গণতন্ত্রের নতুন ভোরে তারুণ্যের জয়গান
বগুড়ার কেন্দ্রগুলোতে নতুন ভোটারদের উচ্ছ্বাস ভরা উপস্থিতি
স্টাফ রিপোর্টার: এবারই প্রথম ভোরের আলো ফোটার পর থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে প্রথমবার ভোট দিতে আসা তরুণ প্রজন্মের উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা। টেকনাফ থেকে বগুড়া, তেতুলিয়া সবখানেই দেখা গেছে একই চিত্র।
ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসার পর তরুণ-তরুণীরা তাদের আঙুলের কালির দাগ উঁচিয়ে ধরে আনন্দ প্রকাশ করছেন। অনেকে এই মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে কেন্দ্রের সামনেই সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করছেন। জেন-জি প্রজন্মের ভোটারদের কাছে এটি কেবল একটি ভোট নয়, বরং দেশের ভবিষ্যতে নিজের অংশীদারিত্বের এক বড় স্বীকৃতি।
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর এই প্রথম কোনো সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিতে পেরে তরুণ ভোটারদের মধ্যে দেখা গেছে ভিন্ন এক প্রত্যয় ও উচ্ছ্বাস। তারা কেবল প্রার্থী নির্বাচন করছেন না, বরং একটি দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন দেখছেন তরুণদের মতে, দীর্ঘ সময় পর একটি অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারাটাই তাদের বড় সার্থকতা।
বিশেষ করে এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় নতুন ভোটারদের মধ্যে বাড়তি কৌতুহল ও গুরুত্ব দেখা গেছে। বগুড়া সেন্ট্রাল হাইস্কুল মাঠে জীবনের প্রথম ভোট দিতে এসেছে শহরের সূত্রাপুরের সিমরান রুম্পা ও তাহরিমা ইসলাম।
তারা জানান, এবারই প্রথম ভোটার হয়েছি। একসাথে দুইটা ভোট। খুব এক্সসাইটেড ছিলাম। নিজের প্রথম ভোটটা নিজের পছন্দমত প্রার্থীকে দিতে পারবো। এর সাথে সাথে সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে গণভোটে নিজের মতামত দিতে পারবো।
তাই সকাল সকাল জীবনের প্রথম ভোট দিয়েছি। খুবই ভালো লাগছে। ফলাফল যাইহোক না কেন ভাববো এর মধ্যে আবামরও মতামতের অংশগ্রহণ আছে। তাদের মতই বগুড়া তাপসি রাবেয়া বালিকা বিদ্যালয়ে প্রথম ভোটার হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত বিশেষ শিশু শ্রুতি। সে তার মার সাহায্য ছাড়াই কেন্দ্রে প্রবেশ করে আঙ্গুলে অমোচনীয় কালি লাগিয়ে টিপসই করে। এরপর নিজেই গোপন কক্ষে গিয়ে ভোট দেয়। বের হয়ে সে খুব খুশি হয়ে ভিক্টরি চিহ্ন দেখায়।
আরও পড়ুনবগুড়ার করতোয়া মাল্টিমিডিয়া স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে অনেক নতুন ভোটারের মধ্যে জহুরুল নগরের আশা, কামারগাড়ি এলাকার আলিফা একই এলাকার সুমাইয়া জানান,তারা উচ্ছ্বাসিত, আনন্দিত এবং উৎফুল্লা। তাদের কাছে ভোটের পরিবেশটাও অনুকূলে মনে হয়েছে।
তাদের মতই কাহালুর উলট্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন এই প্রজন্মের আকলিমা খাতুন, হাবীবা মেরি তারাও খুশি। তরুন প্রজন্মের বেশিরভাগ ভোটার পরিবর্তনের পক্ষে হ্যাঁ তে তাদের রায় দিয়েছেন।
বিয়াম র্যাবরেটরি স্কুলের শিক্ষিকা তানজিনাইয়াসমিন জানানএর আগে এত উৎসব মুখথর পরিবেশ তিনি আগে দেখেন নি। সাধারণ জনগণের চাওয়া বেশি কিছু নয়। মৌীলক অধিকার গুলোপূরণ করতে পারলেই তারা রাষ্ট্রের কাছে সন্তুষ্ট।
নির্বাচন কমিশনের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশের কারণে নারী ও তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই তরুণরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন দেশের প্রায় ১ কোটি ৫৪ লাখ তরুণ ভোটারের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, তারা দেশের নীতিনির্ধারণে সরাসরি ভূমিকা রাখতে কতটা আগ্রহী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন ভোটারদের এই প্রাণচাঞ্চল্যই আগামি দিনের সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।
মন্তব্য করুন







