রাজশাহীর চারঘাটে অসময়ে পদ্মায় ভাঙন ভিটে মাটি হারানো শঙ্কায় হাজারো বসতি
রাজশাহী প্রতিনিধি: বাড়ছে পানি, ভাঙছে পাড়, ভিটে মাটি হারানো ভয়ে রাত কাটছে নদীর তীরবর্তী এলাকার হাজারো বসতির বাসিন্দরা। দীর্ঘদিন এমন ভাঙন আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করছেন রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার পিরোজপুর ও গৌড়শহরপুর এলাকার কয়েক হাজার মানুষ।
তবে এবার প্রথম ভাঙন কবলিত অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়ে মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করে স্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধ করার ঘোষণা দিয়েছেন রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ। তারই প্রচেষ্টায় গতকাল রোববার দুপুর ১২টায় ভাঙন কবলিত পিরোজপুর এলাকায় ৫ হাজার জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা করায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নদীর তীরে বসবাসকারীরা।
জানা যায়, বেশ কয়েক বছর ধরে চারঘাট উপজেলার পিরোজপুর, গৌড়শহরপুর ও রাওথা এলাকায় ধারাবাহিকভাবে নদী ভাঙন চলে আসছে। দিনের পর দিন বছরের পর বছর ধরে এভাবে নদী ভাঙনের ফলে নদীর তীরে বসবাসকারী অনেকেই হারিয়েছেন জন্ম ভিটা জমি ও জীবন জীবিকার ফসলের মাঠ। কয়েক বছর ধরে ভাঙন অব্যাহত থাকায় কয়েকটি গ্রামের ঠিকানা এখন নদী গর্ভে। নতুনভাবে ভাঙন চলায় যেটুকু বাড়ি ঘর অবশিষ্ট রয়েছে, এখন সেগুলোও নদী গর্ভে চলে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছন নদীর তীরে বসবাসকারীরা।
আরও পড়ুনএমন ভয়াবহ ভাঙনের খবর জানতে পেরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে যোগাযোগ করে সাময়িকভাবে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ বলে জানিয়েছেন চারঘাট উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক মেয়র জাকিরুল ইসলাম বিকুল। গতকাল রোববার সকালে ভাঙন কবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের সময় বিকুল স্থানীয় সাংবাদিকদের এমন কথা বলেন।
নদীর তীরে বসবাসকারী ফজলুর রহমান, আনিছুর রহমান, সোলেমান আলী, ইসলাম আলী ও সুমন আলীসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, বছরের পর বছর পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে অনেকেই আজ নিঃস্ব। অনেকেই হারিয়েছেন মাথা গোজার ঠাঁয়। হারিয়েছে কয়েক হাজার একর ফসলি জমি। হঠাৎ তীরে আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে কয়েক মাস ধরে। অসময়ে ভাঙনে যে টুকু মাথা গোজার ঠাঁই অবশিষ্ট রয়েছে তাও হারানোর ভয়ে রাত কাটছে।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী আবু রওশন মাসুদ বলেন, এখনই ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নেয়া হলে নদীর তীরে বসবাসকারী কারোরই বাড়ি ঘর হয়ত থাকবে না। স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশ ক্রমেই জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন

_medium_1779708303.jpg)
_medium_1779707682.jpg)
_medium_1779706762.jpg)
_medium_1779705753.jpg)

_medium_1779704766.jpg)


