সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় যে কোনো পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না পাকিস্তান
সৌদি আরবে হামলা কার হলে দেশটির প্রতিরক্ষায় যে কোনো পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না পাকিস্তান। সৌদি আরবের নিরাপত্তা এবং পবিত্র দুই মসজিদের সুরক্ষায় প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার আরব নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন (১৮ সেপ্টেম্বর) জানায়, সৌদি আরবের নিরাপত্তায় পাকিস্তান ‘নিঃশর্ত’ প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছে । আহমেদ শরীফ জানান যে, পাকিস্তান সব দিক থেকেই সৌদি আরবের প্রতি তার পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে। কূটনৈতিক সমর্থন থেকে শুরু করে প্রয়োজনে সরাসরি পাশে দাঁড়াবে বলে জানান আইএসপিআর মহাপরিচালক।
আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, ‘পবিত্র দুই মসজিদ ও সৌদি আরবের রাজ্যের নিরাপত্তার জন্য আমরা যে কোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। আমাদের সৌদি ভাইয়েরা যতটুকু চাইবেন এবং প্রয়োজন হবে, আমরা ততটুকুই করব।’
সৌদি আরবের প্রতি পাকিস্তানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, পাকিস্তানের জনগণ সৌদি ভাই-বোনদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসন প্রতিহত করতে পাকিস্তান পাশে থাকবে এবং এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়।
তিনি বলেন, ‘সংক্ষেপে বলতে গেলে, আমরা সেখানে আছি এবং সৌদি আরবের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসন প্রতিহত করতে আমরা সেখানে থাকব।’
পাকিস্তানের নেতৃত্বের কূটনৈতিক তৎপরতার বিষয়টিও তুলে ধরেন আইএসপিআর মহাপরিচালক। তিনি বলেন, অন্যান্য আঞ্চলিক দেশ ও অংশীদারদের সহায়তায় জটিল পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে পাকিস্তান। দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব সৌদি আরবের নেতৃত্বের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং দুই দেশের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের প্রতি পাকিস্তানের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, ইসলামাবাদ শুধু প্রতিশ্রুতিবদ্ধই নয়, পবিত্র দুই মসজিদ ও সৌদি আরবের সুরক্ষায় ইতোমধ্যে সেখানে রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সুরক্ষায় সেখানে আছি। সৌদি নেতৃত্ব ও জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা আরো যে কোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।’
সৌদি নিরাপত্তায় পাকিস্তানের অঙ্গীকারকে ‘নিঃশর্ত’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশের জনগণ এবং রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে ঐতিহাসিক, গভীর ও আবেগপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ক অটুট এবং তা থেকেই সৌদি নিরাপত্তার প্রতি পাকিস্তানের প্রতিশ্রুতি তৈরি হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের থামানোর মতো কিছু নেই, কোনো বাধা নেই। আমাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কোনো দ্বিধা নেই। যা প্রয়োজন হবে, যা চাওয়া হবে, আমরা তার জন্য যে কোনো পদক্ষেপ নিতে পিছপা হব না।’
আরও পড়ুনপাকিস্তান বর্তমানে সৌদি আরবে সরাসরি উপস্থিত রয়েছে কি না—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সেখানে আছি—এ কথা বলার পর শব্দগুলো নিজেরাই সবকিছু পরিষ্কার করে দেয়।’
পাকিস্তান পররাষ্ট্র দফতরের বক্তব্য
সৌদি আরবের সাথে কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রতি পাকিস্তানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটির পররাষ্ট্র দফতর।
সৌদি আরবের ওপর হামলা হলে মক্কা চুক্তির আওতায় পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়ার জন্য কোনো ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান বলেন, উভয় চুক্তি বাস্তবায়নে পাকিস্তান ‘উদ্দেশ্য ও চেতনার দিক থেকে’ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তবে শক্তি প্রয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া একটি সামরিক কার্যক্রমসংক্রান্ত বিষয় বলে জানান তিনি। সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র বলেন, কখন, কীভাবে, কোথায় এবং কোন শক্তি দিয়ে কোন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হবে, কী ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে—এসব বিষয়ে সামরিক গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে এই পর্যায়ে কিছুটা সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা বজায় রাখতে হবে।
সাজ্জাদ হায়দার খান বলেন, মক্কা চুক্তিটি প্রতিরক্ষামূলক প্রকৃতির। এটি কোনো দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয় এবং নতুন কোনো জোটও তৈরি করছে না। বরং প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও গবেষণার মতো বিদ্যমান সহযোগিতা জোরদার করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা অস্থিতিশীল করার কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলাই এর উদ্দেশ্য।
এদিকে উপসাগরীয় সংকট যাতে আরো ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। বুধবার ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সাথে টেলিফোনে কথা বলেন। সৌদি আরবের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে হাউছিদের ওপর প্রভাব কাজে লাগানোর জন্য তেহরানের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ইসলামাবাদ বারবার সংযম ও কূটনীতির আহ্বান জানিয়েছে। ১৩ সেপ্টেম্বর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে কথা বলার সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ সৌদি আরবের প্রতি সংহতি এবং উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক







_medium_1789652685.jpg)