বগুড়ার ধুনটে পরকীয়ার সন্দেহে স্ত্রীকে হত্যা, স্বামী গ্রেফতার
ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার ধুনটে পরকীয়া প্রেমের সন্দেহে মুন্নি খাতুন (৩৪) নামে দুই সন্তানের জননীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী নুর সালাম (৩৮) নামে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯-এ সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ঘাতক স্বামী নুর সালামকে গ্রেফতার এবং ভাড়া বাসায় ঘরের তালা ভেঙে মুন্নি খাতুনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নুর সালাম ধুনট উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের এশার আলীর ছেলে। নিহত মুন্নি খাতুন শেরপুর উপজেলার মধ্যভাগ গ্রামের মুনজিল শেখের মেয়ে।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৮ বছর আগে নুর সালামের সঙ্গে পারিবারিক ভাবে মুন্নি খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে সাগর (১৫) ও সূর্য (৮) নামে দুই ছেলে সন্তানের জন্ম দেয়। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় মাতবরদের উপস্থিতিতে সালিসি বৈঠকও হয়েছে।
প্রায় ৩ বছর আগে স্বামী সন্তানদের নিয়ে মথুরাপুর থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দুরে মধুপুর গ্রামে আলতাব হোসেনের জামাতা আবু সাইদের বাড়িতে ভাড়া থাকেন ওই দম্পতি। এ অবস্থায় স্ত্রী পরকীয়া সম্পর্কে জড়িত এমন সন্দেহ থেকে নুর সালাম প্রায়ই স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়াবিবাদ করতেন।
আরও পড়ুনঘটনার আগের রাতেও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এ ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে শুক্রবার সকালে আবারও স্ত্রীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি করে নুর সালাম মথুরাপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে যান।
দুপুরের দিকে মুন্নি খাতুন বাড়ির উঠানে চুলায় রান্না করছিলেন। এ সময় নুর সালাম বাড়িতে ফিরে কৌশলে স্ত্রীকে ঘরের ভেতরে ডেকে নেন। সেখানে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে মুন্নি খাতুনকে হত্যা করেন। হত্যার পর বাড়ির প্রধান ফটক ভেতর থেকে তালাবদ্ধ করে নুর সালাম ঘরের মধ্যেই লুকিয়ে থাকেন। প্রতিবেশীদের সন্দেহ হলে ৯৯৯-এ ফোন করেন।
সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বারান্দার টিন কেটে ঘরে প্রবেশ করে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মুন্নি খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় টয়লেটের ভেতর থেকে নুর সালামকে গ্রেফতার করা হয়। ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতারকৃত নুর সালামকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতার প্রমান পাওয়া গেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নুর সালামকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন






_medium_1793288115.jpg)

