ভিডিও বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২

প্রকাশ : ২৬ মার্চ, ২০২৬, ০৭:৩৪ বিকাল

হিলি স্থলবন্দরে ২০৩ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি

হিলি স্থলবন্দরে ২০৩ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি

হাকিমপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের হাকিমপুর হিলি স্থলবন্দরে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২০৩ কোটি ২ লাখ টাকায়। বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানিতে বেশকিছু জটিলতার কারণেই এমন ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে দাবি আমদানিকারকদের। যদিও এ স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বাড়াতে সবধরণের পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৫৬ কোটি ২১ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আহরণ করা হয়েছে ৩৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

এছাড়া আগস্টে ৫৬ কোটি ২১ লাখ টাকার বিপরীতে ৪৪ কোটি ৮৮ লাখ, সেপ্টেম্বরে ৭২ কোটি ৮ লাখ টাকারবিপরীতে ৪৫ কোটি ৪৮ লাখ, অক্টোবরে ৯১ কোটি ৭১ লাখ টাকার বিপরীতে ৫৬ কোটি ৫৯ লাখ, নভেম্বর ৫৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকার বিপরীতে ৪২ কোটি ৯৯ লাখ এবং ডিসেম্বরে ৭৮ কোটি ২৫ লাখ টাকার বিপরীতে আহরণ হয়েছে ৪৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

চলতি অর্থবছরের সপ্তম মাস জানুয়ারিতে ৭১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ করা হয় ৪৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা। আর ফেব্রুয়ারিতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা এর বিপরীতে আহরণ হয়েছে ৫৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এ হিসেবে চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে হিলি স্থলবন্দর থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৭৬ কোটি ৩ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আহরণ হয়েছে ৩৭৩ কোটি ১ লাখ টাকা। এতে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২০৩ কোটি ২ লাখ টাকা।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা জানান, বর্তমানে অনেক আমদানিকারক ৩000হিলি স্থলবন্দর ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হয়ে অন্য বন্দরে চলে যাচ্ছেন। এর পেছনে বড় কারণ কাস্টমসের ছাড়পত্র। অন্য বন্দর দিয়ে আমদানি করলে ডে বাই ডে পণ্য ছাড় হয়ে যায়। কিন্তু হিলি স্থলবন্দরে কমার্শিয়াল বা অন্য যেকোনো পণ্য আসার পর ইনভেস্টিগেশন করে সেটা ছাড় করতে প্রায় ৭-১০ দিন, কখনো ১৫ দিন লেগে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন

ব্যবসায়িক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে যেকোনো আমদানিকৃত পণ্য দ্রুত ছাড়ের ব্যবস্থা করতে হবে জানান তিনি। হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এসেসিয়েশনের সভাপতি ফেরদৌস রহমান জানান, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানিকৃত প্রধান পণ্য জিরা, যা থেকে বেশিরভাগ রাজস্ব আসত। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে এ বন্দর দিয়ে জিরার আমদানি ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এটা বর্তমানে সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে বেশি আমদানি হচ্ছে।

এক গাড়ি জিরা আমদানির মধ্যদিয়ে রাজস্ব আসত ৫০ লাখ টাকা। যা কমে যাওয়ায় হিলি স্থলবন্দরের রাজস্ব আহরণ হ্রাস পেয়েছে বলে জানান সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা। তারা জানান, এখানে সমস্যা আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য নয়, বরং সমস্যাটা হচ্ছে সোনামসজিদ স্থলবন্দর বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে, যেটা পাওয়ারই কথা না। দেড় থেকে তিন টন পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে ওই বন্দরে। মূলত একেক বন্দর তাদের নিজস্ব নিয়মে চলছে।

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের উপ-কমিশনার সন্তোষ সরেন জানান, কাস্টমসের ক্ষেত্রে কোনো লক্ষ্যমাত্রা নেই, এলসি হলে আমদানি বাড়বে। এলসি বৃদ্ধির জন্য আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টসহ অন্য স্টেকহোল্ডারদের সাথে মতবিনিময় এবং যোগাযোগ করা হয়েছে। কাস্টমসের কাজ বাণিজ্য সহজিকরণ বা আমদানি-রপ্তানিকৃত পণ্যের চালান দ্রুত পরীক্ষণ ও শুল্কায়ন করা। এজন্য সব ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হিলি স্থলবন্দরে ২০৩ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি

স্মৃতিসৌধে জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান, তিন সন্তানসহ নারী আটক

বাগেরহাটে ঘরে ঢুকে যুবককে গুলি করে খুন

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

নতুন কবরস্থান নির্মাণের উদ্যোগ ঢাকা দক্ষিণ সিটি

বগুড়ায় ২ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার