ভিডিও শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

প্রকাশ : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৫:৩৩ বিকাল

ভূমিকম্প কেন হয়? রাসুল (সা.)-এর সতর্কবাণী ও সমাধান

ভূমিকম্প কেন হয়? রাসুল (সা.)-এর সতর্কবাণী ও সমাধান

নবীজি (সা.)-এর ভাষ্যমতে, মানুষের পাপের কারণে পৃথিবীতে ভূমিকম্প বাড়বে। হাদিসে এসেছে, ‘এ উম্মত ভূমিকম্প, বিকৃতি এবং পাথরবর্ষণের মুখোমুখি হবে। এক সাহাবি জিজ্ঞাসা করলেন, সেটা কখন হবে হে আল্লাহ রাসুল? তিনি বলেন, যখন গায়িকা এবং বাদ্যযন্ত্রের প্রকাশ ঘটবে এবং মদপানে সয়লাব হবে।’ (সহিহ তিরমিজি, হাদিস : ২২১২)

ভূমিকম্প কারো কারো জন্য আজাব। যেমন শোয়াইব (আ.)-এর জাতি যখন তাকে অস্বীকার করল এবং তাকে ও তার অনুসারীদের বিতাড়িত করার ষড়যন্ত্র করল, তখন মহান আল্লাহ ভূমিকম্প দিয়ে তাদের এমনভাবে নিশ্চিহ্ন করলেন, যেন তারা সে জনপদই কোনো দিন বসবাসই করেনি। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘অতঃপর ভূমিকম্প তাদের পাকড়াও করল। তারপর তারা তাদের গৃহে উপুড় হয়ে মরে রইল। যেন শোয়াইবকে অস্বীকারকারীরা সেখানে কোনো দিন বসবাস করেনি। যারা শোয়াইবকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেল।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ৯১-৯২)

তবে মুমিনের জন্য এ ধরনের দুর্যোগ শাস্তি নয়, কোনো মুমিন এ ধরনের দুর্যোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে নবীজি (সা.) তাকে শহীদ বলেছেন। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি পথ দিয়ে যাচ্ছিল, রাস্তায় কাঁটাযুক্ত (বৃক্ষের) শাখা দেখতে পেয়ে সে তা তুলে ফেলল। আল্লাহ তাআলা তার এই কাজটি গ্রহণ করলেন এবং তার গুনাহ মাফ করে দিলেন।

রাসুল (সা.) আরো বলেছেন, শহীদ পাঁচ প্রকার (১) প্লেগাক্রান্ত (বা মহামারিতে মৃত), (২) পেটের পীড়ায় মৃত (৩) যে পানিতে ডুবে মারা গেছে, (৪) ভূমিকম্পে কিছু চাপা পড়ে যার মৃত্যু হয়েছে এবং (৫) আল্লাহর পথে যে ব্যক্তি শহীদ হয়েছেন।’ (মুয়াত্তা মালেক, হাদিস : ২৮৫)
মুমিনের ওপর আগত বড় বড় বিপর্যয়ের কারণে অনেক সময় মুমিনের গুনাহ মাফ হয়ে যায়। আবু মুসা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমার এ উম্মত দয়াপ্রাপ্ত, পরকালে এদের কোনো শাস্তি হবে না। আর ইহকালে তাদের শাস্তি হলো- ফিতনাসমূহ, ভূমিকম্প ও যুদ্ধবিগ্রহ।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪২৭৮)

আরও পড়ুন

যেসব মুমিন এ ধরনের বিপর্যয়ে বেঁচে যায় ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এগুলো তাদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ। এ সময় ধৈর্য ধারণ করলে মহান আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দেবেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৫৫)

অতএব, কেউ কোনো দুর্যোগের শিকার হলে বা মারা গেলে তাদের ব্যাপকভাবে দোষারোপ করা যাবে না; বরং নিজেরাও আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে। এবং সাধ্যমতো তাদের সহযোগিতা করতে হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভূমিকম্প কেন হয়? রাসুল (সা.)-এর সতর্কবাণী ও সমাধান

ইবনে সিনা ট্রাস্টে অফিসার পদে চাকরির সুযোগ

বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী আবিদুর রহমান 

৫০ কর্মী নেবে ওয়ালটন, এসএসসি পাসেই আবেদন

হত্যা মামলায় শেখ হাসিনা-কাদের-কামালসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী