সাউন্ড বক্সে ৭ই মার্চের ভাষণ বাজানোয় গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের সাথে হামলায় জড়িত
ঢাবি প্রতিনিধি: সাউন্ড বক্সে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ওই শিক্ষার্থীর নাম আসিফ আহমেদ সৈকত।যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই ক্যাম্পাসজুড়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে জানা যায়, সৈকত পূর্বে শহিদুল্লাহ হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। এদিকে অভিযোগ উঠেছে, গত ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায়ও তিনি জড়িত ছিলেন। ওইদিন ছাত্রলীগের কর্মীদের সঙ্গে এক হয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানোর একটি ভিডিও ফুটেজ সাংবাদিকদের হাতে এসেছে।ভিডিওতে তাকে সরাসরি হামলায় অংশ নিতে দেখা যায়।
শহিদুল্লাহ হলের এক শিক্ষার্থী মো. সজিব হোসাইন বলেন, “১৫ জুলাই ২০২৪ সালে আসিফকে লাঠি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালাতে দেখা যায়।”
তিনি আরও দাবি করেন, “আজ সারাদিন সে ছাত্রলীগের হয়ে চাঁখারপুল এলাকায় বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজিয়েছে। এভাবেই নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।”
আরও পড়ুনঅন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর সাহিত্য সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ গণমাধ্যমের কিছু প্রতিবেদনের সমালোচনা করে বলেন, “শাহবাগ থানা পুলিশ একজন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে, যিনি জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অথচ কিছু গণমাধ্যম এটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করছে যেন ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে একজন শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে’।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “কিছু মহল মুক্তিযুদ্ধের আবেগকে সামনে এনে বিতর্কিত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। এমনকি কয়েকজন শাহবাগ থানায় গিয়ে হট্টগোলও করেছে।”
এ বিষয়ে শাহবাগ থানা পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে ঘটনাটি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন

নিউজ ডেস্ক








