়ে মাতৃমৃত্যু, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু, আত্মহত্যার চেয়ে অনেক বেশি মৃত্যু ঘটছে যক্ষ্মায়।
জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর থেকে অনুমোদিত যক্ষ্মা নির্মূলের লক্ষ্য অর্জন করতে আরও কার্যকরী উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, যক্ষ্মা রোগী কমাতে হলে যক্ষ্মা নির্ণয়, চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক সেবার কাভারেজ বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি যক্ষ্মার ঝুঁকি বাড়ায় এমন কারণগুলো মোকাবিলা করা জরুরি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো গবেষণায় অগ্রগতি এবং যক্ষ্মার ভ্যাকসিনের উন্নয়ন।
এ বিষয়ে সফলতা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে অর্থায়নের ওপর। তবে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমে যাওয়ার কারণে দেশগুলোর রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও নিজস্ব অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক








_medium_1764426895.jpg)