ব্রহ্মপুত্রের চরে এমপিওহীন অবস্থায় এসএসসি স্বপ্নে লড়ছে কড়াই বরিশালের শিক্ষার্থীরা
কুড়িগ্রাম জেলা ও চিলমারী প্রতিনিধি: ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস কুড়িগ্রামের চিলমারী থানা প্রতিষ্ঠা করেন। ব্রহ্মপুত্র নদের অব্যাহত ভাঙনে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের কড়াই বরিশাল চর যেখানে প্রতিটি দিনই টিকে থাকার লড়াই। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগের সীমাহীন সংকটের মাঝেও এখানকার মানুষ বুনে চলেছে স্বপ্নের বীজ। সেই স্বপ্নের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে কড়াই বরিশাল নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
স্থানীয়রা জানান, ১৯৯৪ সাল থেকে এই চরে বসতি গড়ে ওঠে। বর্তমানে প্রায় ৩২ বছরের পুরোনো এই জনপদে আড়াই হাজার মানুষের বসবাস। এক সময় ঐতিহ্যবাহী চিলমারী বন্দরকে ঘিরে ছিল প্রাণচাঞ্চল্য। এই বাস্তবতায় ২০০৩ সালে প্রায় আড়াই হাজার মানুষের চরে প্রতিষ্ঠিত হয় কড়াই বরিশাল নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বর্তমানে ১৫২ জন শিক্ষার্থী নিয়ে চলছে বিদ্যালয়টি।
এরমধ্যে ৮২জন ছাত্রী। কড়াই বরিশাল, মাঝবাড়ি, বৈলমন্দিয়ারখাতা, চর শাকাহাতী, ঢুষমারা, বিশারপাড়া, গাজীরপাড়া ছাড়াও আশপাশের একাধিক চর থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে পড়তে আসে। তবে প্রতিষ্ঠার ২৩ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি বিদ্যালয়টি। ফলে শিক্ষকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আর শিক্ষার্থীরা দারিদ্র্যের মধ্যেই চালিয়ে যাচ্ছে পড়াশোনা।
বিদ্যালয়ে নবম-দশম শ্রেণির অনুমোদন না থাকলেও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে স্থানীয়ভাবে পাঠদান চালু রাখা হয়েছে। এবছর ওই বিদ্যালয় থেকে ২১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
আরও পড়ুনগতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে শিক্ষা উপকরণ নিয়ে হাজির হয় কুড়িগ্রাম জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাদাকাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ফজলুল হক, ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম, অধ্যাপক নাজমুন নাহার বিউটি, সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু, শাহানাজ সুলতানা, সাদিয়া ইসলাম বর্ণসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বিদায় নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানায়, খাদ্য সংকটের পাশাপাশি প্রতিদিন নৌকা ও পায়ে হেঁটে স্কুলে যেতে হয়। বর্ষাকালে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। তবুও তারা শিক্ষকদের আন্তরিকতায় পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে কুড়িগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার ৪৬৯টি চরের মধ্যে ২৬৯টিতে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ মানুষ বসবাস করছে, যাদের জীবনমান এখনো অনুন্নত। তিনি বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের উন্নয়নে আলাদা ‘চর বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠন এবং নদীশাসনের মাধ্যমে এই এলাকাকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে হবে। নইলে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি সম্ভব নয়।
মন্তব্য করুন







