ভিডিও সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রকাশ : ২৭ জুলাই, ২০২৬ ০৮:১১ পিএম

অন্যের অপমান দেখতে ভালো লাগে? জেনে নিন কারণ

অন্যের অপমান দেখতে ভালো লাগে? জেনে নিন কারণ

অফিসে বস একজন সহকর্মীকে বকছেন। আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সবার মুখে উদ্বেগের ছাপ নেই; বরং কারো কারো ঠোঁটের কোণে ফুটে ওঠে অদ্ভুত এক তৃপ্তির হাসি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তারকার কেলেঙ্কারি প্রকাশ পেলেই মিমের বন্যা বইতে শুরু করে। আবার কোনো ক্ষমতাবান ব্যক্তি বিপদে পড়লে অনেকেই মনে মনে স্বস্তি অনুভব করেন। কেন এমন হয়?

মনোবিজ্ঞানে এই অনুভূতির একটি নির্দিষ্ট নাম আছে-শ্যাডেনফ্রয়ডে। জার্মান শব্দ শ্যাডন অর্থ ক্ষতি বা দুঃখ এবং ফ্রয়ডা অর্থ আনন্দ। অর্থাৎ অন্যের দুর্ভাগ্য বা ব্যর্থতা দেখে মনে মনে আনন্দ পাওয়া। শুনতে অস্বস্তিকর লাগলেও মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি মানুষের এক জটিল কিন্তু স্বাভাবিক সামাজিক আবেগ।

যে কারণে অন্যের ব্যর্থতায় ভালো লাগে

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের মস্তিষ্ক স্বভাবতই নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করে। যখন নিজের চেয়ে বেশি সফল, জনপ্রিয় বা ক্ষমতাবান কাউকে হোঁচট খেতে দেখা যায়, তখন অবচেতনে মনে হতে পারে নিজের অবস্থান কিছুটা নিরাপদ হয়েছে। এতে সাময়িক আত্মতৃপ্তি তৈরি হয়।

যাদের আত্মমর্যাদা বা আত্মবিশ্বাস তুলনামূলক কম, তাদের মধ্যে এই অনুভূতি বেশি দেখা যেতে পারে। অন্যের পতন তখন নিজের অপূর্ণতা বা ব্যর্থতাকে কিছু সময়ের জন্য আড়াল করে দেয়।

সামাজিক তুলনার ফাঁদ

আমরা প্রতিদিনই সচেতন বা অবচেতনভাবে অন্যের সঙ্গে নিজের জীবন, আয়, সাফল্য কিংবা জনপ্রিয়তার তুলনা করি। এই তুলনার ফলেই অনেক সময় অন্যের বিপর্যয়কে নিজের জন্য এক ধরনের মানসিক স্বস্তি হিসেবে দেখা শুরু হয়। বিশেষ করে প্রতিযোগিতামূলক কর্মক্ষেত্রে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হতে পারে। কোনো সহকর্মী ব্যর্থ হলে মনে হতে পারে নিজের মূল্যায়নের সুযোগ বেড়ে গেল।

সব শ্যাডেনফ্রয়ডে কি খারাপ?

সব ক্ষেত্রে এই অনুভূতি নেতিবাচক নয়। কোনো দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি শাস্তি পেলে বা দীর্ঘদিন অন্যায় করা কেউ আইনের মুখোমুখি হলে মানুষ অনেক সময় স্বস্তি অনুভব করে। একে অনেকেই ‘পোয়েটিক জাস্টিস’ বা ন্যায়বিচারের অনুভূতি হিসেবে দেখেন।

তবে যখন এই আনন্দ কেবল অন্যকে ছোট করা, অপমান করা বা কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রকাশ পায়, তখন সেটি সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, শ্যাডেনফ্রয়ডে কোনো মানসিক রোগ নয়। বিবর্তনবাদীদের মতে, আদিম যুগে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর দুর্বলতা নিজের দলের টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়াত। সেই মানসিক প্রবণতার কিছু অংশ এখনো মানুষের মধ্যে রয়ে গেছে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রথম অনুভূতিটি নয়; বরং সেই অনুভূতির পর আপনি কী করেন। অন্যের কষ্টে আনন্দকে উৎসাহ দেন, নাকি সহানুভূতি দেখান-সেখানেই ব্যক্তিত্বের পরিচয়।

যেভাবে এই অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করবেন-

সহানুভূতি চর্চা করুন

অন্যের বিপদ বা ব্যর্থতায় আনন্দ পাওয়ার বদলে একবার ভাবুন, আপনি যদি তার জায়গায় থাকতেন তাহলে কেমন অনুভব করতেন। নিজেকে অন্যের অবস্থানে কল্পনা করার অভ্যাস সহানুভূতি বাড়ায় এবং নেতিবাচক আবেগ কমাতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন

অন্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করা কমান

প্রতিনিয়ত অন্যের সাফল্য বা ব্যর্থতার সঙ্গে নিজের জীবন মেলালে অজান্তেই ঈর্ষা ও শ্যাডেনফ্রয়ডের মতো অনুভূতি জন্ম নিতে পারে। মনে রাখুন, প্রত্যেক মানুষের জীবন ও সাফল্যের পথ আলাদা।

নিজের অনুভূতি চিনে নিন

কারো দুর্ভাগ্যে মনে যদি সাময়িক আনন্দের অনুভূতি আসে, নিজেকে দোষারোপ না করে সেটি স্বীকার করুন। এরপর সচেতনভাবে নিজেকে প্রশ্ন করুন-‘আমি কি আরও মানবিকভাবে বিষয়টি দেখতে পারি?’ এই আত্মউপলব্ধিই ধীরে ধীরে ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তোলে।

মনকে গঠনমূলক কাজে ব্যস্ত রাখুন

নেতিবাচক চিন্তায় আটকে না থেকে বই পড়া, ব্যায়াম, নতুন কোনো দক্ষতা শেখা বা সৃজনশীল কাজে সময় দিন। নিজের উন্নতির দিকে মনোযোগ দিলে অন্যের ব্যর্থতা নিয়ে ভাবার প্রবণতাও কমে যায়।

কৃতজ্ঞতার অভ্যাস গড়ে তুলুন

নিজের জীবনের ভালো দিকগুলো নিয়ে সন্তুষ্ট থাকার চেষ্টা করুন। অন্যের খারাপ অবস্থাকে নিজের সাফল্য হিসেবে না দেখে, নিজের অর্জন ও প্রাপ্তির জন্য কৃতজ্ঞ থাকুন। কৃতজ্ঞতা মানুষের মধ্যে ইতিবাচকতা ও মানসিক স্থিতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

যদি দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিজ্ঞতার কারণে আত্মবিশ্বাস কমে যায়, উদ্বেগ বা মানসিক চাপ বাড়তে থাকে, তাহলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের সহায়তা নেওয়া সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে।

 

সূত্র: সাইকোলজি টুডে, দ্য গার্ডিয়ান

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অন্যের অপমান দেখতে ভালো লাগে? জেনে নিন কারণ

জাতীয় অধ্যাপক হলেন অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ

সাতলার লাল শাপলা বিলে নৌকা থেকে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু

‘ছেলেদের হল যদি ২৮ ঘণ্টা খোলা থাকে, মেয়েদের কেন ১০ টায় বন্ধ করতে হবে?’

যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থাপনায় চাহিদার শীর্ষে সোনিয়া

প্রাণ গ্রুপে নিয়োগ, ২৫ বছর হলেই আবেদনের সুযোগ