ভিডিও বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৭:৩৫ পিএম

বগুড়া সারিয়াকান্দির যমুনায় পালতোলা নৌকা, সাশ্রয় হচ্ছে অর্থ ও জ্বালানি তেল

বগুড়া সারিয়াকান্দির যমুনায় পালতোলা নৌকা, সাশ্রয় হচ্ছে অর্থ ও জ্বালানি তেল

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়া সারিয়াকান্দির যমুনা নদীতে দেখা মিলছে হারিয়ে যাওয়া পালতোলা নৌকার। জ্বালানি তেল ছাড়া এ নৌকা ব্যবহার করে অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নৌকার মাঝিরা। শরৎকালে নদীতে মাঝারি বাতাসে দেখা এসব পালতোলা নৌকা সাধারণত গৃহপালিত পশুর জন্য ঘাস আনতে বা হালকা জিনিসপত্র পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

শরৎকালের শুরু থেকেই যমুনা নদীতে ঝিরিঝিরি বাতাস থেকে শুরু করে মাঝারি আকারের গভীর বাতাস প্রবাহমান রয়েছে। এসব ঝিরিঝিরি বাতাসে যমুনা নদীতে দেখা মিলছে হারিয়ে যাওয়া পালতোলা নৌকার। সাধারণত সকালবেলা যমুনায় এসব নৌকা দৃষ্টিগোচর হচ্ছে এবং যমুনা নদীর সৌন্দর্য বহুগুণ বৃদ্ধি করছে। অনেকসময় গ্রামের প্রবীণরা একপলক তাকিয়ে রয়েছেন পালতোলা নৌকার দিকে।

আর হারিয়ে যাচ্ছেন পেছনে ফেলে আসা দুরন্ত শৈশবে। পালতোলা নৌকা সাধারণত ২ ধরনের হয়। একটি চারকোনাকৃতি এবং অপরটি ত্রিকোনাকৃতির। চারকোনাকৃতির পালতোলা নৌকায় ৩ টি বাঁশের ব্যবহার হয়। অপরদিকে তৃকোনাকৃতির পালতোলা নৌকায় ২ টি বাঁশের ব্যবহার হয়।

একটি বড় বাঁশ নৌকার মাঝ বরাবর খাড়া করে স্থাপন করা হয়, যেখানে মাস্তুল থাকে। মাস্তুলের সাথে আরও একটি বা দুটি বাঁশ টেনে সেখানে বিভিন্ন ধরনের রং বেরংয়ের মোটা কাপড় টানিয়ে পালতোলা নৌকা তৈরি করা হয়। সাধারণত মোটা কাপড়ে বাতাস লেগে তা নৌকাকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

নৌকার মাঝি একটি দড়ির সাহায্যে নৌকার পাল ধরে থাকেন এবং বিভিন্নভাবে বাতাস নিয়ন্ত্রণ করে নৌকা পরিচালনা করেন। যমুনা নদীতে যখন পালতোলা নৌকা চলে, তখন মনে হয় দূরে কোথাও থেকে সুন্দর বড় পাখি উড়ে আসছে। যমুনায় পালতোলা নৌকা পর্যটকদের মন কেড়েছে।

আরও পড়ুন

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, নব্বই দশকেও উপজেলার বিভিন্ন নদীতে বিভিন্ন ধরনের রং বেরংয়ের পালতোলা নৌকা দেখা যেতো। কিন্তু নব্বই দশকের পর ইঞ্জিন চালিত নৌকার প্রচলন হওয়ার পর পরই পালতোলা নৌকা হারিয়ে যেতে শুরু করে। সাধারণত বজরা, পানসি, ময়ূরপঙ্খী প্রভূতি নৌকার পালগুলো খুবই মনোহর ছিল।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের মৃত কোকা ফকিরের ছেলে ধলু ফকির বলেন, আমোদের শৈশব ও যৌবনে পালতোলা নৌকাতেই বিভিন্ন জায়গাতে এবং আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে চলাচল করতাম। তখনকার দিনে নদীতে দেখা যেতো সারি সারি পালতোলা নৌকার। এসব নৌকাগুলো দেখতে খুবই ভালো লাগতো।

ইঞ্জিন চালিত নৌকা নামার পর থেকেই এসব পালতোলা নৌকা হারিয়ে গেছে। বর্তমানে বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমি পুনরায় পালতোলা নৌকা চালানো শুরু করেছি। এতে আমাকে ইঞ্জিন ব্যবহার করতে হচ্ছে না, সর্বশক্তি দিয়ে ইঞ্জিন চালু করতে হচ্ছে না এবং অপরদিকে আমার টাকা দিয়ে তেল কিনতে হচ্ছে না।

এতে আমার অর্থের সাশ্রয় হচ্ছে। প্রতিদিন সকালে পালতোলা নৌকায় আমি যমুনা নদী পাড়ি দিয়ে আমার পালের গরু এবং ছাগলের জন্য ঘাস কাটতে চরে যাই। ঘাস কেটে আবারও পালতোলা নৌকায় বাড়ি ফিরে আসি। পালতোলা নৌকা চালানোর সময় আমার ছোটবেলার নানা ধরনের স্মৃতি মনে খেলা করে এবং ভেসে ওঠে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়া সারিয়াকান্দির যমুনায় পালতোলা নৌকা, সাশ্রয় হচ্ছে অর্থ ও জ্বালানি তেল

বগুড়ায় সংগ্রহ অভিযানে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াল ধান, সিদ্ধ চালের অগ্রগতিও শতভাগ

ভারতসহ ৩ দেশের কাছে বন্যার ক্ষতিপূরণ চায় নেপাল

বেপরোয়া হয়ে উঠছে রাশিয়া: ন্যাটো প্রধান

আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির আশা প্রতিমন্ত্রীর

টাঙ্গাইলের সখীপুরে সড়ক থেকে স্বাস্থ্য সহকারীর মরদেহ উদ্ধার