বগুড়ায় বিচারকের এজলাস কক্ষে আইনজীবীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি
স্টাফ রিপোর্টার: বগুড়ায় জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে মো. মনিরুজ্জামানের যোগ দেওয়ার পর তার আদালত বর্জনকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের দুই পক্ষের মধ্যে হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে এজলাসে যেতে হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিচারক এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান। আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এজলাস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বগুড়া আদালতের কর্মচারী ও আইনজীবীরা তৎকালীন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুজ্জামান এবং জেলা ও দায়রা জজ মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামেন। পরে দুজনকেই বগুড়া থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরবর্তী সময়ে জেলা ও দায়রা জজ মোজাম্মেল হককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।
এর মধ্যে মনিরুজ্জামান জেলা ও দায়রা জজ পদে পদোন্নতি পেয়ে বগুড়ায় বদলির আদেশ পান। আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) তিনি বগুড়ায় যোগদান করে দুপুরের দিকে এজলাসে বসেন। এ সময় বগুড়া অ্যাডভোকেটস বার সমিতির নেতারা তাঁর আদালত বর্জনের ঘোষণা দিয়ে এজলাসে মামলার শুনানিতে বাধা দেন।
তবে কয়েকজন আইনজীবী মলার শুনানি চালিয়ে যেতে চাইলে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে তাঁরা পরস্পরকে ধাক্কাধাক্কি করতে শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিচারক এজলাস ত্যাগ করেন। পরে আদালত পুলিশ এসে দুই পক্ষকে সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
বগুড়া অ্যাডভোকেটস বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, মনিরুজ্জামান বগুড়ায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় আওয়ামী লীগ সরকারের আজ্ঞাবহ বিচারক হিসেবে কাজ করেছেন। বিএনপির নেতা-কর্মীদের জামিন না দিয়ে মাসের পর মাস কারাগারে রাখার অভিযোগে ৫ আগস্টের পর আইনজীবী ও আদালতের কর্মচারীরা তাঁর বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলেন।
রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বগুড়া থেকে প্রত্যাহার হওয়ার পর তিনি ম্যানেজ করে আবার বগুড়ায় জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে বদলির আদেশ নিয়েছেন-এমন খবর পেয়ে আমরা সংবাদ সম্মেলন করে তাঁর বদলির আদেশ বাতিলের দাবি জানিয়েছিলাম। একই সঙ্গে তিনি বগুড়ায় যোগ দিলে আদালত বর্জনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।’
আরও পড়ুনআইনজীবী নেতা বলেন, ‘আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) তিনি এজলাসে বসে মামলার শুনানি শুরু করলে আমরা সেখানে বাধা দিতে যাই। এসময় কয়েকজন জুনিয়র আইনজীবী আমাদের সঙ্গে হট্টগোলে জড়ান। একপর্যায়ে তাঁরা বার সমিতির সভাপতি রেজাউর রহমানকে ধাক্কা দিয়ে এজলাস থেকে বের করে দেন।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও আইনজীবী আব্দুল ওয়াহাব জানান, আদালত বর্জনের কর্মসূচির সঙ্গে তাঁরাও একমত ছিলেন। জেলা ও দায়রা জজ যোগদানের পর বার সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাঁর খাসকামরায় যান। পরে বিচারক এজলাসে বসেন।
আব্দুল ওয়াহাব বলেন, ‘একটি মামলার শুনানি শেষে বার সমিতির নেতারা এসে আবার বাধা দেন। আদালত বর্জনের কর্মসূচি থাকলে বার সমিতির নেতারা বিচারকের খাসকামরায় ঢুকলেন কেন? তাঁরা বের হওয়ার পর বিচারক এজলাসে বসলে আমরা জুনিয়র আইনজীবীরা মামলার শুনানি শুরু করি। এরপর বার সমিতির নেতারা বাধা দিতে এলে হট্টগোল হয়।’
তবে বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলামের দাবি, বিচারকের খাসকামরায় তাঁরা আদালত বর্জনের কর্মসূচির বিষয়টি তাঁকে জানাতে গিয়েছিলেন। বিচারক নিয়ম রক্ষার জন্য একটি মামলার শুনানি করে কার্যক্রম স্থগিত রাখবেন বলে জানান। তাঁর সম্মানে একটি মামলার শুনানি করতে দেওয়া হলেও পরে আব্দুল ওয়াহাব একটি হত্যা মামলায় আসামির জামিন করান এবং আরও মামলার শুনানি শুরু করেন।
বগুড়া আদালত পুলিশের পরিদর্শক শহিদুল ইসলাম বলেন, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এজলাস কক্ষে আইনজীবীদের দুই পক্ষের মধ্যে হট্টগোল শুরু হলে পুলিশ গিয়ে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
মন্তব্য করুন








