এখন ঘরে বসে পুরো পৃথিবী দেখা গেলে পরীক্ষাকেন্দ্রও দেখা সম্ভব : শিক্ষামন্ত্রী
রাজশাহী প্রতিনিধি : শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘এখন আর আগের দিন নেই যে হেলিকপ্টার নিয়ে হঠাৎ পরীক্ষাকেন্দ্রে হাজির হতে হবে। এখন ঘরে বসে পুরো পৃথিবী দেখা গেলে পরীক্ষাকেন্দ্রও দেখা সম্ভব। এ জন্য শ্রেণিকক্ষ ও পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে।
আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের রাজশাহী অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডা. কাইছার রহমান চৌধুরী মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড এই সভার আয়োজন করে।
শিক্ষামন্ত্রী তার আগের মেয়াদে নকল বন্ধ করার কথা বলতে গিয়ে বলেন, আমি তো আমেরিকা থেকে শিক্ষক ইমপোর্ট করে নকল বন্ধ করিনি। আপনাদের মাধ্যমেই তো করেছি, নাকি? এটা প্রমাণিত সত্য যে সরকারের যদি সদিচ্ছা থাকে, শিক্ষকেরা সহযোগিতা করেন।
সরকারের যদি সহযোগিতা না থাকে, শিক্ষকেরা সহযোগিতা করেন না। তাই আমার বিশ্বাস, আমার টিচাররা আবার আগের অবস্থানে যাবেন। শিক্ষার পরিবেশ ফেরাবেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি থাকে কি না, শিক্ষক ঠিকমতো আসেন কি না, ছাত্র ঠিকমতো মনোযোগ দেয় কি না এগুলোকে আমরা বিবেচনায় আনব। সেই সঙ্গে পরীক্ষার হলে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে।
শিক্ষা খাতে পর্যায়ক্রমে বাজেট বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এবার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, শিক্ষা খাতে বাজেটের ৫ পার্সেন্ট দেবেন। হিউজ অ্যামাউন্ট কিন্তু ৫ পার্সেন্ট। এই গত বাজেটেই দেখলাম টাকা ফেরত যাচ্ছে। কাজে লাগাতে পারছে না। আমি এসে ৫ পার্সেন্ট, প্রায় ডাবল হয়ে যাবে বাজেট। এই টাকা কি খরচ করতে পারব? পারব না। তাই আমরা পর্যায়ক্রমে শিক্ষা খাতের বাজেট বৃদ্ধি করতে চাই।
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক এরশাদ আলী ঈশা প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আ ন ম মোফাখখারুল ইসলাম।
আরও পড়ুনএর আগে সকালে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শহীদ ওসমান বিন হাদী মিলনায়তনে আঞ্চলিক স্কিলস অ্যান্ড ইনোভেশন কম্পিটিশন উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন শিক্ষামন্ত্রী। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী কারিগরি শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। আমি এর দায়িত্ব পেয়েছি, কোনো অবস্থাতেই কারিগরি শিক্ষাকে অবহেলা করা যাবে না। এ শিক্ষার মাধ্যমেই আমাদের উন্নয়নের নততু বিপ্লব ঘটাতে হবে। সেমিনারে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষাকে তোমরা হায়ার এডুকেশনের সাথে সম্পৃক্ত করতে যেও না।
কারিগরি শিক্ষা হচ্ছে, স্বল্প সময়ে হাতে কলমে শিখে রুটি রোজগার করে দেশকে স্বাবলম্বী করা, পরিবারকে স্বচ্ছল করা এবং সমাজকে সেবা করা। জার্মান, জাপান, ইউএসএ, কানাডা কারিগরি শিক্ষায় উন্নত হয়েছিল বলেই তারা পৃথিবীতে বড় দেশ হয়েছিল। আমি সেই কারিগরি শিক্ষার কথা বলছি।
সেমিনারে শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি শিক্ষা ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা, শিক্ষার্থীদেও পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ার কারণ, তাদের অগ্রগতি এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার উপায় সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে শিক্ষার্থীরা অনিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা গ্রহণে বিলম্ব এবং কারিকুলামের সঙ্গে সিলেবাসের অসামঞ্জস্যতাসহ নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী, বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ এবং রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ আবু হানিফ প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
মন্তব্য করুন







