ভিডিও রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রকাশ : ০৫ জুলাই, ২০২৬ ০৬:৫৬ পিএম

অণ্ডকোষ চেপে চেক-স্ট্যাম্পে সই আদায়,, প্রধান অভিযুক্ত আটক

অণ্ডকোষ চেপে চেক-স্ট্যাম্পে সই আদায়,, প্রধান অভিযুক্ত আটক

বরিশালে অগ্রণী হাউজিং (আবাসন) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে মারধর ও  স্পর্শকাতর অঙ্গ চেপে ধরে জোরপূর্বক চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে ধারণ করা একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ রবিবার (৫ জুলাই) বেলা ২টার দিকে নগরীর সদর রোডের টপ টেন নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন উল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ বিষয়ে বিকেলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

অগ্রণী হাউজিং (আবাসন) লিমিটেডের একটি সূত্র জানায়, গত ২৭ জুন সন্ধ্যার পর নগরীর সদর রোডে প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে গত বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী আদালতে একটি নালিশি মামলা দায়ের করেন। ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আব্দুল আজিজ হাওলাদারের কক্ষে চার যুবক প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তার অণ্ডকোষ চেপে ধরে দুটি চেক ও একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। মারধরের সময় আব্দুল আজিজ ‘বাচ্চু, বাচ্চু’ বলে চিৎকার করলে আরেক ব্যক্তি কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তবে লিটুর সঙ্গে থাকা অন্যরা তাকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। পরে চেক ও স্ট্যাম্প গ্রহণের দৃশ্যের ছবিও তোলা হয়।

জানা গেছে, অভিযুক্ত লিটুর বাড়ি অগ্রণী হাউজিংয়ের অদূরে কাটপট্টি সড়কে। তার বড় ভাই মাহবুবুর রহমান পিন্টু মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি। নগরীতে লিটু যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে প্রচলিত থাকলেও রবিবার দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা ও মহানগর যুবদলের নেতারা দাবি করেন, লিটু যুবদলের কোনো ওয়ার্ড কমিটিরও সদস্য নন। দলীয় কোনো কর্মসূচিতেও তাকে কখনো দেখা যায়নি।

আরও পড়ুন

ঘটনার শিকার আব্দুল আজিজ হাওলাদার জানান, লিটু একসময় অগ্রণী হাউজিংয়ের একজন অংশীদার ছিলেন। তার বিনিয়োগের বিপরীতে জমি বুঝিয়ে দিয়ে বিক্রিও করা হয়েছে। এমনকি প্রতিষ্ঠানের কাছে তার কোনো পাওনা নেই মর্মে লিখিত অঙ্গীকারনামাও রয়েছে। তিন বছর আগেই তাকে সবকিছু বুঝিয়ে দেওয়া হলেও এরপরও তিনি এক কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন।

আব্দুল আজিজের অভিযোগ, গত ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে লিটু তার কার্যালয়ে প্রবেশ করে তাকে মারধর করেন। পরে জোরপূর্বক ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি সাদা চেক এবং দুটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন। তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বিষয়টি অবহিত করে চেকগুলোর বিষয়ে অভিযোগ করায় সেগুলোর বিপরীতে কোনো অর্থ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। গত বৃহস্পতিবার আদালত তার নালিশি মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের জন্য কোতোয়ালি মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। সিসিটিভি ফুটেজটি তিনিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন বলেও স্বীকার করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু বলেন, যারা ওই দিন কার্যালয়ে গিয়েছিলেন, তারা সবাই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। আব্দুল আজিজ পরিচালকদের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়ে পরিচালকেরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানাবেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিশ্ববাজারে বিস্তার বাড়াতে নতুন ব্র্যান্ড পরিচিতি উন্মোচন করল টিপসই

বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে স্পেনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ফেনীতে ধর্ষণের দায়ে ২জনকে যাবজ্জীবন, একজনের ১০ বছরের কারাদণ্ড

চিড়িয়াখানায় পাঠানো হলো বগুড়ার অসুস্থ হাতি বাদশা বাহাদুরকে

ফরিদপুরের নতুন এসপি শাহরিয়ার মোহাম্মদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে মাদকদ্রব্যসহ আটক ১৩