জনগণের অংশগ্রহণে সমৃদ্ধ হবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবন্ত ডিজিটাল আর্কাইভ ‘ShahidZia.org’
ছবি, ভিডিও, বক্তব্য, দলিল, সংবাদপত্রের কাটিং, ব্যক্তিগত স্মৃতি ও গবেষণা দিতে পারবেন সাধারণ মানুষও; যাচাইয়ের পর যুক্ত হবে ডিজিটাল আর্কাইভে—AI ও আধুনিক প্রযুক্তিতে নতুন প্রজন্মের জন্য তৈরি হচ্ছে সহজে অনুসন্ধানযোগ্য জ্ঞানভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম
ঢাকা: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবন, কর্ম, চিন্তা, নেতৃত্ব, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং ঐতিহাসিক অবদান সম্পর্কিত তথ্য ও উপকরণ ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে সহজে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে চালু হয়েছে ShahidZia.org। এটি একটি জনসম্পৃক্ত, জীবন্ত ডিজিটাল আর্কাইভ ও জ্ঞানভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম, যা জনগণের অবদান, গবেষণা, যাচাই এবং প্রযুক্তির সমন্বয়ে ক্রমাগত সমৃদ্ধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রচলিত কোনো স্মারক ওয়েবসাইট বা স্থির তথ্যভান্ডারের পরিবর্তে ShahidZia.org-কে এমন একটি ‘Living Archive’ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যেখানে সময়ের সঙ্গে নতুন দলিল, ছবি, ভিডিও, বক্তব্য, সংবাদপত্রের প্রতিবেদন, বই, গবেষণা, স্মৃতিচারণ ও অন্যান্য ঐতিহাসিক উপকরণ যুক্ত হতে থাকবে। এসব উপকরণকে পারস্পরিকভাবে সংযুক্ত করে ব্যবহারকারীকে কয়েকটি ক্লিকের মধ্যেই একটি বিষয় থেকে সংশ্লিষ্ট আরও তথ্য ও মূল উৎসে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
জনগণই হতে পারবেন আর্কাইভের কনট্রিবিউটর
ShahidZia.org-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য এর crowdsourced content model। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে যাঁরা ভালোবাসেন, তাঁকে কাছ থেকে দেখেছেন, তাঁর সঙ্গে কাজ করেছেন, তাঁর সম্পর্কে পড়েছেন বা গবেষণা করেছেন কিংবা তাঁর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রামাণ্য তথ্য জানেন—তাঁরা এই ডিজিটাল আর্কাইভ সমৃদ্ধ করতে সরাসরি অবদান রাখতে পারবেন।
ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তাঁদের সংগ্রহে থাকা পুরোনো ছবি, অডিও-ভিডিও, বক্তব্য, চিঠি, দলিল, সরকারি নথি, সংবাদপত্র ও সাময়িকীর কাটিং, বই বা বইয়ের তথ্য, সাক্ষাৎকার, ব্যক্তিগত স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা, গবেষণা, দুর্লভ সংগ্রহ এবং অন্যান্য ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ জমা দিতে পারবেন।
তবে crowdsourced হওয়ার অর্থ এই নয় যে জমা দেওয়া সব তথ্য সরাসরি প্রকাশিত হবে। প্রতিটি অবদান যথাযথ পর্যালোচনা, উৎস শনাক্তকরণ, প্রাসঙ্গিকতা নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে প্রকাশের জন্য বিবেচিত হবে। একই বিষয়ে একাধিক উৎস বা তথ্য পাওয়া গেলে সেগুলোও সংরক্ষণ ও তুলনামূলকভাবে উপস্থাপনের সুযোগ রাখা হবে।
ছড়িয়ে থাকা ইতিহাসকে এক জায়গায় আনার উদ্যোগ
জিয়াউর রহমান সম্পর্কিত বহু গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ এখনো বিভিন্ন ব্যক্তি ও পরিবারের ব্যক্তিগত সংগ্রহ, পুরোনো বই, লাইব্রেরি, সংবাদপত্রের আর্কাইভ, অডিও-ভিডিও সংগ্রহ কিংবা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে রয়েছে। সময়ের সঙ্গে এসব উপকরণের একটি অংশ হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
ShahidZia.org-এর লক্ষ্য হলো এসব উপকরণ অনুসন্ধান, সংগ্রহ, ডিজিটাইজ, শ্রেণিবিন্যাস এবং যথাসম্ভব উৎস ও প্রাসঙ্গিক তথ্যসহ সংরক্ষণ করা। এর ফলে একই প্ল্যাটফর্ম থেকে জিয়াউর রহমানের জীবনের বিভিন্ন সময়, বক্তব্য, রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড, নীতি ও উদ্যোগ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট উপকরণ খুঁজে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
