কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে আছে কচুয়া ব্রিজ, দুর্ভোগে দুই পাড়ের মানুষ
নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: নাগেশ্বরীতে দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে পড়ে আছে ভিতরবন্দ নন্দনপুর-কলীগঞ্জ গোড্ডারারপাড় গ্রামীণ সড়কে কচুয়া বিলের উপর নির্মিত ব্রিজটি। এতে পাড়াপাড়ে দুর্ভোগে পড়েছেন বিলের দুইপাড়ের অসংখ্য মানুষ।
জানা যায়, ভিতরবন্দ নন্দনপুরে বিস্তৃর্ণ এলাকাজুড়ে রয়েছে কচুয়া বিল। শীতকালে চারপাশ শুকিয়ে গেলেও মূল অংশে তলানিতে থাকে পানি। আর এ অংশটি পড়েছে ভিতরবন্দ নন্দনপুর-কলীগঞ্জ গোড্ডারারপাড় গ্রামীণ সড়কের মাঝে। ১৯৮৭ সালে ২০ ফুট দৈর্ঘের একটি ত্রাণের ব্রিজ নির্মাণের পরের বছরই বন্যার পানির তোড়ে সেটি ভেঙে ভেসে যায়। এরপর ২০০১ সালে ফের একই দৈর্ঘ্যের ত্রাণের আরেকটি ব্রিজ নির্মাণ করলে সেটিও ২০০৬ এর বন্যায় ভেঙে যায়।
পরে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ব্রিজের উপর একটি কাঠের সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়া হয়। কিছুদিন মানুষজন নির্বিঘ্নে যাতায়াত করলেও দীর্ঘদিন রোদ, বৃষ্টিতে কাঠ পচে নষ্ট হতে থাকে। অনেক জায়গায় ভেঙে যায় কাঠের পাটাতন। মাঝে মাঝে সামান্য সংস্কার হলেও বর্তমানে এর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। হেঁটে সাবধানে চলাচল করা গেলেও যানবাহন নিয়ে চলার কোন উপায় নেই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল হোসেন, মজিবর রহমান, রফিকুল ইসলাম, জাকির হোসেন, হাসেম আলী, রমেশসহ অনেকেই জানান, কাঠের সাঁকোটি চলাচল অনুপযোগী হয়ে গেছে। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে কয়েক কিলোমিটার ভাঙা সড়ক পাড়ি দিতে হয়। এছাড়া কৃষিতে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, সার, ধান-চাল পরিবহনেও অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে। এসময় দ্রুত একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান তারা।
আরও পড়ুনভিতরবন্দ ইউপি চেয়ারম্যান শফিউল আলম শফি জানান, বর্ষায় উজানের ডায়না, কুমড়িয়া বিল থেকে নেমে আসা পানি তীব্র স্রোতে ভিতরবন্দ নন্দনপুরের কচুয়া বিল দিয়ে কালীগঞ্জ গোড্ডারারপাড়, মাধাইখাল ও মন্নেয়ারপাড় কুড়া হয়ে প্রমত্তা দুধকুমারে মিশে যায়। ফলে কচুয়া বিলে ২০-৩০ ফুট দৈর্ঘ্যের ব্রিজ কোনভাবে টিকে না। এখানে দরকার ৪০-৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের গার্ডার ব্রিজ।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস জানায়, বরাদ্ধ না থাকায় তাদের পক্ষে ৫০-৭০ ফুট দৈর্ঘ্যের গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ সম্ভব নয়। স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগ বলেছে, সড়কটি তাদের তালিকাভুক্ত নয়। তাই সেখানে একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণের উপযোগিতা থাকলেও তা আটকে আছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোফাখকারুল ইসলাম জানান, বর্তমানে সেখানে যে কাঠের সাঁকোটি আছে তার দৈর্ঘ্য প্রায় ৭০ ফুট। ত্রাণের যে বক্সকালভার্ট হয় তার দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ৪০ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। সেক্ষেত্রে ত্রাণের ব্রিজ টেকসই হবে না। তাই সেখানে এলজিইডি থেকে কাঠের সাঁকোর দৈর্ঘ্যের সমপরিমাণ একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করলে স্থায়ী হবে।
মন্তব্য করুন


_medium_1778510778.jpg)

_medium_1778510482.jpg)

