গোপালগঞ্জে হামের উপসর্গ নিয়ে ১০ মাসের শিশুর মৃত্যু, এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে ১০ মাসের শিশুর মৃত্যুর পর এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় জেলার স্বাস্থ্য বিভাগেও তৎপরতা শুরু হয়েছে, শিশুটির চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি ও উপসর্গ বিশ্লেষণ করে কেসস্টাডি প্রস্তুত করা হচ্ছে।
জানা গেছে, টেংরাখোলা ইউনিয়নের হোগলাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা তুহিন শেখের শিশুকন্যা গত ২৭ মার্চ ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
শিশুটির মা নাজমা বেগম জানান, ১৯ মার্চ হঠাৎ করে তার মেয়ের জ্বর দেখা দেয়। পরদিন জ্বরের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিলেও জ্বর ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় এবং শরীরে হামের মতো ফুসকুড়ি দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে ২৬ মার্চ সকালে আবারও তাকে উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান চিকিৎসকরা শিশুটির অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে অক্সিজেন সাপোর্ট দেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখান থেকে ঢাকায় পাঠানো হলে একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৭ মার্চ দুপুরে শিশুটির মৃত্যু হয়।
শিশুটির বাবা তুহিন শেখ বলেন, সন্তানকে বাঁচাতে মুকসুদপুর থেকে ফরিদপুর, পরে ঢাকায় নিয়ে গেছি। কিন্তু কোনো চিকিৎসাই তাকে বাঁচাতে পারল না।
আরও পড়ুনএদিকে শিশুটির মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য সংক্রমণ ঠেকাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শিশুটিকে জন্মের পর নিয়ম অনুযায়ী টিকা দেওয়া হয়েছিল। তবে ২৫ মার্চ হামের টিকা দেওয়ার দিন সে অসুস্থ থাকায় টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রায়হান ইসলাম শোভন বলেন, শিশুটিকে জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে কেসস্টাডি করা হচ্ছে। গত তিন বছরে এ এলাকায় হামের কোনো নিশ্চিত রোগী পাওয়া যায়নি। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক
_medium_1774865058.jpg)






_medium_1774794160.jpg)