নতুন প্রজন্মের জন্য ইতিহাস জানার নতুন অভিজ্ঞতা
তরুণ প্রজন্মের তথ্য গ্রহণের ধরন বিবেচনায় ShahidZia.org-এ শুধু দীর্ঘ লেখা বা স্থির আর্কাইভের ওপর নির্ভর না করে ভিডিও, ছবি, সংক্ষিপ্ত গল্প, ইন্টার্যাকটিভ টাইমলাইন, কুইজ, বিষয়ভিত্তিক অনুসন্ধান এবং Knowledge Journey-এর মতো ফিচার যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
একজন তরুণ হয়তো প্রথমে একটি ছোট ভিডিও দেখবেন, সেখান থেকে একটি বক্তব্যে যাবেন, বক্তব্য থেকে সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক ঘটনা, সংবাদপত্রের প্রতিবেদন বা মূল দলিল দেখবেন এবং পরে একই বিষয়ে আরও গভীরভাবে জানতে পারবেন। অর্থাৎ, ইতিহাস জানার অভিজ্ঞতাকে ‘read only’ না রেখে explore, discover and learn-ভিত্তিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
AI দিয়ে আর্কাইভের ভেতর তথ্য অনুসন্ধান
প্ল্যাটফর্মটির গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত উদ্যোগগুলোর একটি হচ্ছে Ask Zia Archive। পর্যায়ক্রমে AI ও semantic search প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর সাধারণ ভাষায় করা প্রশ্নের সঙ্গে আর্কাইভে থাকা প্রাসঙ্গিক বক্তব্য, নথি, সংবাদ, ভিডিও, গবেষণা বা অন্যান্য উপকরণের সংযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে একজন ব্যবহারকারী জিয়াউর রহমানের কৃষিবিষয়ক উদ্যোগ, যুব উন্নয়ন, অর্থনৈতিক চিন্তা, পররাষ্ট্রনীতি বা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট আর্কাইভ উপকরণ সহজে খুঁজে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
AI-কে এখানে ইতিহাসের উৎস হিসেবে নয়, বরং আর্কাইভে থাকা উৎস ও তথ্য খুঁজে পাওয়ার সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ক্ষেত্রে মূল উৎস ও রেফারেন্সে পৌঁছানোর সুযোগ রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের জন্যও রিসোর্স
ShahidZia.org-কে পর্যায়ক্রমে একটি গবেষণাসহায়ক ডিজিটাল repository হিসেবেও গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। গবেষক, লেখক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকেরা যেন বিষয়, সময়কাল, কনটেন্টের ধরন এবং উৎস অনুযায়ী তথ্য অনুসন্ধান করতে পারেন—সেই লক্ষ্যে metadata, tagging, citation এবং cross-referencing ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ রয়েছে।
আরও পড়ুনএকটি নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বক্তব্য, ছবি, ভিডিও, সংবাদপত্রের প্রতিবেদন, সরকারি নথি ও গবেষণাকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে একই বিষয়কে বিভিন্ন উৎসের আলোকে অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি হবে।
কনট্রিবিউটরদের স্বীকৃতি ও সম্মানীর পরিকল্পনা
প্ল্যাটফর্মটিকে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণে গড়ে তুলতে কনট্রিবিউটরদের অবদান মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যবস্থাও পরিকল্পনায় রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ও যাচাইকৃত কনটেন্ট, দুর্লভ আর্কাইভ উপকরণ, গবেষণা কিংবা অন্যান্য মূল্যবান অবদানের জন্য Knowledge Points, Contributor Recognition ও বিভিন্ন ধরনের স্বীকৃতির পাশাপাশি ভবিষ্যতে মূল্যায়নভিত্তিক সম্মানী দেওয়ার ব্যবস্থাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
এ ক্ষেত্রে শুধু বেশি সংখ্যক কনটেন্ট জমা দেওয়ার পরিবর্তে উপকরণের সত্যতা, বিরলতা, ঐতিহাসিক গুরুত্ব, গবেষণামূল্য ও ব্যবহারযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
