ভিডিও রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রকাশ : ২৬ জুলাই, ২০২৬ ০৭:৩২ পিএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হবে: ঢাবি উপাচার্য 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হবে: ঢাবি উপাচার্য 

ঢাবি প্রতিনিধি: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে  বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না; দীর্ঘদিনের বৈষম্য, শোষণ, অন্যায় ও গণআকাঙ্ক্ষা উপেক্ষার ধারাবাহিক পরিণতিই ছিল এই গণঅভ্যুত্থান| ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়-জনগণের অধিকার হরণ করে কোনো শাসক দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না।

আজ ২৬ জুলাই রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে বিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞান অনুষদের কনফারেন্স কক্ষে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪: ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যতের বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম| বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. তাজমেরী এস. এ. ইসলাম। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আ ফ ম ইউসুফ হায়দার। স্বাগত বক্তব্য দেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোফাজ্জল হোসেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়| পরে জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা তাঁদের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন, পাকিস্তানি শাসনামল এবং স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুত হওয়ার অভিজ্ঞতা আমাদের একই শিক্ষা দেয়-ন্যায়বিচার ও জনগণের মতামত উপেক্ষা করলে তার পরিণতি অনিবার্য। তিনি বলেন, ২০১৮ সালের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণআন্দোলনের দাবিগুলো যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হলে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি নাও হতে পারত। তবে ছাত্র-জনতা, অভিভাবক ও সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণই এই আন্দোলনকে গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয় এবং সাফল্য নিশ্চিত করে।

উপাচার্য জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন| তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জুলাইয়ের চেতনাকে কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না; বরং প্রতিটি কার্যক্রমে বৈষম্যবিরোধী ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের আদর্শকে ধারণ করতে চায়।

তিনি জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জুলাই যোদ্ধা শিক্ষার্থীদের প্রথম সেমিস্টারের টিউশন ফি মওকুফ করা হয়েছে। আগামী ৫ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি জুলাইয়ের গ্রাফিতি সংরক্ষণ, স্মারক কর্নার স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘদিনের সৈরাচার, বৈষম্য, অন্যায় ও মানুষের অধিকার হরণের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের ফল। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে এই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছিল এবং এর মাধ্যমে জনগণের বিজয় নিশ্চিত হয়।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো-কোনো রাষ্ট্র বা সরকার যেন আর কখনো ˆবষম্য, নিপীড়ন ও অবিচারের পথে না হাঁটে| ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও ˆবষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এখন সবার প্রধান দায়িত্ব।

অধ্যাপক আব্দুস সালাম বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নানাভাবে আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সাহস, ত্যাগ ও আত্মদানের ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস শুধু স্মরণ করলেই হবে না; এর চেতনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ন্যায়বিচার, সমতা ও মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে এবং ভবিষ্যতে আর কোনো স্বৈরাচারী শাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই চেতনাকে ধারণ করে একটি ˆবষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করা হবে| এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারে প্রতিবছর ১৪ জুলাই উইমেন্স ডে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে| বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই কর্নার’ স্থাপন, সেমিনারের প্রবন্ধ ও বক্তব্য সংকলন প্রকাশ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল: ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে গতকাল ২৫ জুলাই ২০২৬ শনিবার সন্ধ্যায় মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে ‘স্মৃতিতে ও স্মরণে রক্তিম জুলাই’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রক্টর মো. ইসরাফিল প্রাং ও একাউন্টিং বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন| এছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ ও শহীদ শাহারিয়ার 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হবে: ঢাবি উপাচার্য 

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মসজিদ নিয়ে ভ’ণ্ডা’মি করার কিচ্ছু নাই : সাধারণ মানুষ

ফেরদৌস-শাওন-রিয়াজ-মাহিসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

ভবদহে জলাবদ্ধতা নিরসনে চার দফা দাবি, ডিসি অফিস ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর সোনাক্ষীর কান ধরে উঠবস

খালি পেটে কফি পান করলে কী হয়