ডাকসু’র সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি সরাতে ছাত্রদলের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম
ঢাবি প্রতিনিধি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় রাখা পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি সরিয়ে নিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছবি অপসারণ করা না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয় ও ডাকসু’র সংগ্রহশালায় কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ডাকসু’র নির্মিত জুলাইয়ের স্মৃতিস্তম্ভ নিয়েও পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।
আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসব দাবি জানান ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা। সাক্ষাৎ শেষে শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় ও হল শাখার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, ডাকসু’র সংগ্রহশালা বা ডাকসু ভবন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবের অংশ। সেই ডাকসু ভবনের সংগ্রহশালায় দুজন বিতর্কিত ব্যক্তির ছবি টানানো হয়েছে। এটি নৈতিকভাবে স্খলনজনিত কাজ এবং দুঃসাহসের পরিচয়। ছাত্রদল তা মুখ বুজে সহ্য করতে পারে না। তিনি বলেন, আমরা গণতান্ত্রিক ছাত্র সংগঠন হিসেবে গণতান্ত্রিকভাবেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও ডাকসু’র সভাপতির কাছে এসেছি। ডাকসু নির্বাচন বিতর্কিত হলেও আমরা সভাপতির কাছে এসেছি। অতিদ্রুত প্রশাসনিকভাবে ওই দুটি ছবি নামিয়ে ফেলার দাবি জানিয়েছি। আমরা তাকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছি। ভিসিকে বলেছি, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছবি সরানো না হলে ছাত্রদল ভিসি কার্যালয়সহ ডাকসু’র সংগ্রহশালায় কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।
আরও পড়ুনজুলাইয়ের স্মৃতি সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, ছাত্রদলসহ ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জুলাইয়ের স্মৃতি রক্ষায় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে। প্রশাসনের উদ্যোগে স্মৃতিস্তম্ভ প্রতিষ্ঠার কথা থাকলেও এর আগেই ডাকসু রাতের অন্ধকারে দুটি স্তম্ভ নির্মাণ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, একটি স্তম্ভ ডাকসু ভবন ও মধুর ক্যান্টিনের সামনে এবং অন্যটি কেন্দ্রীয় মসজিদ ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে নির্মাণ করা হয়েছে। একটি দল মহান মুক্তিযুদ্ধকে নিজেদের সম্পত্তি মনে করে। আমাদের আবেগের জায়গা জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিকে রাজনৈতিক অসাধু উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ব্যবহার করে তারা স্তম্ভ নির্মাণ করেছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশকে সংঘর্ষের দিকে নিয়ে যেতে চায়। আমরা এ বিষয়েও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রশাসন পদক্ষেপ নেবে বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছে।
এদিকে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, ভাষা আন্দোলন সংঘটিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের নেতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর একটি ছবি ডাকসু’র সংগ্রহশালায় টানিয়ে রাখা হয়েছে। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও গৌরবকে ভূলুণ্ঠিত করার পাশাপাশি শত বছরের ইতিহাসকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তিনি আরও বলেন, ছাত্রদল ডাকসু’র সভাপতির কাছে স্পষ্টভাবে জানতে চেয়েছে, এ ধরনের ধৃষ্টতা দেখানোর সাহস তারা কীভাবে পেল? ডাকসু’র এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং ছবি অপসারণে সভাপতিকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। যারা এ ধরনের কাজ করেছে, তাদের বিরুদ্ধেও প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ডাকসু’র সভাপতি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।
মন্তব্য করুন

_medium_1789373910.jpg)
_original_1789208220_medium_1789361054.jpg)
_medium_1789302173.jpg)
_medium_1789277703.jpg)
_medium_1789276735.jpg)

_medium_1789374175.jpg)
_medium_1789372783.jpg)