ইরানের হামলায় বিস্মিত ট্রাম্প!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরান উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে হামলা চালানোয় বিস্মিত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র থাকা এসব দেশকে যে ইরান আঘাত করবে, এটা তিনি প্রত্যাশা করেননি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতের ফলে উপসাগরীয় দেশগুলো এমন এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছে, যা তারা শুরু করেনি এবং কূটনৈতিকভাবে এড়ানোর চেষ্টা করেছিল।
এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোতে ইরান হামলা চালানোয় তিনি ‘বিস্মিত’ হয়েছেন। তিনি এসব দেশকে ‘দারুণ দেশ’ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, ‘তাদের ওপর অপ্রয়োজনীয়ভাবে হামলা করা হয়েছে।’ ইরান কেন এসব দেশকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে—এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘পুরো ঘটনার মধ্যে এটিই ছিল আমার সবচেয়ে বড় বিস্ময়।’
মূলত দশকের পর দশক ধরে বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও ওমান তাদের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি, অবকাঠামো বা প্রবেশাধিকার দিয়েছে। এই দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তিরও বড় ক্রেতা। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে উপসাগরীয় অঞ্চলের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অংশীদার এবং নিরাপত্তা সহযোগী হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংঘাতের ফলে এসব দেশের মধ্যে এখন সম্পর্ক নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিচ্ছে। কারণ তারা এমন এক যুদ্ধে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ছে, যা তারা শুরু করেনি এবং যেটি প্রতিরোধে তারা কূটনৈতিক চেষ্টাও করেছিল।
আরও পড়ুনএদিকে উপসাগরীয় দেশগুলো আগে থেকেই ধারণা করেছিল যে এই সংঘাতের জেরে তারা কিছুটা প্রভাবিত হতে পারে। তবে ইরানের পাল্টা হামলার ব্যাপকতা অনেককেই বিস্মিত করেছে। উপসাগরীয় দেশগুলো তেহরানকে আশ্বস্ত করেছিল যে তাদের ভূখণ্ডে থাকা ঘাঁটিগুলো ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করা হবে না। তবু ইরান এসব দেশকে লক্ষ্য করে হাজার হাজার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। আর এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বিমানবন্দর, সামরিক ঘাঁটি, তেল শোধনাগার, বন্দর, হোটেল এবং অফিস ভবন। খবর : দ্য গার্ডিয়ান।
মন্তব্য করুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক







