ভিডিও রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রকাশ : ১৭ মে, ২০২৬, ১০:৫২ রাত

বগুড়ার কিংবদন্তী ফুটবলার আলফাজ উদ্দিনের নামে স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও ফুটবল স্টেডিয়াম নির্মাণ হয়নি

বগুড়ার কিংবদন্তী ফুটবলার আলফাজ উদ্দিনের নামে স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও ফুটবল স্টেডিয়াম নির্মাণ হয়নি

সোনাতলা (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার কিংবদন্তী ফুটবলার আলফাজ উদ্দিনের নামে স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও ফুটবল স্টেডিয়াম নির্মিত হয়নি। অথচ ফুটবলে তার অবদান ছিল অনেক। সোনাতলা উপজেলার দিগদাইড় গ্রামে এক সভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯৩১ সালে আলফাজ উদ্দিন আহম্মেদ গেদার জন্ম। বাবা বিখ্যাত এডভোকেট কছিম উদ্দিন আহম্মেদ, মা জাহেদা খাতুনের ৫ ছেলে, ৪ মেয়ের মধ্যে ৪র্থ সন্তান আলফাজ উদ্দিন গেদা।

জিলা স্কুলে পড়ার সময়েই ফুটবলের প্রতি ঝোঁক ছিলো গেদার। তার নেতৃত্বে বগুড়া জিলা স্কুলে ১৯৪৬, ১৯৪৮ সালে রাজশাহী বিভাগীয় আন্ত:ফুটবল প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ান হওয়ার গৌরব অর্জন করে দলটি। আলফাজ ফুটবল ছাড়াও ভলিবল, ব্যাডমিন্টন, লনটেনিস, বিলিয়ার্ড খেলাতেও পারদর্শি ছিলেন। দুর্দান্ত শারিরীক সক্ষমতা নিয়ে আলফাজ মনপ্রাণ ঢেলে দেন একজন প্রকৃত ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠান জন্য।

এরপর রংপুরের গোবিন্দলাল শীল্ড, দিনাজপুরের নরনায়ায়ন শীল্ড, পাবনার জ্যাকসন শীল্ড, সৈয়দপুরের মিকি চ্যালেঞ্জ শীল্ড জয় করে ঢাকার প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগে যোগদান করেন গেদা। পরে ঢাকার মাহুতটুলি ক্লাবের সাথে খেলতে নেমে প্রথমেই হ্যা্িট্রক করেন বগুড়ার কৃতি খেলোয়াড় গেদা। সে সময়কার চ্যাম্পিয়ান দল এটি। এরপর ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের হয়ে ডাক পান।

পরে ১৯৫২ সালে ফায়ার সার্ভিসে যোগদান করে সেখানেও কৃতি ফুটবলার হিসেবে সফলতার শীর্ষে উঠেন আলফাজ। সেসময় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ৩২টি গোল করে গোটা পাকিস্তানে সর্বোচ্চ গোলদাতার সম্মানে ভূষিত হন এবং যা তৎকালীন সময়ে পাকিস্তানে সাড়া পড়ে যায়। এরপর থেকে বগুড়ার এই কিংবদন্তীর নাম ছড়িয়ে পড়ে চতুর দিকে। এর টানা ৬ বছর ফায়ার সার্ভিসের হয়ে খেলেছেন গেদা।

বগুড়ার আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে তৎকালীন পাকিস্তানের শক্তিধর ফুটবল টীম কিয়ামারীর বিরুদ্ধে তাঁর দেয়া একমাত্র সেই অবিস্মরণীয় গোলের স্মৃতি দর্শকদের মণিকোটায় আজও স্মৃতি হয়ে রয়েছে। উত্তাল আনন্দে বগুড়াসহ সমগ্র উত্তরবঙ্গবাসী সেদিন আনন্দে মাতিয়ে রেখেছিলো আলফাজকে।

