ভিডিও শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৭ চৈত্র ১৪৩২

প্রকাশ : ২১ মার্চ, ২০২৬, ০৯:৫১ রাত

দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে সরব জাতীয় চিড়িয়াখানা

দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে সরব জাতীয় চিড়িয়াখানা

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে লম্বা ছুটিতে রয়েছে কর্মজীবীরা। এর মধ্যে রাজধানী ছেড়ে অনেকেই গিয়েছেন গ্রামের বাড়িতে। স্থায়ী বাসিন্দা ছাড়াও রাজধানীতে যারা রয়ে গেছেন তারা আজ শনিবার (২১ মার্চ) ঘুরে বেড়াচ্ছেন রাজধানীর বিভিন্ন খোলা জায়গা ও বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে। আর বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্র হচ্ছে রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় চিড়িয়াখানা।

আজ শনিবার (২১ মার্চ) জাতীয় চিড়িয়াখানা দর্শনার্থীতে মুখর ছিল। ঈদের ছুটিতে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত ও আশপাশ থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে ঘুরতে এসেছেন বেশির ভাগ মানুষ। দর্শনার্থীদের মধ্যে শিশুদের আধিক্য থাকলেও বড় মানুষের সংখ্যাও কম নয়। যদিও কর্তৃপক্ষের মতে, তাদের প্রত্যাশার থেকে কম হয়েছে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি।

ঈদের দিন সকাল থেকেই চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের সংখ্যা। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে নানা বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে চিড়িয়াখানার প্রতিটি প্রাঙ্গণ ছিল সরগরম। প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে বিভিন্ন পশু-পাখির খাঁচার সামনে ছিল দর্শনার্থীদের সরব উপস্থিতি।

বেশিরভাগ দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বাঘ, সিংহ, ভাল্লুক, জিরাফ, জেব্রা, ভোঁদড়, বানর, উল্লুকসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী। এছাড়াও ময়ূরসহ বিভিন্ন পাখির খাঁচার সামনেও ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। আর শিশু-কিশোরদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। 

হিফজ মাদরাসার শিক্ষার্থী দুই বন্ধু মো. রাইয়ান হোসেন ও ইব্রাহীম খান বনশ্রী থেকে এসেছে ঘুরতে। তাদের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, আমরা ঈদের নামাজ পড়েই এখানে চলে আসছি। সকাল থেকেই ঘুরছি। বাঘ, সিংহ, ইম্পালা, লামা, ভাল্লুক, উল্লুকসহ অনেক কিছু দেখেছি। এর মধ্যে আমাদের সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে ভাল্লুক আর উল্লুক। কারণ, ভাল্লুক মনে হয় যেন নাচে, আর উল্লুক চিল্লাচিল্লি করে।

চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র তানভীর রহমান এসেছেন বাবা-মায়ের সঙ্গে। তারা থাকেন জিগাতলা। তানভীর বলেন, আমি বাঘ, সিংহ, হাতি, সাপ, ভাল্লুকসহ অনেক কিছু দেখেছি। তবে, সবচেয়ে পছন্দ সাপ।

উত্তরা থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে এসেছেন সোহেল আহমদ।  তিনি বলেন, “ঢাকায় বাচ্চাদের ঘুরার জায়গা অনেক কম। এখানে আসলে ভালো লাগে কারণ হাঁটা যায়, বসে গল্পও করা যায়। আবার বাচ্চারাও এখানে এনজয় করে। তাই বন্ধ পেলে চিড়িয়াখানায় আসা হয়। বাচ্চারা বিভিন্ন প্রাণী দেখে আনন্দ পায়, একটু দৌড়াদৌড়ি করতে পারে। তবে, আরেকটু পরিচ্ছন্ন করলে আরও ভালো লাগতো।

আরও পড়ুন

ফয়সাল আহমেদ নামে আরেক দর্শনার্থী এসেছেন মিরপুর ১৪ নাম্বার থেকে। তিনি বলেন, আমি প্রায় তিন থেকে চার বছর পরে আসলাম। কোনও পরিবর্তন দেখলাম না। আমার কাছে মনে হয়েছে পশু-পাখিদের অবস্থা ভালো নেই। সব শুধু শুয়ে থাকে ঘুমিয়ে থাকে। চঞ্চল ভাবটা নেই। এদের যত্ন নেওয়া উচিত।

প্রত্যাশার কম দর্শনার্থী এসেছে বলছে কর্তৃপক্ষ 

ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থীদের জন্য ভালোভাবেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিলো বলে জানিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। তবে, তারা যেমন উপস্থিতি আশা করেছিলো সে তুলনায় কম দর্শনার্থী এসেছে বলে জানায়। চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. রফিকুল ইসলাম তালুকদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য আমরা একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছি। পুলিশ, র‍্যাব ও টুরিস্ট পুলিশ নিরাপত্তায় কাজ করছে। পাশাপাশি আমাদের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী, আনসার বাহিনী এবং অন্যান্য কর্মচারীরাও সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।

প্রত্যাশার তুলনায় কম দর্শনার্থী এসেছে জানিয়ে রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা আসলে ধারণা করেছিলাম, দর্শনার্থীর সংখ্যা এক লাখ বা তার কাছাকাছি হবে। কিন্তু, বাস্তবে আজ দর্শনার্থীর সংখ্যা হয়েছে ৭৫ হাজার থেকে ৮০ হাজার।  আমাদের প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা কম দর্শনার্থী এসেছে। এর একটি কারণ হতে পারে, মানুষ দীর্ঘ ঈদের ছুটি পেয়েছে এবং নগরবাসীর অনেকেই ঈদ উদযাপনের জন্য গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে সরব জাতীয় চিড়িয়াখানা

দক্ষিণ কোরিয়ার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৪, আহত ৬০

সিরাজগঞ্জে বোনাসের কথা বলে যুবককে গলা কেটে হত্যা

তবু আমাদের ধূসর জীবনে ঈদ আসে :জাকিয়া বারী মম

কুষ্টিয়ায় ঈদের নামাজের স্থান ঠিক করা নিয়ে সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ১৩

ঝিনাইদহে সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্রের মৃত্যু