কবি শামসুর রাহমানের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান কবি, নাগরিক জীবনের রূপকার ও প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর শামসুর রাহমানের ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৬ সালের এই দিনে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর দুই দশক পেরিয়ে গেলেও তার কবিতার আবেদন এতটুকু ম্লান হয়নি; বরং সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে তা নতুন অর্থে পাঠকের কাছে ফিরে এসেছে।
স্বাধীনতা, মর্যাদা, প্রেম ও প্রতিবাদের যে কথা তাঁর কবিতা বলে, তা আজও বাংলাদেশের নাগরিক চেতনা ও মুক্তির স্বপ্নের এক দীর্ঘস্থায়ী কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রাসঙ্গিক।
১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন এই বরেণ্য কবি। পোগোজ স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ঢাকা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাসের পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে অধ্যয়ন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি কবিতার প্রতি গভীরভাবে মনোনিবেশ করেন। কালক্রমে কবিতাই হয়ে ওঠে তাঁর জীবন ও সমাজকে দেখার প্রধান জানালা।
শুধু প্রেম বা প্রকৃতি নয়, বাঙালির জাতীয় জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তাঁর কবিতায় নিখুঁতভাবে মূর্ত হয়েছে।১৯৬৮ সালের দিকে পাকিস্তানের সব ভাষার জন্য অভিন্ন হরফ চালুর প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ৪১ জন কবি, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক ও সংস্কৃতিকর্মীর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে প্রতিবাদ করেন শামসুর রাহমান। বাংলা ভাষার ওপর এই আগ্রাসনের ক্ষোভ থেকে জন্ম নেয় তাঁর মর্মস্পর্শী কবিতা ‘বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা’।
১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের উত্তাল সময়ে শহীদ আসাদের রক্তমাখা শার্ট তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়, যার ফলে তিনি রচনা করেন কালজয়ী কবিতা ‘আসাদের শার্ট’। ব্যক্তির মৃত্যুকে তিনি সামষ্টিক প্রতিরোধের শক্তিতে রূপান্তরিত করেছিলেন এই কবিতায়।
আরও পড়ুন১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ তাঁর কবিসত্তাকে আরো গভীরভাবে বদলে দেয়। যুদ্ধের সময় নরসিংদীর পাড়াতলী গ্রামে অবস্থানকালে তিনি রচনা করেন ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে হে স্বাধীনতা’-এর মতো অমর কবিতা। রক্তস্নাত বাংলাদেশের ইতিহাস, অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে তাঁর কবিতা যেভাবে ধারণ করেছে, তা বাংলা সাহিত্যে বিরল।
দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে কবিতা ছাড়াও তিনি লিখেছেন ছড়া, উপন্যাস, প্রবন্ধ, স্মৃতিকথা ও অনুবাদ। সাংবাদিকতা পেশায়ও তিনি রেখে গেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’, ‘রৌদ্র করোটিতে’, ‘বিধ্বস্ত নীলিমা’, ‘নিজ বাসভূমে’ ও ‘বন্দী শিবির থেকে’।
বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কারসহ দেশ-বিদেশের অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক
_medium_1786949877.jpg)
_medium_1786949579.jpg)

_medium_1786945304.jpg)
_medium_1786942015.jpg)
_medium_1786941264.jpg)
_medium_1786950862.jpg)
_medium_1786943518.jpg)
