দাম না থাকায় দু:শ্চিন্তায় বগুড়ার সারিয়াকান্দির পিঁয়াজ চাষি
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি: আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছরও বগুড়া সারিয়াকান্দিতে পিঁয়াজের ভালো ফলন হয়েছে। বিঘাপ্রতি কৃষকেরা ৪০ থেকে ৪৫ মণ করে পিঁয়াজ পাচ্ছেন। বাজারে প্রতিমণ পিঁয়াজ ১ হাজার টাকা করে বিক্রি করে তারা লাভ করতে পারছেন না। বাজারে দাম কম থাকায় অনেক কৃষক জমি থেকে এখনো পরিপক্ক পিঁয়াজ উত্তোলন করছেন না। পিঁয়াজের দাম বাড়ানোর জন্য সরকারি পদক্ষেপ কামনা করেছেন কৃষকরা।
বগুড়া সারিয়াকান্দির পৌর এলাকার ধাপ গ্রামের বাসিন্দা তাহের প্রামানিকের ছেলে ফারুক মিয়া (২৬) গত নব্বইয়ের দশকে যমুনা নদী ভাঙ্গনের শিকার হন। গত কয়েক বছর যমুনা নদীতে পলি পরে আবারো সেই ভেঙে যাওয়া বসতভিটা জেগে উঠেছে। জেগে ওঠা ১১ বিঘা জমিতে তিনি এ বছর পিঁয়াজের আবাদ করেছেন। আবহাওয়া ভালো থাকায় জমিতে এ ফসলের মোটামুটি ভালো ফলন হয়েছে।
১১ বিঘা জমিতে সার, পানি, কীটনাশক, বীজ এবং শ্রমিক খরচ বাবদ তার ৩ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। ১১ বিঘা জমির পিঁয়াজ তিনি গত সোমবার উত্তোলন করেছেন। এতে তার বিঘাপ্রতি ফলন হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ মণ। কিছুটা শুকিয়ে তিনি তার বেশকিছু পিঁয়াজ বাজারে মাত্র ৯০০ টাকা থেকে শুরু করে ১১০০ টাকা মণ পর্যন্ত বিক্রি করেছেন।
এতে তার বিঘাপ্রতি পিঁয়াজ চাষে তেমন কোনও লাভ হচ্ছে না। উপজেলার চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নের কৃষক দুলাল কাজী জানান, প্রায় ৯ বিঘার বেশি জমিতে তিনি এ বছর পিঁয়াজের আবাদ করেছেন। ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজারে পিঁয়াজের দাম না থাকায় তিনি পিঁয়াজ নিয়ে দু:শ্চিন্তায় রয়েছেন। দাম কমের জন্য তিনি তার জমি থেকে পিঁয়াজ তুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
আরও পড়ুনকৃষক ফারুক মিয়া বলেন, লাভের আশায় যমুনা নদীর উত্তপ্ত বালুচরে পানিসেচ দিয়ে পিঁয়াজের আবাদ করে সফল হয়েছি। ফলন মোটামুটি ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজারে পিঁয়াজের দাম কম থাকায় একেবারেই হতাশ হয়েছি। এতো দামি কীটনাশক ব্যবহার করে এবং চড়ামূল্যের শ্রমিক নিয়ে পিঁয়াজ চাষ করে লাভের মুখ দেখতে পারছি না। সরকারের কাছে অনুরোধ পিঁয়াজের সর্বনিম্ন মূল্য মণপ্রতি যেনো ১৫০০ টাকা করা হয়। এতে আমাদের কিছুটা লাভ থাকবে।
সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় এ বছর পিঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৬০০ হেক্টর। অর্জন হয়েছে ১ হাজার ৪১০ হেক্টর। এ পর্যন্ত ১৪২০ হেক্টর জমির পিঁয়াজ উত্তোলন করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মোটামুটি ভালো ফলন হয়েছে। বিঘাপ্রতি গড় ফলন হয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ মণ।
সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, নদী বেষ্টিত বগুড়া সারিয়াকান্দির বেলে দোআঁশ মাটি পিঁয়াজ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। ফলনও ভালো হয়েছে। বাজারে কৃষকরা বর্তমানে পিঁয়াজের দাম কম পাচ্ছেন। এতে তাদের হতাশ হওয়ার কোনও কারণ নেই। এক্ষেত্রে কৃষকদের বাড়ির আড়ায় পিঁয়াজ সংরক্ষণ করে রাখার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এছাড়া পিঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য উপজেলার বেশকিছু কৃষকের মাঝে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদিও বিতরণ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন








