পঞ্চগড়সহ তেঁতুলিয়ায় চা চাষিদের জন্য আলাদা সার বরাদ্দ নেই কৃষি বিভাগে, বাগান মালিকেরা বিপাকে
তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি: পঞ্চগড়সহ রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলার সমতলের চা বাগানের জন্য কৃষি বিভাগে নেই নির্দিষ্ট সার বরাদ্দ। এতে ইউরিয়া ও ডিএপি সার নিয়ে সংকটে পড়েছেন চা চাষিরা। এর মধ্যেই বাগানে বেড়েছে বিভিন্ন পোকার আক্রমণ। সময়মতো সার ও কীটনাশক দিতে না পেরে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন চাষিরা। তবে প্রয়োজনীয় সার বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ চা বোর্ড।
উত্তরের জেলা পঞ্চগড়। সমতলের চা উৎপাদনে এটি ইতিমধ্যে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। প্রায় ৯ হাজার ৮৯৯ একর জমিতে চা চাষ হচ্ছে এখানে। প্রতিবছরই বাড়ছে আবাদ ও উৎপাদন। সমতলের এই বিস্তৃত জমিতে গড়ে উঠেছে হাজার হাজার চা বাগান। তবে উৎপাদনের এই মৌসুমে বাগানের পরিচর্যা নিয়ে নানা সংকটে পড়েছেন চা চাষিরা।
বাংলাদেশ চা বোর্ড পঞ্চগড় আঞ্চলিক অফিসের তথ্য মতে, পঞ্চগড়সহ রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলার সমতলের চা এখন দেশের চা শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পঞ্চগড় জেলায় প্রায় ৮ কোটি ৩২ লাখ ৮৮ হাজার কেজি সবুজ চা উৎপাদিত হয়েছে। একই সময়ে জেলার ৩১টি চা কারখানায় উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৭২ লাখ ৪৮ হাজার কেজি প্রক্রিয়াজাত চা।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকার প্রক্রিয়াজাত চা পাতা বিক্রি হয়েছে। ফলে জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এ শিল্প। চা বোর্ডের হিসেবে, চাষিদের জন্য বছরে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন টিএসপি/ডিএপি এবং ৩ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার প্রয়োজন। এই অবস্থায় চা বাগানের জন্য আলাদা সার বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন চাষিরা।
আরও পড়ুনআজিজ নগর গ্রামের চা চাষি আলাউদ্দীন বলেন, “আমি ১০ একর জমিতে চা আবাদ করেছি। কিন্তু প্রতি রাউন্ডে আমার সার প্রয়োজন প্রায় ৫০ বস্তা। অথচ আমাকে সার দেয় ২ বস্তা। সময়মতো বাগানে সার দিতে পারছি না। সার না পেয়ে কৃষি অফিসে গেলে তাঁরা বলেন, চা চাষিদের জন্য কৃষি বিভাগে কোনো সার বরাদ্দ নাই। তাহলে আমরা চা বাগান পরিচর্যার অভাবে কি তুলে ফেলে দেব?”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবরিনা আফরিন বলেন, “কৃষি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত সার সবজি ও ধান আবাদের জন্য উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ডিলারের দোকান থেকে সুচারুভাবে চাষিদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে। কিন্তু সবজি ও ধান আবাদের জন্য বরাদ্দকৃত সার কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা চা চাষিদের দিতে পারছি না। চা বোর্ডের মাধ্যমে অতিরিক্ত সার বরাদ্দ এলে আমরা দিতে পারব। বিষয়টি কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধিন রয়েছে।”
সমতলের চা শিল্পে প্রতিবছরই বাড়ছে আবাদ ও উৎপাদন। তবে উৎপাদনের সাথে তাল মিলিয়ে প্রয়োজনীয় সার ও কীটনাশক সরবরাহ নিশ্চিত না হলে এর প্রভাব পড়তে পারে চা উৎপাদনে। চাষিদের প্রত্যাশা, দ্রুত সার বরাদ্দের উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে।
মন্তব্য করুন







