ভিডিও বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

প্রকাশ : ১৪ জুলাই, ২০২৫, ১২:১২ দুপুর

ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চারঘাটের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প

ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চারঘাটের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প। ছবি : দৈনিক করতোয়া

রাজশাহী প্রতিনিধি : তাঁতের খট খট শব্দে এক সময় মুখরিত থাকতো রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার তাঁতপল্লি। তাঁত এক সময় বেশ সমৃদ্ধ শিল্প থাকলে তাঁত কাপড়ের কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় এ শিল্পটি বর্তমানে হুমকির মুখে পড়েছে। উৎপাদন খরচও তুলতে পারছে না প্রান্তিক তাঁতিরা। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক তাঁত। এতে বিলুপ্তির পথে চারঘাট উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প।

আধুনিকতার সাথে তাল মেলাতে না পারার কারণে এই শিল্পের সাথে জড়িতরা সমস্যায় পড়ছেন। এমনকি এ পেশা বদল করে আজ অন্য পেশায় চলে গেছে। অনেকে আবার বাপ-দাদার এই পেশাকে প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও স্মৃতি হিসেবে আঁকড়ে ধরে আছে। এক সময় বিরামহীনভাবে কাজ করে যেতেন তাঁতিরা। কিন্তু তাঁত শিল্পের এখন আর সেই সুদিন নেই।

সরেজমিনে চারঘাট উপজেলার মুংলী, অনুপমপুর, ইউসুফপুর, শলুয়া ইউনিয়নের তাতারপুর, সরদহ ইউনিয়নের হুজারপাড়া গ্রামগুলো ঘুরে জানা যায়, এক সময় তাঁতসমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে বেশ পরিচিত ছিল। এখানকার তাঁতিদের উৎপাদিত বিভিন্ন বাহারি ডিজাইনের গামছা, চাদর, শাড়ি ও বিছানার চাদর দেশের বিভিন্ন বাজারে নিয়ে বিক্রি করা হতো।

কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এসব এলাকা থেকে তাঁত শিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে। তাঁত বস্ত্র উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও রাসায়নিক দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এই উপজেলার তাঁত শিল্পের অস্তিত্ব বর্তমানে হুমকির মুখে পড়েছে। লাভজনক এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে প্রয়োজন সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা।

জানা যায়, বর্তমানে চারঘাট উপজেলায় প্রায় ৫০০ তাঁত শিল্প পরিবার আছে। তাঁতের সঙ্গে সম্পৃক্ত পরিবারগুলো বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে। কাঁচামালের দাম বাড়ার কারণে এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে অধিকাংশ তাঁত শিল্প পরিবার। অবিরাম লোকসানে পড়ে পেশা বদলেছেন অনেকেই। তাঁতিদের অভিযোগ সুতা, রং, কেমিক্যালসহ তাঁতবস্ত্র উৎপাদনের সব উপকরণের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধিতে উৎপাদন ব্যয় যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে সে অনুযায়ী উৎপাদিত কাপড়ের মূল্য বৃদ্ধি পায়নি।

আরও পড়ুন

উপজেলার মুংলী গ্রামের তাঁতী নাজিমুদ্দিন বলেন, সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাপড় তৈরির সুতা, শ্রমিকের পারিশ্রমিক এবং যানবাহনসহ অন্যান্য দ্রব্যাদির ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে দ্রুত গতিতে। তবে বাড়েনি কাপড়ের দাম ও চাহিদা। যে কারণে দিনের পর দিন বাপ-দাদার এ পেশা ছেড়ে ভিন্ন পেশায় চলে যাচ্ছে তাঁত মালিক ও শ্রমিকরা।

উপজেলার অনুপমপুর গ্রামের জামাল উদ্দিন বলেন, বর্তমানে প্রতি পাউন্ড ৮০ কাউন্ট সুতা বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা। অথচ কয়েক মাস আগে এই সুতার দাম ছিল মাত্র ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা। সুতার দামের পাশাপাশি রংয়ের দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। দুই হাজার টাকার ইন্ডিয়ান রং এখন ৫ হাজারে কিনতে হচ্ছে। ৬০০ টাকার মাকু এখন দুই হাজার টাকা এবং ৭০০ টাকার সানা দেড় হাজার টাকা বলে তিনি জানান।

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, চারঘাটের ঐতিহ্যবাতি এই তাঁতশিল্পকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেইসাথে এ শিল্পেরসাথে জড়িতদের জীবনযাত্রারমান উন্নয়নেও পদক্ষেপ নেয়া হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে সোনালী ব্যাংকে ৩৬ হাজার জাল নোটসহ যুবক আটক

বগুড়ায় মৌসুমের প্রথম বৃষ্টি, যা গরম কমিয়ে প্রকৃতি ও জনজীবনে সতেজতা ফিরিয়ে এনেছে

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় রেলসেতুতে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল দুই বন্ধুর

নওগাঁর রাণীনগরে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ 

লালমনিরহাটে অনলাইন জুয়া ও অবৈধ সিম জালিয়াত চক্রের তিন সদস্য গ্রেফতার

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাড়ে চার মাস পর বৃষ্টি, গুটি হওয়া আমের মুকুলে স্বস্তি