নিরসনে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ
জলাবদ্ধ বগুড়া সদর খাদ্যগুদাম চত্বর ঝুঁকি নিয়ে চলে পণ্য খালাসের কাজ
স্টাফ রিপোর্টার : টানা বৃষ্টি ও অপর্যাপ্ত নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে বগুড়া সদর এলএসডি (খাদ্যগুদাম) চত্বরে জলাবদ্ধতার সমস্যা দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময়ের। সাম্প্রতিক গত কয়েক দিনের রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিতে এই জলাবদ্ধতার ফলে গুদামে সংরক্ষিত পণ্যে গুণগত নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মালামাল লোড-আনলোডের কাজ করছেন শ্রমিকরা।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ৬ কোটি টাকার বরাদ্দ মিলেছে গুদামটি রক্ষাণাবেক্ষণ কাজের জন্য। এতে স্থায়ীভাবে দূর হবে জলাবদ্ধতা। জানা গেছে, ৭ হাজার মেট্রিকটন ধারন ক্ষমতার খাদ্যগুদামটি মহানগরের চকসূত্রাপুরে অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকায় অবস্থিত। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এর পাশ দিয়ে যাওয়া প্রধান ড্রেন বা নালাগুলো বছরের পর বছর পরিষ্কার না করায়, ময়লা-আবর্জনা জমে ভরাট হয়ে পানি নিষ্কাশনের কোনো পথ নেই।
ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো চত্বর ড্রেনের নোংরা পানিতে তলিয়ে যায় এবং তা কয়েক দিন ধরে স্থায়ী হয়। এবার জুলাইয়ের প্রথম ১২ দিনেই বগুড়ায় রেকর্ড ৩০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হওয়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারন করে। ড্রেন ও নর্দমার বর্জ্য মিশ্রিত পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত কালচে পানির ভেতর দিয়েই শ্রমিক-কর্মচারিদের কাজ করতে হয়।
এর ফলে চর্মরোগ, পায়ে ঘা, টাইফয়েড ও জন্ডিসের মতো পানিবাহিত রোগের চরম ঝুঁকিতে পড়েন তারা। এছাড়াও পানিতে তলিয়ে থাকার কারণে নিচের গর্ত, ইটের টুকরো, ভাঙা ড্রেন বা কাঁচ-পেরেক কিছুই দেখা যায় না।
অনেক সময় পা পিছলে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন শ্রমিকরা। গুদাম চত্বরে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি থাকায় খাদ্যশস্য বহনকারী ট্রাকগুলো ভেতরে ঢুকতে পারছে না। বাধ্য হয়ে ট্রাকগুলো মেইন রোডে বা অনেক দূরে দাঁড় করিয়ে রাখতে হচ্ছে। শ্রমিকরা মাথায় করে গুদামের প্রাচীরের ওপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পণ্য গাড়িতে তুলে দিচ্ছেন। আর রাস্তায় পাটি বিছিয়ে বা দাঁড়িয়ে কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
আরও পড়ুনমো. আমিনুল, ফিরোজ, লালসহ একাধিক শ্রমিক ও চালক অভিযোগ করে বলেন, ১২-১৫ বছর ধরে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই এখানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এই সময় পণ্য লোড-আনলোডের ক্ষেত্রে অনেক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। গত কয়েক দিন আগেই এখানে এক শ্রমিক পণ্য খালাসের সময় গুরুতর আহত হন।
এছাড়াও নোংরা পানি মাড়িয়ে কাজ করতে গিয়ে চর্ম রোগের ঝুঁকিতেও রয়েছেন অনেক শ্রমিক। পাশাপাশি গুদামের সামনে গাড়ি না রাখতে পারার কারণে তাদের বাড়তি পরিশ্রম করতে হচ্ছে, অথচ এর জন্য বাড়তি কোন পারিশ্রমিকও তারা পাচ্ছেন না।
জানতে চাইলে বগুড়া সদর এলএসডি’র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, খাদ্যগুদামটি নিচু এলাকায় হওয়ায় গুদাম চত্বর সামন্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় এবং এই সমস্যা দীর্ঘদিনের। তিনি বলেন, ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে গুদামটির রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শুরু হবে।
প্রয়োজনীয় বরাদ্দ সাপেক্ষে টেন্ডারও হয়ে গেছে। কাজের মধ্যে-ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার করে স্থায়ী পানি নিস্কাশন ব্যবস্থাসহ মেইন গেইট ও সীমানা প্রাচীরের কাজ করা হবে। এই কর্মকর্তা আরও বলেন, কাজের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার জন্য কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে, আশা করা যাচ্ছে, এই কাজের পর স্থায়ীভাবে এখানকার জলবদ্ধতা দূর হবে।
মন্তব্য করুন