আরও পড়ুন

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সেরা খেলোয়াড়দের ম্মৃতির মনিকোটায় স্থান করে নেন আলফাজ। ৪০ এবং ৫০ দশকের জনপ্রিয় ফুটবলার আলফাজ উদ্দিন গেদা শুধু দুর্দান্ত সেন্টার ফরোয়ার্ডই ছিলেন না, ১৯৭০ সালে বগুড়া রেফারিজ এসোসিয়েশনের সভাপতি, বগুড়া জেলাক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্বও পালন করেন গেদা। প্রথম বাংলাদেশের বগুড়ার ফুটবল দলের ম্যানেজার হয়ে ভারতের জলপাইগুড়ি, ধুবরী, আলীপুর দুয়ার ও শিলিগুড়ি সফর করেন।

তিনি বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের হয়ে কলকাতায় মোহামেডানের বিরুদ্ধেও খেলেছেন। তিনি দীর্ঘ ১০ বছর বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থা যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭-১৯৮০ সাল পর্যন্ত বগুড়ার কৃতি এই খেলোয়াড়কে জাতীয় ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সম্মানিত সদস্য নিয়োগ করেন। একজন বরেণ্য ক্রীড়া ব্যক্তিত্বের দুর্লভ সম্মান এনে দেয়। ১৯৭৮ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক স্পোর্টস ফুটবল ওয়াল্ড ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে তিনি অংশগ্রহণ করে কৃতিত্বের সাথে ফুটবলে এ্যাডমিনিস্টেটিভ এওয়ার্ড লাভ করে বগুড়াবাসীর সম্মান আরো একধাপ এগিয়ে দেন গেদা।

আলফাজ উদ্দিন আহম্মেদ গেদা বিখ্যাত ফুটবল তারকা প্রশিক্ষক ম্যাকব্রাইউ এর অধিনে রেফারি কোচিং প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৮৬-১৯৯২ সাল পর্যন্ত সফল ক্রীড়া সাংবাদিক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
 আলফাজ উদ্দিন গেদা ক্রীড়াক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য উভয় পাকিস্তানের এবং পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেন। সাবেক তিন বারের সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বগুড়ার সফরের সময়ে বগুড়ার সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে এটিএন বাংলার হেড অব প্রশাসন শামসুল হুদা তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিকট দেশ বরেণ্য ফুটবলার ও বগুড়ার কৃতি সন্তান আলফাজ উদ্দিন আহম্মেদ গেদার নামে বগুড়ায় একটি ফুটবল স্টেডিয়াম নির্মাণের প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরেও এ কৃতি ফুটবলারের নামে বগুড়ায় আজ অবদি কোনো ফুটবল স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হয়নি। আজ সময় এসেছে বরেণ্য ও কৃতি ব্যক্তির সম্মান করার। আলফাজ উদ্দিন আহম্মেদ গেদা শুধু বগুড়া জেলার সোনাতলা উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নেরই কৃতি সন্তান ছিলেন না, তিনি ছিলেন অবিভক্ত পাকিস্তানের এবং পরবর্তীতে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের কিংবদন্তী ফুটবল খেলোযাড়। তিনি ২০০৫ সালের ৪ ডিসেম্বর সারা বাংলাদেশে ফুটবলপ্রেমীদের কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান। তাঁর নামে একটি ফুটবল স্টেডিয়াম বগুড়াতে নির্মানের দীর্ঘ দিনের প্রাণের দাবী-বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বগুড়ার কিংবদন্তী ফুটবলার আলফাজ উদ্দিনের নামে স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও ফুটবল স্টেডিয়াম নির্মাণ হয়নি

ফিলিস্তিনি ছাত্রীদের শিক্ষা সহায়তায় ঢাবি, ফিলিস্তিন দূতাবাস ও ইসলামী ব্যাংকের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি

বগুড়ার ধুনট-সারিয়াকান্দি সড়কে মানাস নদীর সেতুটি এখন মরণফাঁদ

সিরাজগঞ্জে ভাঙন আতঙ্কে আলমগীরের পরিবার

খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে ব্যবসায়ী আহত

'আমরাতো ট্যাক্স দিয়েই বাইক রাস্তায় নামাচ্ছি, তাহলে কর কেন?'