মুন্সিগঞ্জে গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা গ্রেফতার
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর অগ্রণী ব্যাংক শাখার গ্রাহকদের গচ্ছিত টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংকের কর্মকর্তা (ক্যাশ) মো. শরিফুজ্জামান সোহাগকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ। আত্মগোপনে যাওয়ার এক সপ্তাহ পর মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর মিরপুরের মধ্য পাইকপাড়া থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের সময় সোহাগের কাছ থেকে ১ লাখ ৪৫ হাজার ২০০ টাকা, তিনটি মুঠোফোন, একটি চেকবই, দুটি এটিএম কার্ড ও ব্যাংকের লকারের একটি চাবি উদ্ধার করা হয়েছে।
২০১৯ সাল থেকে শ্রীনগর শাখায় কর্মরত ছিলেন সোহাগ। অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংকে বসেই গ্রাহকদের অতিরিক্ত ১১ থেকে ১২ শতাংশ সুদ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে তিনি টাকা সংগ্রহ করতেন। পরে ব্যক্তিগত সিল ও ব্যাংকের ভাউচার ব্যবহার করে এসব টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সোহাগ আত্মগোপনে চলে যান। এরপর গ্রাহকদের স্বার্থ ও ব্যাংকের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে মুন্সিগঞ্জ জেলা পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে মিরপুর মডেল থানার মধ্য পাইকপাড়ায় সোহাগের বোনের বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
আরও পড়ুনগ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহাগ তার নাম-ঠিকানা প্রকাশ করলেও আত্মসাৎ করা টাকার পরিমাণ ও ওই অর্থের অবস্থান সম্পর্কে সন্তোষজনক কোনো তথ্য দিতে পারেননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে গ্রাহকদের প্রকৃত কত টাকা আত্মসাৎ হয়েছে, তা নির্ধারণে অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে তিন সদস্যের একটি অডিট দল গঠন করা হয়েছে। অডিট কার্যক্রম এখনো চলছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে আত্মসাতের অর্থের পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হলেও অডিট শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত অঙ্ক নিশ্চিত করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ আরও জানায়, প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগটি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তফসিলভুক্ত অপরাধের আওতায় পড়ায় দুদকও বিষয়টি তদন্ত করছে।
মুন্সিগঞ্জ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সোহাগকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। আত্মসাতের প্রকৃত অর্থের পরিমাণ, ওই অর্থের অবস্থান এবং ঘটনায় অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত ও অডিটের মাধ্যমে জানা যাবে।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক
_medium_1790763826.jpg)
_medium_1790761831.jpg)

_medium_1790757159.jpg)
_medium_1790756362.jpg)
_medium_1790753880.jpg)
_medium_1790765007.jpg)
_medium_1790764671.jpg)
_medium_1790763559.jpg)