ভিডিও শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রকাশ : ০৯ জুলাই, ২০২৬ ০৭:০৯ পিএম

১৮ জেলায় বন্যা নিয়ে সতর্কতা জারি

১৮ জেলায় বন্যা নিয়ে সতর্কতা জারি

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে দেশের অন্তত ১৮ জেলার বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি কিংবা বিদ্যমান বন্যার অবনতি হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল ৯টার তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত বন্যা পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সাঙ্গু নদী বান্দরবান ও দোহাজারী, মাতামুহুরী নদী লামা ও চিরিঙ্গা, মনু নদী মনু রেলওয়ে ব্রিজ ও মৌলভীবাজার, ধলাই নদী কমলগঞ্জ, খোয়াই নদী বাল্লাহ ও হবিগঞ্জ এবং কুশিয়ারা নদী মারকুলী স্টেশনে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী দুই দিন সিলেট, চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগসহ ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে ফেনী, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম জেলার গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া ও হালদা নদীর পানি কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি করতে পারে। লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।

 

উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার মনু, ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা ও ভোগাই-কংস নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কোথাও কোথাও বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন

এ ছাড়া সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার পানি আগামী তিন দিন পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।

উত্তরাঞ্চলেও পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। একই সঙ্গে আগামী ৭২ ঘণ্টায় লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ২৯৮ মিলিমিটার, সুনামগঞ্জে ২৬৫ মিলিমিটার, নওগাঁর আত্রাইয়ে ২৬০ মিলিমিটার, বান্দরবানের লামায় ২০৭ মিলিমিটার, বান্দরবানে ১৯৬ মিলিমিটার, মহাদেবপুরে ১৯৩ মিলিমিটার ও বরগুনায় ১৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয়ের মাউকিরওয়াতে ২৪৫ মিলিমিটার এবং চেরাপুঞ্জিতে ২২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে, যা দেশের নদীগুলোর পানির প্রবাহ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে ১০টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এসব নদীর প্রভাবে হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, ফেনী, খাগড়াছড়ি, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রামসহ মোট ১৮ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি বা অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিয়েতে খাসির বদলে মুরগি, দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বৃদ্ধা আয়েশা হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন

১৭ বছরের জঞ্জাল পরিষ্কার করতে সময় লাগবে: হুইপ জি কে গউছ

হাম উপসর্গে আরো ৩ শিশুর মৃত্যু

পাহাড় ধস: প্রকৃতির সতর্কবার্তা, আমরা কতটা প্রস্তুত

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা হচ্ছে, সহায়তা দেবে সরকার: কৃষিমন্ত্রী