বগুড়ার উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা : তিন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণা
স্টাফ রিপোর্টার : শিল্প উদ্যোক্তাদের চাহিদার প্রেক্ষিতে শিল্পের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ৪০০ একর জমিতে বিসিক শিল্পপার্ক, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, বগুড়ায় বহুমাত্রিক বিশ্ববিদ্যালয়, শহরের রেললাইনের ওপর ওভারপাস নির্মাণ, সড়ক জোন স্থাপন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ, ফুটবল স্টেডিয়ামসহ স্পোর্টস ভিলেজ স্থাপন, এবং করতোয়া নদীর পুনর্যৌবন ফিরে আনা থেকে শুরু করে একের পর এক উন্নয়ন পরিকল্পনার ঘোষণা করা হয়েছে। একই সাথে বৈষম্য ও অবহেলা কাটিয়ে বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের ন্যায্য উন্নয়ন নিশ্চিত করার প্রত্যয় জানিয়েছেন সরকারের তিন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী।
# ৪০০ একর জমিতে বিসিক শিল্পপার্ক
# বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
# শহরের রেললাইনের ওপর ওভারপাস নির্মাণ
# বগুড়া সড়ক জোন উদ্বোধন হয়েছে
# জানুয়ারিতে বগুড়া বিমানবন্দরে ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ
# ফুটবল স্টেডিয়ামসহ স্পোর্টস ভিলেজ স্থাপন
# করতোয়া নদীর পুনর্যৌবন ফিরে আনা হবে
# শাকপালা পার্কের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন
আজ শনিবার (৮ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১ টায় বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের অভিষেক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা তিন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী তাদের বক্তব্যে এসব উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা উঠে আসে।
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বক্তব্যে বগুড়ার ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। বগুড়ায় অতিরিক্ত কিছু নয় গত ২০ বছরের না পাওয়ার বঞ্চনা থেকে মুক্ত হয়ে উন্নয়নের পথে সামিল হবে বগুড়া।
বগুড়ার মমইন কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি। তিনি বলেন, ‘আমাদের জরিপে বগুড়ার শিল্পের উন্নয়নে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু সেই চাহিদা অনুযায়ী বগুড়ার তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। এর প্রেক্ষিতে বগুড়ায় ৪০০ একর জমির ওপর বিসিক শিল্পপার্ক তৈরি করা হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘বগুড়া আমাদের সবার আবেগের কেন্দ্র। এ অঞ্চলের শিল্প ও ব্যবসার যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা কাজে লাগাতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।’ তিনি বলেন বগুড়া লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পে আগামী দিনে নেতৃত্ব দিবে।
শিল্প কারখানায় গ্যাস বিদ্যুৎ যাতে সহজলভ্য হয় এবং পন্যের কস্টিং যাতে কম হয় তা নিয়ে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন শিল্পখাতে ঋণ যাতে ৬ থেকে ৭ শতাংশ হারে হয় তা করার চেষ্টা থাকবে। মন্ত্রী বলেন, কি ধরনের শিল্প করবেন তার তথ্য ও কারিগরি সহায়তা করা হবে। যাতে ব্যবসায় লোকসান না হয়।
এর আগে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেল এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলাম। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বগুড়া বাংলাদেশের রাজনীতিকে সমৃদ্ধ করেছে। জাতীয়তাবাদের জনক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বগুড়ার সন্তান। দেশ গঠনে তার অবদান কোনোদিন ভোলার নয়। বগুড়ার কাছে এজন্য পুরো দেশ কৃতজ্ঞ থাকতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘গত ২০ বছর বগুড়া বঞ্চিত হয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। অথচ বগুড়ার মানুষ দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। এ অঞ্চলের মানুষ পরিশ্রমী ও সৎ। জাতীয় অগ্রগতির স্বার্থেই বগুড়ার উন্নয়ন করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন বগুড়ার উন্নয়ন আঞ্চলিক নয় বগুড়ার উন্নয়ন মানেই জাতীয় উন্নয়ন। দেশের মানুষ এখন দেশের উন্নয়নের দায়ীত্ব দিয়েছেন বগুড়ার মানুষকে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি বগুড়ার উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বগুড়া খাদ্য উদ্বৃত্ত একটি জেলা। বগুড়ায় উৎপাদিত পণ্য প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বাজার তৈরি করে পুরো দেশ ও বিদেশে যায়। অথচ এতদিন আমরা অবহেলিত ছিলাম।
আরও পড়ুনবৈষম্যহীন বাংলাদেশে বগুড়ার ঘাটতি পূরণ করে ন্যায্যতার ভিত্তিতে উন্নয়ন করা হচ্ছে।’ তিনি বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নিয়ে বলেন, ‘আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।’ বগুড়া বিমানবন্দর নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে যেন অন্তত অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান বন্দরটি চালু করা যায়, সে চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন বগুড়া-নওগাঁসড়ক, মোকামতলা থেকে জয়পুর হাট সড়ক ৬ লেনে উন্নিত করা হবে। বনানী ও মাটিডালী এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে হবে। মোকামতলা ও গাবতলীতে বাইপাস সড়ক হবে। বগুড়ায় নতুন করে কিছু নয়। বিগত ২০ বছর যা পাওয়ার ছিলো তা পাইনি তা পাওয়া আমাদের ন্যায্য অধিকার। বগুড়ার উন্নয়নের স্বার্থে এক বিন্দুও ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি জানান, আগামী মাস থেকে ড্রোন তৈরির কারখানার কাজও শুরু হবে। বগুড়া শহরের যানজট নিরসনে রেললাইনের ওপর ওভারপাস নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। বলেন, ‘বগুড়া শহরের রেললাইনের ওপর দিয়ে ওভারপাস নির্মাণ করা হবে।
এতে শহরের যানজট অনেকটাই কমে আসবে। করতোয়া নদীর প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, ‘সরকারের উদ্যোগে একসময়ের খরস্রোতা করতোয়া নদীতে আবারও প্রাণ ফিরে আসছে।’করতোয়া নদীকে নিয়ে মহা পরিকল্পনা রয়েছে।
ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বগুড়ার তিনমাথায় ক্রীড়াগ্রাম নির্মাণ করা হবে। সেখানে আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল স্টেডিয়ামসহ ক্রীড়ার প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে। ’বগুড়ার ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বগুড়ার সঙ্গে গোপালগঞ্জের তুলনা চলে না।
বগুড়ার ওপর দিয়ে ১৩টি জেলার মানুষ যাতায়াত করে। কৃষি, শিল্পসহ সবদিক থেকেই বগুড়া সমৃদ্ধ। গত ২০ বছর বগুড়াকে নানাভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে। বগুড়ার নাম শুনলেই গত ২০ বছর নানা অবহেলা করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন, বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টন, বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুহিত তালুকদার, বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ, বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, টিএমএসএসের নির্বাহী পরিচালক ড. হোসনে আরা বেগম এবং বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহসভাপতি এড. হামিদুল হক চৌধুরী হিরু।
বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আতিকুর রহমান বাদলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অভিষেক অনুষ্ঠানে বিসিবি‘র পরিচালক আসিফ গোলাম রব্বানী, দৈনিক করতোয়া সম্পাদক মোজাম্মেল হকসহব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা, রাজনৈতিক নেতা, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন







