পদত্যাগ না করেই নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন তামিম ইকবাল
আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়ার পর সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত ১১ সদস্যের অ্যাড-হক কমিটি কয়েক দিন আগে দায়িত্ব গ্রহণ করে। এই কমিটির মূল দায়িত্ব হলো আগামী ৯০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন আয়োজন করা।
আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা আগেই দিয়েছিলেন অ্যাড-হক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, নির্বাচনের আগে পদত্যাগ করার কোনো পরিকল্পনা তার নেই। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবাল জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে পদত্যাগের বিষয়টি বিবেচনায় নেননি এবং নির্বাচনেও অংশ নেবেন। তার ভাষায়, গঠনতন্ত্র যা অনুমোদন দেবে তিনি সেটিই অনুসরণ করবেন। অ্যাড-হক কমিটি থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো চিন্তাও তার নেই বলে জানান তিনি। শুরু থেকেই নির্বাচনে অংশ নেয়ার অবস্থান স্পষ্ট ছিল বলেও উল্লেখ করেন তামিম।
তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে, সেই প্রত্যাশা তিনি পূরণ করতে চান এবং তাদের অধীনে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
আগামী রোববার (৩ মে) বিসিবির বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তামিম। সেই সভায় পরবর্তী নির্বাচনের তারিখসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ক্রিকেটের কাঠামোগত উন্নয়ন নিয়েও কথা বলেন তামিম ইকবাল। তিনি বলেন, দেশের ক্রিকেট কাঠামো এখন মূলত একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর খেলোয়াড়দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে, যেখানে জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা ঘরোয়া বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্তর থেকে জাতীয় দলে উঠে আসার সুযোগ খুবই সীমিত।
এই পরিস্থিতি বদলাতে নতুন একটি কাঠামো চালুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। তামিম বলেন, সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মৌসুম থেকেই নতুন একটি সিস্টেম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে ‘সেকেন্ড ইলেভেন’ নামে একটি আলাদা প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্ট থাকবে।
আরও পড়ুনএই কাঠামোর মাধ্যমে ১৫০ থেকে ২০০ জন নতুন ক্রিকেটার নিয়মিত খেলার সুযোগ পাবেন বলে জানান তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী এই ম্যাচগুলো তিন দিনের (থ্রি-ডে) হবে, যাতে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স দীর্ঘ সময় ধরে মূল্যায়ন করা যায়।
তামিম ইকবালের মতে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দলে পরিবর্তন আনা আরও সহজ হবে এবং পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়া সম্ভব হবে। কোনো খেলোয়াড় খারাপ করলে তাকে সরাসরি বাদ না দিয়ে সেকেন্ড ইলেভেনে পাঠিয়ে আবার সুযোগ তৈরির ব্যবস্থা থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়াবে এবং একটি শক্তিশালী “হাংগার” তৈরি করবে, যা বাংলাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতিকে বদলে দিতে সাহায্য করবে।
এছাড়া ক্রিকেটকে শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক না রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তামিম ইকবাল। খুলনা, বরিশালসহ বিভিন্ন এলাকায় মাঠ ও সুযোগ-সুবিধা থাকলে সেখানে নিয়মিত ম্যাচ আয়োজনের কথা বলেন তিনি।
সব মিলিয়ে, নতুন এই কাঠামোগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে বাংলাদেশ ক্রিকেট আরও দূর এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন অ্যাড-হক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক







