গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে হবে: মানবাধিকার কমিশন
‘এতিম রিয়া মনিকে ছ্যাঁকা দিতে দিতে কবিতা লিখতেন তিনি!- গণমাধ্যমের এমন খবর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। পিতৃ-মাতৃহীন অসহায় শিশুর প্রতি নির্যাতনের অভিযোগ অনভিপ্রেত ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। কমিশন মনে করে, এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সমীচীন। এ ঘটনায় কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত অভিযোগ (সুয়োমটো) গ্রহণ করেছে।
সোমবার (৪ নভেম্বর) কমিশন থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গৃহীত সুয়োমটোর প্রেক্ষিতে কমিশনের মাননীয় চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ মনে করেন, বাংলাদেশে গৃহকর্মীদের সুরক্ষার জন্য গৃহকর্মী সুরক্ষা নীতিমালা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে গৃহকর্মী নির্যাতন একটি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু গৃহকর্মীরা অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে দুর্বল অবস্থানে থাকার কারণে নির্যাতনে জড়িতদের সাজা হয় না বললেই চলে। ফলে, সমাজে গৃহকর্মী নির্যাতনের বিচারহীনতার এক সংস্কৃতি বহমান। কোন ঘটনায় যদি মামলা হয় তখন অনেকক্ষেত্রে অর্থের দাপট, পেশী শক্তি এবং রাজনৈতিক দাপটের কাছে পরাস্ত হতে হয় দুর্বলদের। ফলে, শুরুতে বা মাঝপথে আইনবহির্ভূত সমঝোতা লক্ষ্য করা যায়।
একাত্তর টেলিভিশনে প্রকাশিত সংবাদ পর্যালোচনায় জানা যায় যে, বন্দরনগরী চট্টগ্রামে রিয়া মনি (১৩) নামক এক গৃহকর্মী নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। নির্যাতনের শিকার ১৩ বছরের এই গৃহকর্মীকে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি থানার পুলিশ একাত্তর টেলিভিশনের সহযোগিতায় শহরের অক্সিজেন মোড় এলাকার রৌফাবাদ কলোনি থেকে উদ্ধার করেছে। তার মা-বাবা, কেউই বেঁচে নেই। সংবাদ মতে, সারাদিনের হাড়ভাঙা খাটুনির পর কখনও সামান্য ভুলে বা কখনও বিনা কারণে শরীরে গরম লোহার সেঁক দেওয়াসহ বর্বর নির্যাতনের চিহ্ন মিলেছে রিয়া মনির সারা শরীরে। তার সঙ্গে কী ধরনের অমানবিক আচরণ এবং অত্যাচার করা হতো সে সবের রোমহর্ষক বর্ণনা উঠে রিয়া মনির কথায়।
আরও পড়ুনঅপরদিকে অভিযুক্ত নীলিমা শামীম একজন কবি। উদ্ধার অভিযানের খবর জানতে পেরে জড়ো হওয়া এলাকাবাসীও হতবাক। নির্যাতনের এসব তথ্য অনেকে এমনকি নির্যাতনকারীর পুত্রবধু জানলেও ভয়ে মুখ খুলতো না। উদ্ধার করে থানায় আনার পর রিয়া জানায়, নির্যাতনের কারণে পালিয়ে গেলেও তাকে আবার ধরে আনা হয়। মায়ের মৃত্যু হলেও তাকে দেখতে যেতে দেওয়া হয়নি। বর্তমানে চিকিৎসার জন্য রিয়াকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। নির্যাতনের ঘটনায় বায়োজিদ বোস্তামি থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক


_medium_1774263873.jpg)

_medium_1774260807.jpg)
_medium_1774260280.jpg)
_medium_1774177803.jpg)

_medium_1774092551.jpg)