মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের হামলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলার জবাবে কুয়েত, বাহরাইন এবং জর্ডানে এ সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির জানিয়েছে, বুধবার ভোরে ‘নাসর ২’ সামরিক অভিযানের আওতায় বাহরাইনে মার্কিন বাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিতে বেশ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। তাদের দাবি, হামলায় পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটির কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার, নৌ সহায়তা ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, গুদাম এবং জ্বালানি ট্যাংক ধ্বংস করা হয়েছে। আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, আজ ভোরে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন লজিস্টিক হাবে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটির ভাষ্য, তারা কুয়েতের মিনা আবদুল্লাহতে অবস্থিত ‘পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রধান রসদ ও সহায়তা কেন্দ্র’—কে লক্ষ্যবস্তু করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি—তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, তাদের ‘নাসর ২’ সামরিক অভিযানের চতুর্থ ধাপে স্থাপনাটিতে আগুন লাগিয়ে তা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইরানের ড্রোন হামলার জবাব দিচ্ছে এবং দেশজুড়ে শোনা যাওয়া বিকট শব্দ ড্রোন প্রতিহত করার কারণে হচ্ছে। এদিকে, জর্ডানের আজরাক ঘাঁটিতে মার্কিন এফ—১৮ যুদ্ধবিমানের অবস্থানে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী। ইরানের সেনাবাহিনীর ভাষ্য, তারা এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে ড্রোন হামলার নতুন অভিযানের অষ্টম পর্যায় শুরু করেছে। বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জর্ডানের আজরাক বিমান ঘাঁটিতে এফ—১৮ যুদ্ধবিমান ও বড় সরঞ্জাম রাখার হ্যাঙ্গারগুলোতে বিস্ফোরক ড্রোন দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো হামলা চালানো হয়েছে।
আরও পড়ুনজর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ভোরে ইরানের ভূখণ্ড থেকে জর্ডানের আকাশসীমায় প্রবেশ করা চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করে ভূপাতিত করেছে। এর আগে, মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ইরানের বিরুদ্ধে আরেক দফা হামলার অভিযান শেষ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালি ও ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলের নিকটবর্তী কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, সাত ঘণ্টা ধরে চলা এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং নৌযানগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি, নৌ সক্ষমতা এবং উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর দাবি, এই হামলাগুলো বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের হুমকি দেওয়ার জন্য ইরানের ক্ষমতাকে আরও কমানোর উদ্দেশ্যে চালানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপটি এমন এক দিনে নেওয়া হয়েছে যেদিন মার্কিন বাহিনী ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকা থেকে বা সেখানে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ পুনরায় শুরু করেছে। যা মঙ্গলবার বিকাল ৪টা থেকে কার্যকর হয়েছে। সূত্র : আল জাজিরা
মন্তব্য করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক







