সৌদি আরবে দগ্ধ হয়ে নিহত নাটোরের ৩ রেমিটেন্স যোদ্ধা বাড়িতে শোকের মাতম
নাটোর প্রতিনিধি: সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা কারখানায় আগুনে দগ্ধ হয়ে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার তিন রেমিটেন্স যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এমন খবরের পর পরিবার গুলোতে চলছে শোকের মাতম। মরদেহগুলো দ্রুত পরিবারের কাছে হস্তান্তরসহ ক্ষতিপূরণের দাবি স্বজনদের। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আশ্বাস জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের।
জানা যায়, নিহত রেমিটেন্স যোদ্ধার মধ্যে শামিম সাত মাস আগে দেশ থেকে সৌদি আরব যায়। অপর দু’জন হৃদয় ৫ বছর আগে ও তিন বছর আগে সাব্বির হোসেন সৌদি আরব গমন করে। অতি সাধারণ কৃষক পরিবারের এসব সন্তানেরা মানুষের কাছ থেকে ধারদেনা করে বিদেশ যায়। এখনো তাদের সেসব ঋণ পরিশোধ হয়নি। তাদের ব্যাংক এবং এনজিওতেও ঋণ রয়েছে।
নিহত শামীমের স্ত্রী মিতু খাতুন বিলাপ করতে করতে জানান, ৪০ দিন বয়সি সন্তান নিয়ে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কিভাবে দিন কাটাবেন বুঝতে পারছেন না।’ শামীমের পিতা জাকির হোসেন জানান, একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়েছেন। দেনা শোধ করবেন কি দিয়ে তা ভাবতেই দম বন্ধ হয়ে আসছে। শামিমের বন্ধু সাজেদুর রহমান বলেন, শামিম ভালো ছেলে ছিল। তার সাথে অনেক স্মৃতি রয়েছে। শামিম মারা গেছে মনে হলেই কান্নায় বুক ফেটে যাচ্ছে।
হৃদয়ের চাচা আলিফ হোসেন বলেন, দুইদিন আগে হৃদয়ের সাথে কথা হয়েছে। সে এবছরের শেষের দিকে দেশে আসবে। বাড়ি তৈরি করে বিয়ে করবে। কিন্তু সব শেষে হয়ে গেল। সাব্বিরের চাচাতো বোন আয়েশা আক্তার বলেন, সাব্বিরের সাথে রোববার মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে। নিজের ভাইয়ের চেয়েও ভালো সম্পর্ক ছিল সাব্বিরের সাথে। নিয়মিত খোঁজ খবর নিত। এখন আর খোঁজ নেয়ার কেউ রইলো না।
আরও পড়ুনখাজুরা ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বলেন, অতি সাধারণ কৃষক পরিবারের এসব সন্তানেরা মানুষের কাছ থেকে ধারদেনা করেই বিদেশ যায়। এখনো তাদের সেসব ঋণ শোধ হয়নি। তাদের ব্যাংক এবং এনজিওতে ঋণ রয়েছে। সরকারের কাছে তিনি এসব ঋণ মওকুফ করার দাবি জানান।
নাটোর জেলা প্রশাসক আসমা শাহিন বলেন, ঘটনাটি জানার সাথে সাথে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে খোঁজখবর নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মৃতদেহগুলো দ্রুত দেশে আনতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। সেসাথে নিহতদের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
খাজুরা ইউনিয়নে নিহতরা হলেন- খাজুরা শ্রীপুরপাড়া এলাকার গোলাম রাব্বানীর ছেলে সাব্বির হোসেন শুভ (২৯), দীঘিরপাড় এলাকার জাকের হোসেনের ছেলে শামীম হোসেন (৩০) এবং মহিষডাঙ্গা এলাকার আসলাম আলীর ছেলে রবিউল আওয়াল হৃদয় (২৮)।
মন্তব্য করুন







