ভিডিও মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:২১ পিএম

দৈনিক বেচাকেনা অর্ধকোটি টাকা জমে উঠেছে উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ জলপাই বাজার

দৈনিক বেচাকেনা অর্ধকোটি টাকা জমে উঠেছে উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ জলপাই বাজার

দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবদারুতলা জলপাইয়ের হাট এখন ক্রেতা-বিক্রেতার পদচারণায় মুখর। মৌসুমের শুরুতেই জমে উঠেছে উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার। প্রতিদিন ১৪০ থেকে ২০০ টন পর্যন্ত জলপাই কেনাবেচা হয় এখানে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাটজুড়ে ছোট-বড় স্তূপ করে রাখা হয়েছে জলপাই। কোথাও চলছে ওজন, কোথাও আকার অনুযায়ী বাছাই। পরে জলপাই পরিস্কার করে বস্তাবন্দী করা হচ্ছে। এ কাজে পুরুষদের পাশাপাশি নারী শ্রমিকেরাও অংশ নিচ্ছেন।

মৌসুমজুড়ে পঞ্চগড় ছাড়াও পার্শ্ববর্তী দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও নীলফামারী জেলা থেকে জলপাই নিয়ে আসেন কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের পূর্ব দেবীডুবা এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ১৬ টাকা কেজি দরে ৫৩ কেজি জলপাই বিক্রি করেছেন। দাম পেয়ে তিনি খুশি। পঞ্চগড় থেকে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মতিউর রহমান বলেন, ৭ থেকে ৮ বছর ধরে তারা তিনজন বিভিন্ন গ্রাম থেকে জলপাই কিনে এনে হাটে বিক্রি করেন। দিনশেষে জনপ্রতি এক হাজার থেকে ১২শ’ টাকা পর্যন্ত লাভ থাকে।

পাইকার মো. বেলাল হোসেন বলেন, প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ টন জলপাই কেনাবেচা করেন তিনি। যা ঢাকা, বরিশাল, যশোরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। এছাড়া এই জলপাই দেশের বাইরেও যায়। চট্টগ্রাম থেকে আসা ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, এই বাজার থেকে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ টন জলপাই কেনেন তিনি। এসব জলপাই বিভিন্ন কোম্পানিতে সরবরাহের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য জেলাতেও পাঠানো হয়।

মৌসুমী শ্রমিক সাব্বির ইসলাম বলেন, মহাজন প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ টন জলপাই কেনেন। তিনি জলপাই বাছাইয়ের কাজ করেন। সাবিত্রী দাস নামে এক নারী শ্রমিক বলেন, সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কাজ করেন। সারাদিন জলপাই বাছাই ও বোঁটা ছাড়িয়ে ৩শ’ টাকা পান।

আরও পড়ুন

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেবীগঞ্জ উপজেলায় ৩ হেক্টর জমিতে জলপাই চাষ হয়। স্থানীয় উৎপাদন কম হলেও পার্শ্ববর্তী দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও নীলফামারী জেলা থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জলপাই নিয়ে আসেন এই হাটে।

দেবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাঈম মোর্শেদ বলেন, প্রতিবছর অক্টোবর থেকে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এখানে জলপাই কেনাবেচা চলে। এখানকার যোগাযোগব্যবস্থা ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকারেরা এই হাটে জলপাই কিনতে আসেন। দেবীগঞ্জ তথা পঞ্চগড়ের অর্থনীতিতে হাটটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

হাটের ইজারাদার কাদেরী কিবরিয়া রানা বলেন, হাটে প্রতিদিন ১৪০ থেকে ২০০ টন জলপাই কেনাবেচা হয়। সংরক্ষণাগার বা হিমাগার না থাকায় প্রতিদিনই জলপাই দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাতে হয়। সরকারিভাবে হিমাগার স্থাপন এবং আশপাশের অবৈধ স্থাপনা সরানো হলে হাটটির পরিসর বাড়বে এবং এটি আরও পরিচিতি পাবে।

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইন্দ্রজিত সাহা বলেন, হাট সম্প্রসারণের জন্য এখানে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া এখানে জলপাই উৎপাদন হয়। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে একটি হিমাগার স্থাপনের বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠাব।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দৈনিক বেচাকেনা অর্ধকোটি টাকা জমে উঠেছে উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ জলপাই বাজার

১

কুড়িগ্রামের উলিপুরে ইয়াবাসহ ২৬ মামলার আসামি ‘ন্যাংড়া নয়ন’ গ্রেফতার

২

বগুড়ায় স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাসে সেমিনার ও ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

৩

নওগাঁয় ছাত্রলীগের চার নেতাকর্মী গ্রেফতার

৪

বর্ণাঢ্য আয়োজনে বগুড়ায় যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন

৫

দিনাজপুরে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মদ উদ্ধার

৬