ভিডিও বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রকাশ : ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২৮ রাত

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে শিশু মাহতাব হত্যাকাণ্ড বাবা-চাচার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে শিশু মাহতাব হত্যাকাণ্ড বাবা-চাচার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে মাহতাব হোসেন হৃদয় নামের ৫ বছর বয়সী এক নিষ্পাপ শিশুর হত্যাকাণ্ড ঘিরে এলাকার মধ্যে গভীর রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর সপ্তাহ পেরোতেই নিহত শিশুটির বাবা ও চাচার মধ্যে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, যা পুরো ঘটনাকে নতুন মোড়ে নিয়ে গেছে।

নিহত শিশুর বাবা ফারুক হোসেনের অভিযোগ, তার কোলে থাকা অবস্থায়ই দুই চাচা মিলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করে। অন্যদিকে অভিযুক্ত চাচারা এ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে দাবি করছেন, ফারুক হোসেন নিজেই তার সন্তানকে হত্যা করে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন। ঘটনাটি দিনের আলোতে ঘটলেও আশপাশে কেউ উপস্থিত ছিল না বলে দাবি করেছেন শিশুটির বাবা, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।

অপরদিকে সপ্তাহ পেরুলেও কোন ব্যক্তিকে আটক করতে পারেনি থানা পুলিশ। তবে পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষের অভিযোগ গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রয়োজনীয় সব ধরণের প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এদিকে গত ১৬ এপ্রিল সকালে উপজেলার গালা ইউনিয়নের মার্জান গ্রামে ফারুক হোসেনের ছেলে মাহতাব হোসেন হৃদয়কে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগে আপন দুই চাচা মৃত হাতেমের ছেলে হামেদ সরদার ও পেশকার সরদারসহ এই দুই পরিবারের ৬জনের বিরুদ্ধে শাহজাদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে শিশুটির বাবা ফারুক। মামলা করার পরে হামেদ ও পেশকার সরদারের বাড়িতে গরু বাছুরসহ আসবাবপত্র লুটপাট করে সব নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবার দু’টি।

সরেজমিনে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, হামেদ আলী বাড়িতে টয়লেট নির্মাণ করার জন্য ফারুক হোসেনের গোয়ালঘর ঘর ঘেসে মাটি ফেলার সময় নিষেধ করলে তারা নিজেরা সালিশ-মিমাংসা করার জন্য উক্ত স্থানে বসে। এসময় দু’জনের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। এরপর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে অবাক করার ঘটনা হলো যাহারা সালিশ করেন তাহারা কেউ সালিশে উপস্থিত ছিলেন না বলে প্রতিবেদককে জানায়।

আরও পড়ুন

উক্ত মামলার ১নং সাক্ষী সাদ্দামের সাথে প্রতিবেদকের কথা হলে তিনি বলেন- সালিশে বা ঘটনার সময় উক্ত স্থানে আমি ছিলাম না আমি বাড়িতে ছিলাম, পরে বিষয়টি জানতে পারি। এদিকে ২নং সাক্ষী রফিকুল ইসলাম জানান- ঘটনার সময় আমি আমার দোকানে ছিলাম, আমি বিষয়টি পরে জানতে পেরে দোকান বন্ধ করে এগিয়ে যাই।

অপরদিকে ৩নং সাক্ষী আব্দুল মান্নান বলেন- সালিশ তো দূরের কথা আমি কিছুই জানিনা, উক্ত ঘটনার সময় জামিরতা বাজারে ছিলাম। এছাড়াও সালিশে উপস্থিত দেল মাহমুদ, বাবু সরদার, শফিক সরদার, ওসমান সরদার, রফিকুল সরদারসহ অনেকেই সালিশে উপস্থিত থাকলেও কেউ সালিশে বিষয়ে স্বীকার করেননি।

এব্যপারে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) সাইফুল ইসলাম প্রতিবেদককে বলেন, মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে শিশু মাহতাব হত্যাকাণ্ড বাবা-চাচার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

নাটোরের সিংড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু

নওগাঁর রাণীনগরে নকল জুস কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

রংপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২ ব্যক্তির কারাদণ্ড, ৬৩০ লিটার ডিজেল জব্দ

বগুড়ার অপহৃত স্কুল ছাত্রী যশোর থেকে উদ্ধার, প্রধান আসামি গ্রেফতার

বগুড়ার ধুনটে যমুনা নদীর চরে বাদম যেন বালুর নীচে জমানো সাদা সোনা