জনগণের পৃষ্ঠপোষকতায় আর্কাইভ সংরক্ষণের পরিকল্পনা
ShahidZia.org-এর দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের জন্য একটি স্বচ্ছ crowdfunding ও patron model তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। আগ্রহী ব্যক্তি ও শুভানুধ্যায়ীরা ডিজিটাল আর্কাইভ সংরক্ষণ, পুরোনো উপকরণ digitization, গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং contributor honorarium-এ আর্থিক সহযোগিতা করতে পারবেন।
পরবর্তী পর্যায়ে প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনুমোদিত পদ্ধতিতে আর্থিক সহযোগিতা গ্রহণ এবং যোগ্য কনট্রিবিউটরদের অর্জিত সম্মানী মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রদানের ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থ সংগ্রহ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, হিসাব সংরক্ষণ এবং প্রযোজ্য আইন ও আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
আর্কাইভের বিশ্বাসযোগ্যতাই হবে মূল ভিত্তি
একটি ঐতিহাসিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা। এ কারণে ShahidZia.org-এর জন্য ShahidZia Digital Legacy Framework (SDLF) নামে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা কর্তৃপক্ষ চাইলে, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের অধীনে পরিচালিত হতে পারে।
এই কাঠামোর আওতায় Historical Integrity, Vision, Governance, Content, Research, Archive, Artificial Intelligence, Community, Technology, Sustainability এবং Growth—এই প্রধান ক্ষেত্রগুলোর জন্য পৃথক নীতি ও কার্যপদ্ধতি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
কনটেন্টের উৎস, যাচাইয়ের অবস্থা, সংশোধনের ইতিহাস, কপিরাইট, গবেষণার রেফারেন্স এবং AI ব্যবহারের নীতিমালাকে পর্যায়ক্রমে এই কাঠামোর আওতায় আনা হবে।
একটি ‘Living Archive’
ShahidZia.org-এর ধারণার কেন্দ্রে রয়েছে একটি সহজ দর্শন—ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ শুধু সংরক্ষণ করাই যথেষ্ট নয়; সেগুলোকে খুঁজে পাওয়া, বোঝা, যাচাই করা, গবেষণায় ব্যবহার করা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে সহজভাবে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও প্রয়োজন।
এ কারণেই প্ল্যাটফর্মটিকে একটি Crowdsourced Living Digital Archive & Knowledge Platform হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এখানে সাধারণ দর্শক শুধু পাঠক বা দর্শক হয়ে থাকবেন না। কারও ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকা একটি পুরোনো ছবি, কারও সংরক্ষণে থাকা একটি সংবাদপত্র, কোনো প্রত্যক্ষদর্শীর স্মৃতি, কোনো গবেষকের অনুসন্ধান কিংবা কোনো পরিবারের কাছে কয়েক দশক ধরে সংরক্ষিত একটি দলিল—যাচাই ও যথাযথ সংরক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।
এই সম্মিলিত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই ShahidZia.org-কে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবন, কর্ম, চিন্তা ও ঐতিহাসিক অবদান সম্পর্কে একটি ক্রমবর্ধমান, অনুসন্ধানযোগ্য এবং প্রামাণ্য ডিজিটাল জ্ঞানভান্ডার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।
ওয়েবসাইট: ShahidZia.org
মন্তব্য করুন
জনগণের অংশগ্রহণে সমৃদ্ধ হবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবন্ত ডিজিটাল আর্কাইভ ‘ShahidZia.org’
স্বদেশী ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠান বিএসআইসি’র প্রথম ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেলেন ওয়াইজ রহিম





_medium_1787232225.jpg)

_medium_1787222064.jpg)
_medium_1787230064.jpg)
_medium_1787220105.jpg)