ভিডিও শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৬:৫৪ পিএম

আশুলিয়াতে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ২৫ কারখানা ছুটি

আশুলিয়াতে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ২৫ কারখানা ছুটি

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকদের ‘ব্ল্যাকলিস্টিং’ বন্ধ এবং ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে গাজীপুর ও সাভারের আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল।

আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে আশুলিয়ায় শুরু হওয়া শ্রমিক বিক্ষোভ একপর্যায়ে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে ছয় পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকার ২৫টি তৈরি পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, একই দিন বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও চালকরা।

আশুলিয়ায় সংঘাতের মধ্যে দুপুরের দিকে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় অবস্থিত ‘নিউ এইজ’ কারখানার সামনে থেকে হাতবোমাসদৃশ তিনটি বস্তু উদ্ধার করা হয়।

শিল্প পুলিশ-১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৈয়দ ফয়সল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে হাতবোমাসদৃশ তিনটি বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। সংঘর্ষে শিল্প পুলিশের সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। কে বা কারা বস্তুগুলো সেখানে এনেছে বা রেখে গেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি আশুলিয়া থানাকে জানানো হয়েছে। পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

প্রত্যক্ষদর্শী, শ্রমিক ও শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল থেকেই আশুলিয়ার কাঠগড়া বাজার, নয়াপাড়া, জিরাব ও নিশ্চিন্তপুর এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে কারখানা থেকে বেরিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

এ সময় কন্টিনেন্টাল, এআর জিন্স ও সিডব্লিউএসহ কয়েকটি কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে এআর জিন্স ও কন্টিনেন্টাল কারখানার বিভিন্ন কাচ ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।

পরে দুপুরের দিকে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা নিশ্চিন্তপুর এলাকায় আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ ও বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় সড়ক ও শিল্পাঞ্চলে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি শ্রমিক ও পথচারীদের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি, অন্যায়ভাবে তৈরি করা শ্রমিকদের ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ বা কালো তালিকা বাতিল, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত এবং অকারণে ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে।

আরও পড়ুন

শ্রমিকদের অভিযোগ, কোনো কারণ ছাড়াই অনেক অভিজ্ঞ শ্রমিককে ছাঁটাই করা হচ্ছে। বিভিন্ন কারখানার মালিকপক্ষ যৌথভাবে তাঁদের কালো তালিকাভুক্ত করায় এক কারখানা থেকে ছাঁটাই হওয়ার পর অন্য কারখানায়ও কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা আন্দোলনে নেমেছেন।

শিল্প পুলিশ-১-এর পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ বলেন, অসন্তোষের কারণে বেশ কয়েকটি কারখানার কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করেছে। শিল্পাঞ্চলজুড়ে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও পারিবারিক ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে শ্রমিকদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে তাঁরা ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ দাবি না মানায় শ্রমিকরা সকালে কাজে যোগ না দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা অন্য কারখানার শ্রমিকদেরও আন্দোলনে যুক্ত করতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পুলিশ শ্রমিকদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।

খাইরুল মামুন মিন্টু আরও বলেন, পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় জিরাব, নরসিংহপুর ও কাঠগড়া সড়কের আশপাশের অধিকাংশ কারখানায় এক দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এসব এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আতঙ্কে সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে।

অন্যদিকে, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় দুপুরের দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন পোশাক শ্রমিকরা। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকেও মহাসড়কে শ্রমিকদের অবরোধ চলছিল। গত কয়েক দিন ধরেই গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ চলছে। এ সময় মহাসড়ক অবরোধ, মিছিল ও কারখানা ভাঙচুরের মতো ঘটনাও ঘটেছে।

শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, শ্রমিক অসন্তোষের মুখে আশুলিয়ার ২৫টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আশুলিয়াতে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ২৫ কারখানা ছুটি

১

সিরাজগঞ্জে নিখোঁজ কিশোরের মরদেহ উদ্ধার

২

বাংলা ফোক গানে পৃথিবী ভ্রমন করার স্বপ্ন জুঁইয়ের

৩

ঢাকার কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হাজতির ঢামেকে মৃত্যু

৪

আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ঢাকা সাউথ জোনের ‘টাউন হল মিটিং’ অনুষ্ঠিত

৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এমপিএ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন

৬