ভিডিও শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রকাশ : ১৬ মার্চ, ২০২৬, ০৭:৪৪ বিকাল

বগুড়ায় আলুর বাম্পার ফলন দাম না থাকায় জমিতেই চাষ দিয়ে নষ্ট করছেন

বগুড়ায় আলুর বাম্পার ফলন দাম না থাকায় জমিতেই চাষ দিয়ে নষ্ট করছেন

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের অন্যতম আলু উৎপাদনকারী জেলা বগুড়ায় এবার বাম্পার ফলন হলেও বিক্রি করে চাষের খরচ না উঠায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বাজারদর অস্বাভাবিকভাবে কম থাকায় অনেক কৃষক আলু তুলছেন না। কেউ কেউ আবার জমিতে ট্রাক্টর চালিয়ে আলু মাটির নিচেই নষ্ট করে দিচ্ছেন।

কৃষকদের দাবি, বর্তমান বাজার দরে আলু বিক্রি করলে উৎপাদন খরচ তো উঠছেই না, উল্টো লোকসান গুণতে হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়েই অনেকেই আলু মাঠেই ফেলে রাখছেন বা জমিতেই চাষ দিয়ে দিচ্ছেন। বগুড়া সদর, শিবগঞ্জ, শাজাহানপুর ও গাবতলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক জমিতে আলু তুলে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। কিন্তু ক্রেতা না থাকায় সেগুলো ধীরে ধীরে পচে যাচ্ছে।

বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরেই আলু চাষ করে কৃষককে লোকসান গুণতে হয়েছে। এ কারণে তারা আলু চাষ কমে দিচ্ছেন। কিন্তু প্রতি বছরই ফলনের হার বাড়ছে। চলতি মৌসুমে বগুড়া জেলায় ৫৪ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৬ হাজার হেক্টর কম।

এবার জেলায় আলু উৎপাদন হয়েছে সাড়ে ১২ লাখ মেট্রিকটন। তবে উৎপাদনের হার গত বছরের তুলনায় বেশি। গত বছর হেক্টর প্রতি ২২ দশমিক ১৫ মেট্রিকটন উৎপাদন হলেও এবার উৎপাদন হয়েছে হেক্টর প্রতি ২৩ মেট্রিকটন।

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়নের শোলাগাড়ি গ্রামের আলুচাষি ওয়াজ আলী (৬৫) বলেন, এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন বাজারে পাইকারি দাম ৭-৮ টাকা কেজি। এর মধ্যে বৃষ্টিতে জমিতেই অনেক আলু নষ্ট হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন

একই উপজেলার পিরব ইউনিয়নের সিহালী গ্রামের কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, বাজারে আলু বিক্রি করে পরিবহন ও শ্রমিকের মজুরিও উঠবে না। তাই অনেকেই আলু না তুলে জমিতেই ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করে নষ্ট করে দিচ্ছেন।

শাজাহানপুরের দুবলাগাড়ি গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, আলু তুলতে শ্রমিক, বস্তা, পরিবহন সব মিলিয়ে আরও খরচ হয়। বাজারে দাম না থাকায় আলু তোলাই এখন লোকসান। বগুড়া সদর উপজেলার ঘোলাগাড়ি গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, বৃষ্টিতে অনেক এলাকায় জমিতেই কৃষকের আলু নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার দর কিছুটা বাড়লেও লোকসান গুণতে হবে।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে জাতভেদে আলু বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৬০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা মণ। বগুড়ার কয়েকটি হিমাগার ঘুরে জানা গেছে, অনেক কৃষক আলু সংরক্ষণ করতে চান। কিন্তু সংরক্ষণ ভাড়া, পরিবহন খরচ এবং ভবিষ্যতের বাজারদর নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে তারা রাখতে পারেন না। ফলে হিমাগারগুলোতে কৃষকের চাইতে ব্যবসায়ীদের আলু বেশি সংরক্ষণ হয়ে থাকে।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক সোহেল মোহাম্মদ সামছুদ্দিন ফিরোজ বলেন, বগুড়ায় জনসংখ্যা অনুযায়ী সারা বছরে আলুর চাহিদা রয়েছে প্রায় তিন লাখ মেট্রিকটন। আর জেলার ৩৭টি হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ধারন ক্ষমতা রয়েছে ৪ লাখ মেট্রিকটন। এর বাহিরে বিপুল সংখ্যক আলু সংরক্ষণের অভাবে কৃষক কম দামে বাহিরের জেলাতে বিক্রি করে দেন। তবে আগামী দুই সপ্তাহ পর আলুর বাজার আরো বাড়বে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাজধানীতে ব্লক রেইডে গ্রেপ্তার ৭

৩২ অধিনায়ক পেলেন ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড

জ্বালানি সংকটে বন্ধ খুলনার ৬ বিদ্যুৎকেন্দ্র, বেড়েছে লোডশেডিং

ইরানের সঙ্গে চুক্তির খুবই কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

৬০ কিমি বেগে দেশের ৮ অঞ্চলে ঝড়ের শঙ্কা

ফুটবল ক্লাব কিনলেন মেসি