বিশ্বকাপের আগে চোট শঙ্কায় মাঠ ছাড়লেন মেসি
স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) গতকাল রাতে নিজের শেষ ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন মেসি। ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিপক্ষে এই ম্যাচে ইন্টার মায়ামি জিতেছে ৬-৪ গোলে। মেসি ২টি গোল করালেও সেটা ফিকে হয়ে গেছে তার চোট পাওয়ার শঙ্কায়।
চোটের আশঙ্কা নিয়ে ম্যাচে ৭৩ মিনিটে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। বাঁ ঊরুর পেছনের অংশে হাত দিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করতে দেখা যায় তাকে। মাঠ থেকে বেরিয়ে বেঞ্চে না বসে সরাসরি ড্রেসিংরুমে চলে যান ইন্টার মায়ামি তারকা। মায়ামির এনইউ স্টেডিয়ামে ৭০ মিনিটের দিকে ফ্রি-কিক নেওয়ার পর মেসিকে বাঁ ঊরুর ওপরের অংশে হাত দিতে দেখা যায়। এরপর তিনি নিজেই বদলির আবেদন করেন। তার বদলে মাঠে নামেন মাতেও সিলভেত্তি। তবে মাঠ ছাড়ার সময় কিংবা ড্রেসিংরুমে যাওয়ার পথে মেসির অতিরিক্ত কোনো সহায়তার প্রয়োজন হয়নি।
মেসির সম্ভাব্য চোট ইন্টার মায়ামির দারুণ প্রত্যাবর্তনের জয়কে কিছুটা আড়াল করে দিয়েছে। ম্যাচে প্রথমার্ধেই হয়েছে রেকর্ড ৮ গোল, এমএলএসে কোনো ম্যাচের প্রথমার্ধে এত গোল কখনো দেখা যায়নি। এদিন খেলা শুরুর ৯ মিনিটের মধ্যে ২ গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ফিলাডেলফিয়া। এরপর মেসির বাড়ানো বল থেকে ফাঁকা জালে বল জড়িয়ে ব্যবধান কমান গেরমান বেরটেরামে। এরপর ১৯ মিনিটে আবার গোল করে ফিলাডেলফিয়া। তবে ৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়ায় মায়ামি। ৪১ মিনিটের মধ্যে ব্যবধান ৪-৩ করে তারা। এর মধ্যে বেরটেরামে ও লুইস সুয়ারেজ পেয়ে যান জোড়া গোল এবং মেসি পান জোড়া ‘অ্যাসিস্ট’। বিরতির আগে হ্যাটট্রিক করে ফিলাডেলফিয়াকে আবার সমতায় ফেরান মিলান ইওস্কি। ৪-৪ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।
বিরতির পর তুমুল বৃষ্টিতে খেলা কিছুটা মন্থর হয়ে আসে। এর মধ্যে চোটের অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়েন মেসি। তবে তার অনুপস্থিতি বুঝতে দেননি মায়ামি সতীর্থরা। ৮০ মিনিটে গোল করে হ্যাটট্রিক তুলে নেন লুইস সুয়ারেজ। শেষ মুহূর্তে গোল করে ব্যবধান ৬-৪ করেন রদ্রিগো দি পল।
আরও পড়ুনম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ইন্টার মায়ামি কোচ গিলের্মো হয়োস তার দলের সবচেয়ে বড় তারকাকে নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, মেসির অস্বস্তির মূল কারণ সম্ভবত ক্লান্তি। হয়োস বলেন, ‘এ মুহূর্তে এ বিষয়ে আমাদের হাতে কোনো মেডিক্যাল রিপোর্ট নেই। তবে শিগগিরই সেটা পাওয়া যাবে। যতটুকু জানি, ও খুব ক্লান্ত ছিল। এটা মূলত ক্লান্তিজনিত ব্যাপার। মাঠও বেশ ভারি ছিল। আর এমন পরিস্থিতিতে সন্দেহ থাকলে সাধারণত ঝুঁকি নেওয়া হয় না।’
আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই বদলি করা হয়েছিল মেসিকে। মূলত হ্যামস্ট্রিংয়ের টান অনুভব করায় আর ঝুঁকি নিতে চাননি তিনি। তাই জায়গাটিতে বাড়তি চাপ না দিয়ে নিজেই মাঠ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
মন্তব্য করুন








