দক্ষিণ কোরিয়ায় লেখাপড়া করতে গিয়ে গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ গেল কালাইয়ের মিমের
কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি : দক্ষিণ কোরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় হাসিবুর রহমান মিম (২৩) নামে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার মধ্যরাতে একটি ইলেকট্রিক স্কুটার চালিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় ওই দেশের দ্রুতগামী একটি প্রাইভেট গাড়ি তাকে সজোরে ধাক্কা দিলে তিনি মারা যান।
নিহত হাসিবুর রহমান মিম বাংলাদেশের জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার জিন্দরিপুর ইউসিয়নের মহেশপুর গ্রামের নিজাবুল ইসলাম হিরোর ছেলে। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার জেওনবুক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, শনিবার গভীর রাতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে হাসিব একটি ইলেকট্রিক স্কুটার চালিয়ে ওই দেশের রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় একজন মদ্যপ চালকের প্রাইভেট গাড়ী তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পরপরই তাকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে জরুরি বিভাগে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। তবে মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে সক্ষম হননি। আজ রোববার (৩ মে) সকাল ৮টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিহত হাসিবুর রহমানের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে তার বন্ধু মাহমুদুল হাসান জানান, হাসিব ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে উচ্চশিক্ষার জন্য স্টুডেন্ট ভিসায় দক্ষিণ কোরিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। বিদেশে আসার মাত্র চার মাস আগে তিনি বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন।
ওই দেশে থাকা অবস্থায় হাসিব বাংলাদেশের যশোর জেলার এক মেয়ে শিক্ষার্থীকে বিয়ে করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি হাসিবের পরিবারকে তার স্ত্রীই প্রথম জানান। এরপর থেকে হাসিবের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে।
আরও পড়ুনজীবনের সোনালী স্বপ্ন পূরণের লক্ষে প্রবাসে গিয়ে এমন মর্মান্তিক দূর্ঘটনার পরিণতির শিকার হওয়ায় তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে হাহাকার বিরাজ করছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীরা তার মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছেন বলে জানান পরিবারের লোকজন।
এই অপ্রত্যাশিত ও হৃদয় বিদারক ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহপাঠী, পরিচিতজন ও প্রবাসীরা তার অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান প্রবাসে থাকা সহপাঠিরা।
নিহত হাসিবুর রহমানের বাবা নিজাবুল ইসলাম হিরো বলেন, ছেলেকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল, আজ সব স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেল। আমার যা হয় হউক, কিন্তু ওর মা একেবারে পাগল হয়ে গেছে। এখন ছেলের চিন্তা করবো নাকি স্ত্রীকে বাঁচাবো। আল্লাহর রহমতে ছেলেকে এলাকায় এনে কবরস্থ করতে পারলে হয়তো একটু শান্তি পাবো।
মন্তব্য করুন


_medium_1777816085.jpg)



_medium_1777813692.jpg)

