দেশজুড়ে সাড়া ফেলেছে নওগাঁর লেমন গ্রাস চা পাতা
নবির উদ্দিন, নওগাঁ: লেমন গ্রাস থেকে চা পাতা তৈরি করে ইতোমধ্যেই দেশজুড়ে সাড়া ফেলেছেন নওগাঁর সীমান্তবর্তী উপজেলা সাপাহারের কৃষি উদ্যোক্তা মো. সোহেল রানা। বর্তমানে তিনি তার বরেন্দ্র এগ্রো পার্কে বাণিজ্যিকভাবে বিদেশি লেমন গ্রাসের চাষ এবং তা থেকে তৈরি চা পাতা বাজারজাতকরণ শুরু করেছেন। যা স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
চা পাতা নিতে আসা নওগাঁ শহরের মাহমুদ রেজা জানান, তিনি সংবাদ মাধ্যমে এই লেমন গ্রাসের চায়ের কথা জেনেছেন। তাই নিজেই এসেছেন বরেন্দ্র এগ্রো পার্কে ঘাসের চায়ের স্বাদ নিতে। চা খেয়ে মুগ্ধ হয়ে বেশকিছু পরিমাণ লেমন গ্রাসের চা পাতা বাসার জন্য নিয়েছেন। আরেক ক্রেতা পরেশ কুমার জানান, উৎপাদন প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে এই চা। তবে এটি যদি বাজারে সহজভাবে পাওয়া যেতো তাহলে অনেক সাধারণ ক্রেতাদের জন্যও অনেক ভালো হতো।
বরেন্দ্র এগ্রো পার্কের স্বত্বাধিকারী ও কৃষি উদ্যোক্তা মো. সোহেল রানা জানান, তিনি প্রথম বিদেশ সফরে গিয়ে জানতে পারেন এই লেমন গ্রাসের বিষয়ে। পরে এর উৎপাদন ও চা হিসেবে প্রক্রিয়াজাতকরণের বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালে ঢাকার একটি হর্টিকালচার থেকে লেমন গ্রাসের চারা সংগ্রহ করেন এবং নিজ বাড়ির বাগানে এর চাষ করে প্রাথমিকভাবে চা পাতা তৈরির কাজ শুরু করেন।
এরপর ইউটিউব ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ থেকে শেখা পরিচর্যায় এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন লেমন গ্রাস। গাছ থেকে পাতা সংগ্রহ করে তা প্রাকৃতিক উপায়ে একটি বিশেষ গরম ঘরের স্মার্ট ড্রয়ারে শুকিয়ে চা এর প্রধান উপকরণ সংগ্রহ করছেন। বর্তমানে দেশের একটি বহুজাতিক কোম্পানির মাধ্যমে তা বাজারজাত করছেন তিনি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনজুর রহমান জানান, লেমন গ্রাস মূলত জনপ্রিয় একটি বিদেশি ঘাস জাতীয় সবজি। এটি দেখতে ধানগাছের মতো হলেও পাতা একটু চওড়া, লম্বা আর সূচালো। পাতা হাতে ঘষতেই ভেসে আসে টাটকা লেবুর সুবাস। এই সুগন্ধি পাতাই এখন রূপ নিচ্ছে স্বাস্থ্যকর চা পাতাতে। সম্পন্ন প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি এই চা পাতার এক কাপ চায়ে মেলে লেবুর স্বাদ, সুবাস আর একাধিক ভেষজগুণ।
আরও পড়ুনতিনি আরও জানান, একবার চারা লাগালেই গোড়া থেকে নতুন পাতা গজিয়ে বারবার ফলন দেয় লেমন গ্রাস। খুব বেশি রাসায়নিক সারও লাগে না। তাই কম খরচে লাভজনক চাষের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর পানীয়ের নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে এই সুগন্ধি ঘাস।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, উত্তরের খাদ্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত নওগাঁ এখন শুধু ধান চাষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। জেলায় প্রতিনিয়তই বিভিন্ন লাভজনক বিদেশি ফসল চাষের বিস্তার হচ্ছে। তার মধ্যে লেমন গ্রাস অন্যতম।
দেশি-বিদেশি বড় বড় ব্যবসায়ীদের নওগাঁয় উৎপাদিত পণ্যের প্রতি দৃষ্টি আর্কষণ করতে জেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। তাই লেমন গ্রাস থেকে তৈরি চা জেলাসহ পুরো দেশে ছড়িয়ে দিতে বদ্ধ পরিকর জেলা প্রশাসন।
মন্তব্য করুন







