বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে লোডশেডিংয়ের সাথে ভ্যাপসা গরমে বিপর্যস্ত জনজীবন
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়া সারিয়াকান্দিতে গত কয়েকদিন ধরেই ভ্যাপসা গরম। এর সাথে যোগ হয়েছে তীব্র লোডশেডিং। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পগেছে গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ চায় গ্রামের সাধারণ জনগণ।
শেষ রাতের দিকে একটু হালকা বাতাসে শীতল আবহাওয়া বিরাজমান থাকলেও গত কয়েকদিন ধরেই সারিয়াকান্দিতে দিনে এবং রাতে ভ্যাপসা গরম বিরাজমান রয়েছে। কখনো হালকা বৃষ্টিপাত হলেও গরম পিছু সারছে না। ভ্যাপসা গরমের সাথে যুক্ত হয়েছে দিনে ও রাতে তীব্র লোডশেডিং।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের পারতিত পরল গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দার সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকালে বিদ্যুৎ ৬ থেকে ৭ বার চলে গেছে। বিকালে বা সন্ধ্যার পর পরই বিদ্যুৎ হয়ে যায় সোনার হরিণ।
দুই এক ঘণ্টা পর একবার বিদ্যুৎ আসলে তা মাত্র ৩০ মিনিট বা ১৫ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হয়। রাত ৯টার দিকে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর একেবারেই আর আসার কোনও নাম করেনি। সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও বিদ্যুৎ না আসায় হাসফাঁস করতে করতে বাসিন্দারা ঘুমিয়ে পড়েন। পরে ঘুমের ঘোরে কখন বিদ্যুৎ এসেছে তা বোধগম্য হয়নি। তারপর আবারও চলে গেছে।
এদিকে ঘনঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে অনেকের বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতির ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পাড়ছেন না। রাতে কোথাও কোথাও গরমে শিশুদের চিৎকার চেঁচামেচি শোনা যাচ্ছে। অনেক রাত পর্যন্ত গ্রামের বাসিন্দারা ঘরের বাইরে গল্প গুজব করে সময় পার করছেন, তারা ঠিকমতো ঘুমাতে পাড়ছেন না।
আরও পড়ুনব্যাটারিচালিত বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে ঠিকমতো চার্জ দিতে পাড়ছেন না। আধুনিক গ্রামগুলোকে আগের যুগের সেই ভুতুড়ে গ্রাম বলেই মনে হচ্ছে। বিদ্যুৎ নির্ভর দোকানীরা তাদের পণ্য ঠিকমতো ডেলিভারি দিতে পাড়ছেন না। বিদ্যুৎবিহীন মার্কেটে গুমোট গরমে জনজীবনে অস্বস্তি নেমে এসেছে। এমতাবস্থায় লোডশেডিংজনিত এসব সমস্যার সমাধান থেকে মুক্তি পেতে গ্রামে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ চান এলাকাবাসী।
বগুড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর সারিয়াকান্দি জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আব্দুর রহমান বলেন, আমার উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ১১ থেকে সাড়ে ১১ মেগাওয়াট। সেখানে আমি সরবরাহ পাচ্ছি মাত্র ৪ মেগাওয়াট।
তাই বাধ্য হয়েই লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। কখনো জাতীয় গ্রিড থেকে আমাদের একেবারেই বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী সঠিক পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ পেলে লোডশেডিং আর থাকবে না এবং গ্রাহকরা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ পাবেন।
মন্তব্য করুন







