ভিডিও বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:৩৭ এএম

বিদেশি শিক্ষার্থী-সাংবাদিকদের ভিসায় ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা আদালতে স্থগিত

বিদেশি শিক্ষার্থী-সাংবাদিকদের ভিসায় ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা আদালতে স্থগিত, সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক : যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের অবস্থানের মেয়াদ কমিয়ে আনার যে কঠোর নীতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন চালু করতে যাচ্ছিল, তা স্থগিত করে দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) নতুন এই ভিসা নীতি কার্যকর হওয়ার ঠিক একদিন আগে সোমবার ডিস্ট্রিক্ট জজ ডেনিস সেলর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করেন।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী বিদেশি শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ চার বছর থাকতে পারতেন। পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হলে এরপর আবার ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হতো। আগের নিয়মে পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা অবাধে থাকতে পারতেন। অন্যদিকে বিদেশি সাংবাদিকদের অবস্থানের মেয়াদ কমিয়ে মাত্র ২৪০ দিন বা প্রায় আট মাস করা হয়েছিল। মেয়াদ শেষে নবায়নের সুযোগ রাখা হলেও আগে তারা একসঙ্গে পাঁচ বছর পর্যন্ত থাকতে পারতেন। চীনা সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছিল। মাত্র ৯০ দিনের ভিসা এবং একই সময়ের জন্য নবায়নের সুযোগ।

বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের একটি জোট এই নীতির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে। বিচারপতি সেলর মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না করে আপাতত নতুন নিয়ম বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ২ অক্টোবর পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

স্থগিতাদেশের পর্যবেক্ষণে বিচারপতি গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন এই বিধিনিষেধের উদ্দেশ্য নিয়ে। তিনি বলেন, বর্তমান উদার কাঠামোর কারণেই কোটি কোটি বিদেশি শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে এসেছে। এর ফলে বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও প্রযুক্তিতে যুগান্তকারী গবেষণা সম্ভব হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছে এবং অভাবনীয় সাফল্য এনে দিয়েছে।

বিচারপতি আরও বলেন, চলতি পদ্ধতির ত্রুটি দূর করার চেষ্টা না করে ডিএইচএস এমন এক নীতি চাপিয়ে দিতে চেয়েছে, যা বিদেশি শিক্ষার্থী, গবেষক, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের পথ প্রায় রুদ্ধ করে দেবে। নতুন নিয়মে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন খারিজ করার ক্ষেত্রে ডিএইচএস কর্মকর্তাদের একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে আপিলের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট ও অস্পষ্ট কিছু ধারার অজুহাতে কোনো কারণ না দেখিয়ে এবং আপিলের সুযোগ না দিয়ে একজন ডিএইচএস কর্মকর্তা চাইলেই যেকোনো অ-মার্কিন নাগরিকের পড়াশোনা, গবেষণা বা শিক্ষকতা ক্যারিয়ার এক মুহূর্তে থামিয়ে দিতে পারেন।

আরও পড়ুন

সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও একই কথা। ভিসার মেয়াদ না বাড়ানো হলে তাদের প্রতিকার পাওয়ার কোনো আইনি পথ খোলা থাকবে না বলে জানান বিচারপতি। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই নিয়মের অপব্যবহারের সুযোগ অপরিসীম। বিশেষ করে যারা সরকার বা ডিএইচএস কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করবেন, তাদের ভিসা নবায়ন না হওয়ার ঝুঁকিই বেশি।

ডিএইচএস এই কড়াকড়ির পেছনে জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়েছিল। বিচারপতি সেলর সেই যুক্তিকে হাস্যকর ও অপ্রাসঙ্গিক বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তা উদ্বেগের দাবি মূলত হাতেগোনা কয়েকটি কাল্পনিক প্রসঙ্গের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান ও বৈধ নাগরিকত্বের পথ সংকুচিত করার যে কঠোর নীতি, এই ভিসা পরিবর্তন তারই একটি অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষেও যুক্তরাষ্ট্রে ১১ লাখের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এসেছে, যা বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় সর্বোচ্চ।

 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিদেশি শিক্ষার্থী-সাংবাদিকদের ভিসায় ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা আদালতে স্থগিত

ঢাবি ক্যাম্পাসে ককটেল বিস্ফোরণের প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল

দেশজুড়ে নতুন বোলারের খোঁজে বিসিবি

সরকারি চাকরিজীবীদের কাজ কিছু চুরি করা, কিছু কাজ করা: পরিবেশমন্ত্রী

ঢাবি ক্যাম্পাসে ককটেল বিস্ফোরণ

জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে বিএনপি অফিসে হামলা-ভাঙচুর, আহত ৬