রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ, আটক ১
গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের গঙ্গাচড়ায় মর্ণেয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মীর কাসেম মিঠুকে মারধর ও দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিড়ি ব্যবসায়ী রমজান আলী ওরফে জিকুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মিঠুসহ চারজন আহত হয়েছেন বলে বিএনপি নেতাদের দাবি। তবে দলীয় কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জিকু। বুধবার রাত আটটার দিকে উপজেলার শেখপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গঙ্গাচড়া মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে এবং মাইদুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, হামলায় মীর কাসেম মিঠু, ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদসহ চারজন আহত হন। এ সময় কার্যালয়ের চেয়ার, একটি পিকআপ এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবিও ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ব্যক্তিদের অ্যাম্বুলেন্সে করে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
মীর কাসেম মিঠু জানান, পাশের এলাকার একটি তালাকের বিষয় মীমাংসার জন্য তিনি দলীয় কার্যালয়ে বসেছিলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে আরও চারজন ছিলেন। মীমাংসাসংক্রান্ত ১০ লাখ টাকাও তাঁর কাছে ছিল বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে জিকুসহ ১৫ থেকে ২০ জন সেখানে এসে তাঁর শার্টের কলার ধরে মারধর করেন। পরে কার্যালয়ের চেয়ার ও নেতাদের ছবি ভাঙচুর করা হয়। মিঠুর দাবি, মাদকবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত থাকায় তাঁর ওপর হামলা হয়ে থাকতে পারে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জিকু বলেন, দলীয় কার্যালয়ের সামনে দুজনের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিএনপি কার্যালয়ে কোনো হামলা করেননি; মিঠুর ছেলেরাই ভাঙচুর করেছে। ব্যবসায়িক বিরোধের বিষয়ে জিকু বলেন, “আমার বিড়ি যে এলাকায় চলে, ওনার বিড়িও সেই এলাকায় চলে। মূলত দ্বন্দ্ব হচ্ছে এ জায়গায়।”
রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রংপুর জেলা বিএনপির সদস্য মোকাররম হোসেন সুজন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী এবং প্রচার দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি রুহুল আমিনসহ স্থানীয় বিএনপি নেতারা। এ সময় তাঁরা ঘটনার খোঁজখবর নেন।
আরও পড়ুন
এ সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার জানান, মর্ণেয়া ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয় এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক রাষ্ট্রপতির ছবি ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁরা আইনি প্রক্রিয়ায় যাবেন।
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর বলেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে এবং একজনকে আটক করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন

_medium_1792660394.jpg)
_medium_1792654359.jpg)
_medium_1792657887.jpg)
_medium_1792652506.jpg)

_medium_1792650784.jpg)
_medium_1792660846.jpg)