কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সেতুর অভাবে কয়েক হাজার মানুষের ভোগান্তি
ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর উত্তর সীমান্তবর্তী শিলখুড়ি ইউনিয়নের উত্তর ধলডাঙ্গা ও শালজোড়ের কয়েক হাজার মানুষকে একটি সেতুর জন্য যুুগের পর যুগ চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
উপজেলা সদর থেকে কালজানী নদীদ্বারা বিচ্ছিন্ন শিলখুড়ি ইউনিয়নের শালজোড় ও উত্তর ধলডাঙ্গা এলাকা। এই এলাকার হাজার হাজার মানুষকে বারো মাস জানমালের ঝুঁকি নিয়ে নদীপাড় হয়ে হাটবাজার, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা সদরে আসতে হয়।
এতে সময় নষ্ট ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় স্থানীয় জনসাধারণের। সেতুুর অভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ওই এলাকার উন্নয়ন। বিভিন্ন সময়ে সরকার আসে, সরকার যায় কিন্তু এ এলাকার মানুষের দুর্ভোগ স্থির হয়ে আছে।
আব্দুস সালাম জানান, প্রতিদিন নৌকায় নদী পারাপারের ঝুঁকি, কর্দমাক্ত মেঠোপথ ও যানবাহন সমস্যা কারণে এখানকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা চাকরি করতে চাননা। শিক্ষক স্বল্পতার কারণে পিছিয়ে পড়া এ এলাকার শিশুরা শিক্ষা ক্ষেত্রে আরও পিছিয়ে পড়ছে। সেতু না থাকায় শিক্ষার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা অর্জনের জন্য নদী বিচ্ছিন্ন এলাকার ছেলেমেয়েদের প্রতিদিন নৌকায় নদী পাড়ি দিয়ে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যেতে হয়। প্রাথমিকের পরেই থেমে যায় অধিকাংশ মেয়েশিশুর উচ্চ শিক্ষা। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে শিশুদের উচ্চ শিক্ষা বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে।
আরও পড়ুনসাবেক ইউপি সদস্য ইস্রাফিল হোসেন বলেন, এলাকার উৎপাদিত ফসল হাট-বাজারে বিক্রির জন্য নিতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। সার, বীজ, তেল ও কীটনাশক আনতে ব্যয় বাড়ে। এর ফলে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেলেও কৃষকরা ফসলের ন্যয্য মূল্য পায়না। রাতে কেউ অসুস্থ হলে মহাবিপদে পড়তে হয়। সেতু না থাকায় অসুস্থ ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসা কেন্দ্রে নেয়া সম্ভব হয়না।
এব্যাপারে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, নদীবিচ্ছিন্ন এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবিটি আমার জানা রয়েছে। যাতে ব্রিজটি করা যায় সে ব্যপারে আমার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন







